Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

কেডি সিংহকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় ছ’ঘন্টা, একটাই প্রশ্ন করেন কেডি সিংহ, “মুকুলদা কী বললেন”

1 min read

।। শর্মিলা মিত্র ।।

জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মঙ্গলবার Enforcement Directorate-এর সদর দফতরে ডাকা হয় তৃণমূলের রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ কে ডি সিং-কে। মঙ্গলবার প্রায় সাড়ে ছঘণ্টা তাকে জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে বুধবার আরও এক দফায় ডাকা হয়। কিন্তু সেখানে রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ প্রয়োজনীয় নথি পেশ করতে পারেননি বলে ইডি সূত্রে খবর। এরপরই তদন্তে সহযোগিতা না করার অভিযোগে কে ডি সিং-কে গ্রেফতার করে ইডি। রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ তথা অ্যালকেমিস্ট গ্রুপের কর্ণধার কে ডি সিং-এর বিরুদ্ধে ২৩৯ কোটি টাকার আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে বলে জানা গিয়েছে। গ্রেফতারের পর তাকে রাউজ অ্যাভিনিউয়ের বিশেষ আদালতে নিয়ে আসেন ইডি-র আধিকারিকরা। আর সেখানেই সাংবাদিকদের কাছে তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদের প্রথম প্রশ্ন ‘কী বললেন ‘মুকুলদা’ ?

‘কৈলাসজি’-র বক্তব্য কী ? গ্রেফতার হওয়ার পরই বিজেপি নেতা যাদের প্রতিক্রিয়া জানতে ইচ্ছুক কে ডি সিং, সেই বিষয়ে বিজেপির সর্বভারতীয় সহ সভাপতি মুকুল রায় জানান, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের আর এক সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কেও গ্রেফতার করা হয়েছিল। সে বিষয়ে কে জবাব দেবেন? ইডি আইন মেনে চলছে।’ বলেও জানান মুকুল রায়। প্রসঙ্গত, ২০১০ সালের জুলাই মাসে ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার টিকিটে প্রথম বার রাজ্যসভার সাংসদ হন কে ডি সিং। এর পরে ২০১৪ থেকে ২০২০ পর্যন্ত তিনি তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ছিলেন। তৃণমূলের অন্দরে কান পাতলেই শোনা যায় যে, তৃণমূল দলের সঙ্গে কে ডি সিং-এর যোগাযোগ মুকুল রায়ের মাধ্যমেই। সেই যুক্তিতে এমনকি এ দিন মুকুল রায়কে গ্রেফতারেরও দাবি তোলেন তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। এই বিষয়ে কুণাল ঘোষ আরও বলেন, ২০১৩ সালেই তিনি কে ডি সিং-এর বিরুদ্ধে মুখ খুলেছিলেন। কিন্তু তৎকালীন তৃণমূল নেতা মুকুল রায় তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভুল বুঝিয়ে দলে নিয়েছিলেন কে ডি সিং-কে।

তাই সেই ঘটনায় মুকুলকেও গ্রেফতার করা উচিত ইডির বলে মন্তব্য করেন তিনি। অন্যদিকে, কে ডি সিং-এর গ্রেফতারের বিষয়ে এবং কে ডি সিং-এর জিজ্ঞাসার কথা শুনে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয় জানান, ‘প্রশ্নটা বরং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে উনি করুন। কারন, মুখ্যমন্ত্রীই তাকে সাংসদ করেছিলেন। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গেই তাকে বিমান, হেলিকপ্টারে দেখা যেত। মুখ্যমন্ত্রী যাকে সাংসদ করেছিলেন, তিনি কী কাজ করেছেন যে, তাকে ইডি গ্রেফতার করছে? জবাব মুখ্যমন্ত্রীকে দিতে হবে।’ বলে মন্তব্য করেন কৈলাস বিজয়বর্গীয়। প্রসঙ্গত, যেকোন নির্বাচন আসলেই কেন্দ্রীয় তদন্তকারীদের সংস্থাগুলির সক্রিয় হওয়া নিয়ে বারবারই অভিযোগ তুলেছে শাসক দল। কিন্তু কে ডি সিং-এর গ্রেফতার হওয়া নিয়ে সেই অভিযোগ তুলছে না শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। কারন, ২০১৬-য় রাজ্যে বিধানসভা ভোটের মুখে নারদ কেলেঙ্কারির ‘স্টিং অপারেশন’-এর পিছনে কে ডি সিং-এর হাত থাকার ‘অভিযোগ’ সামনে আসে।

আরো পড়ুন : অধিকারী বনাম বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বন্দ্বে বিপর্যস্ত তৃণমূল


জানা যায়, নারদ কাণ্ডে তৃণমূল নেতাদের ঘুষের টোপ দিতে কে ডি সিং-ই ৮০ লক্ষ টাকা দিয়েছিলেন সাংবাদিক ম্যাথু স্যামুয়েলকে। কার্যত, তারপরই তার সঙ্গে রাজনৈতিক ও সামাজিক যোগাযোগ, এমনকি কথাবার্তা পর্যন্ত বন্ধ করে দেন তৃণমূল নেতারা। তার পর থেকেই তার সঙ্গে প্রায় বন্ধ হয়ে যায় তৃণমূলের যোগাযোগ। তবে অন্যদিকে এই বিষয়ে বিজেপির বক্তব্য, এখন তৃণমূলের সঙ্গে সম্পর্ক না থাকলেও যখন কে ডি সিং-এর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল, তখন তার সঙ্গে ঘাসফুল শিবিরের তো দহরম-মহরম ছিল। পাশাপাশি এই বিষয়ে শুভেন্দু অধিকারীর মন্তব্য, ‘কান টানলে তো মাথা আসবে।’ তার মন্তব্য, ‘কে ডি সিং-কে দিয়েই তো নারদ করিয়েছিলেন। এবং কার কার বিয়েবাড়ি দিল্লিতে sponsor করেছিল কে ডি সিং সেটাও সবাই জানেন’ বলে মন্তব্য করেন শুভেন্দু অধিকারী।

তিনি বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ৭০ লক্ষ পরিবার প্রতারিত হয়েছে অ্যালকেমিস্টের দ্বারা। তৃণমূল কংগ্রেস নেতা ও প্রাক্তন রাজ্যসভার সাংসদের হাতে সর্বস্ব খুইয়েছেন বহু প্রান্তিক ও গরিব মানুষ।’ ‘শুধু গ্রেফতারি নয়, কেডি সিং-এর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে এদের টাকা ফেরতেরও ব্যবস্থা করা হোক।’ বলে দাবি জানান তিনি। তবে, তৃণমূল-বিজেপির এই তরজায় একেবারেই পাত্তা দিতে রাজি নয় বাম এবং কংগ্রেস। দুই শিবিরেরই বক্তব্য, পুরোটাই তৃণমূল এবং বিজেপির মধ্যে ‘গট-আপ’। অন্যদিকে, আরও জানা যায় যে, ২০১৬ সালে কে ডি সিং-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি পাঠিয়েছিলেন সিপিএম নেতা মহম্মদ সেলিম। তাই গ্রেফতারির বিষয়ে তার প্রতিক্রিয়াও এ দিন সাংবাদিকদের কাছে জানতে চান কে ডি সিং বলে জানা গিয়েছে।