কাটমানি আর দুর্নীতিতেই কি বীরভূমে শাসক শিবিরের ক্ষয়রোগ বাড়ছে!


।।প্রথম কলকাতা ডেস্ক।।


২০২১ সালে রাজ্য বিধানসভা নির্বাচন। এখন থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছে রাজনৈতিক ততপরতা। রাজ্যের মধ্যে অন্যতম হাইভোল্টেজ জেলা হলো বীরভূম। এই জেলাকে ঘিরে রাজ্যবাসীর আগ্রহ অনেকটাই বেশি। তার কারন, অনুব্রত মন্ডল। বীরভূম তৃণমূলের জেলা সভাপতি। এক কথায় দাপুটে নেতা। বারবার তাঁর নানা মন্তব্য তাকে তুলে এনেছে রাজনীতির মূল স্রোতে।

সামান্য জেলা সভাপতি হয়েও তিনি রাজনৈতিক আঙ্গিনায় নিজেকে প্রমান করে দিয়েছেন বীরভূমের লাল মাটিতে তিনিই শাহেনশাহ। বাঘে গরুকে একঘাটে জল খাওয়াতে পারেন তিনি। এহেন অনুব্রত গড়ে এবার ২০২১ সালের নির্বাচনে কি হতে চলেছে তা জানার আগ্রহ স্বাভাবিকভাবেই রাজ্যবাসীর রয়েছে। এই বীরভূমের মাটিতে অনুব্রতকে টেক্কা দিতে বরাবরই কোমর বেধেছে বিজেপি। কিন্ত নিজের সাবলীল ভঙ্গিতে বিরোধীদের থোড়াই কেয়ার করে কখনও গুড় বাতাসা, কখনও পাচান আবার কখনও নকুলদানার দাওয়াই দিয়ে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, অনুব্রত আছেন অনুব্রতেই।

আরো পড়ুন : তৃণমূল বিধায়ক খুনের চার্জশিটে বিজেপি সাংসদ, তদন্ত মুকুলকে নিয়ে

কিন্ত সময়ের সঙ্গে পালটায় রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট। দাপুটে এই নেতার ঘরেই গোকুলে বেড়ে ওঠার মতো বেড়ে উঠেছে বিজেপি। বিজেপির নেতারা জীবন মৃত্যু পায়ের ভৃত্য করে গলা চড়িয়েছেন অনুব্রত মন্ডলের সমানে সমানে। এমনকি খবরে প্রকাশ সম্প্রতি বীরভুমের মল্লারপুর থানায় অনুব্রত মন্ডলের বিরুদ্ধে বিজেপি অভিযোগ দায়ের করে। ফলে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, অনুব্রতগড়ে গেরুয়া শিবির মাথা তুলে দাঁড়াতে চলেছে।

এর আগে বীরভূমের মাটিতে শাসক শিবির থেকে পদ্মশিবিরে যোগদানের ঘটনাও ঘটেছে। এমনকী তৃণমূলের অন্দরে নিজেদের গোষ্ঠী সংঘর্ষের ঘটনাও সামনে উঠে এসেছে। যা রুখতে কড়া হাতে ব্যাবস্থা গ্রহনের নির্দেশও দেন অনুব্রত মন্ডল। তাহলে প্রশ্ন হলো, তবে কি অনুব্রতগড়ে পায়ের তলার জমি আলগা হচ্ছে তৃণমূলের? দলের রাশের মুঠি কি আলগা হচ্ছে অনুব্রতর?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বীরভূম জেলাতে গত লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলের প্রার্থী শতাব্দী রায় প্রচারে বেরিয়ে বেশ কয়েকটি স্থানে বিক্ষোভের মুখে পড়েছিলেন। এবং সেই বিক্ষোভের নেপথ্যে কারণ উঠে এসেছিলো এলাকার অনুন্নয়ন। তাহলে কি সেই ক্ষোভের পারদ যতো দিন যাচ্ছে ততোই ছড়িতে পড়ছে এই লাল মাটির জেলাতে? মূলত, এই বীরভূমে একদিকে সংগঠন আর অন্যদিকে উন্নয়ন এখানে ভোটের নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা নিয়ে আসছে।

সেখানে দাঁড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নের রাজনীতিতে ভর করে এযাবতকাল বাড়বাড়ন্ত ঘটেছিলো অনুব্রত মন্ডলের। কিন্ত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, কাটমানির ঘটনা সামনে আসার পর এবং নানা দুর্নীতির ঘটনা প্রকাশ পেতেই রাজ্যের অন্যান্য জেলার মতোই বীরভূমেও ক্ষয়রোগ শুরু হয়েছে শাসক দলের। একদিকে অনুব্রতর ডোন্ট কেয়ার রাজনীতি। আর অন্যদিকে বিরোধীদের অভাব অভিযোগের রাজনীতি। এই দুই রাজনীতির মধ্যে দাঁড়িয়ে বীরভূমের মানুষ কোন পক্ষে রায় দেবেন সেই দিকে নজর রাজনৈতিক মহলের।