শত বিপর্যয় পেরিয়ে খুলছে কাজিরাঙার দরজা

1 min read

।। স্বর্ণালী তালুকদার ।। কলকাতা ।। 

মার্চ মাসে করোনা অতিমারী, জুলাই মাসে ভয়াবহ বন্যা – সব মিলিয়ে আসামের উপর দিয়ে কম বিপর্যয় যায়নি। ভারতের অন্যান্য রাজ্যের মত এই রাজ্যের উপর দিয়ে বয়ে গেছে ভয়াবহ বিপদের মেঘ। তবে সব মেঘ কেটে নতুন সকালের সূচনা হয়েছে। আসামের গর্ব, ভারত তথা বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় জাতীয় অভয়ারণ্য কাজিরাঙা খুলতে চলেছে তাদের দরজা আগামী ২১ অক্টোবর। পর্যটকদের জন্য অবশেষে খোলাা হচ্ছে কাজিরাঙা উদ্যান। 

এই অভয়ারণ্যে যে প্রানীকে সংরক্ষণ করা হয়, তা হল একশৃঙ্গী গন্ডার। বিগত বন্যায় যাদের প্রজাতির অনেক প্রানীকেই প্রান হারাতে হয়েছে কিংবা আহত হতে হয়েছে। তবে সমস্ত ক্ষত সাড়িয়ে তারাও তৈরী দর্শকদের স্বাগত জানাতে। একটি বিবৃতিতে কাজিরাঙা অভয়ারণ্যের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে পর্যটকদের করোনার সংক্রমণ আটকাতে সমস্ত বিধিনিষেধ মেনে অভয়ারণ্যে প্রবেশ করতে হবে। 

সাধারণতঃ হাতি এবং জিপের সাফারি করানো হয় পর্যটকদের। তবে যে পরিমান দর্শকদের নিয়ে অভয়ারণ্যে প্রবেশ করতে দেওয়া হত, তার থেকে ৫০ শতাংশ কম পর্যটকদের প্রবেশ করার অনুমতি মিলবে। এছাড়াও নির্দেশ অনুযায়ী সমস্ত পর্যটক, গাইড এবং কর্মীদের মাস্ক, ফেস শিল্ড থাকা বাধ্যতামুলক। এছাড়াও শরীরে স্বাভাবিকের থেকে বেশি তাপমাত্রা থাকলে তাকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না।

এছাড়াও সদ্য নির্মিত টাইগার রিসার্ভ অঞ্চলে থাকছে দর্শকদের জন্য নতুন চমক। বেশ কিছু বছর ধরে অভয়ারণ্যে বাঘের প্রজননের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরী করার চেষ্টা অবশেষে সফল হয়েছে এই বছরের আগষ্ট মাসের শুরুতে। ক্যামেরায় ধরা পড়েছিল দুইটি রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার। তাই দর্শকদের জন্য খুলে দেওয়া হবে টাইগার রিজার্ভ। সাফারির জন্য থাকবে জিপের বন্দোবস্ত। 

২১ তারিখ অভয়ারণ্যে প্রবেশ করার অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল। বেলা ১১ টা থেকে খুলে দেওয়া হবে অভয়ারণ্যের দরজা। সাধারণতঃ অক্টোবর মাসে আংশিকভাবে খোলা হত, তবে দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে বন্ধ থাকায় আগেভাগেই উদ্যান খুলে দেওয়া হচ্ছে।