শ্য়ুটিং এ ফিরলেন জয়া, কেমন ছিল অভিজ্ঞতা?

1 min read

।। স্বর্ণালী তালুকদার ।। কলকাতা ।।

করোনা কালে কার্যত অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ ছিলে সিনেমা পাড়া। অভিনেতা – অভিনেত্রী সহ সকল কর্মীদের ঘরেই থাকতে হয়েছিল নিরাপত্তার স্বার্থে। অভিনেত্রী জয়া এহসানও বাড়িতেই ছিলেন এই সময়টিতে। সোশ্যাল মিডিয়াতে তিনি ক্রমাগত পোস্ট করেছেন নানান রকম ছবি এবং ভিডিও – যেখানে তাঁকে বাড়ির সমস্ত রকম কাজ করতে দেখা গিয়েছে। শুধু বাড়িই নয়, রাস্তায় থাকা অবলা প্রাণীগুলিকেও যত্ন করে খাইয়েছেন তিনি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতেই দ্রুত গতিতে তিনি শুরু করে দিয়েছেন নতুন ছবির কাজ।

ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করে জানিয়েছেন সেই কথাও। কিন্তু শ্যুটিং নিয়ে একটি আশ্চর্যজনক ঘটনী এটাই যে সমগ্র ছবিটি শ্যুটিং করতে সময় লেগেছে ১৫ দিন। নির্দেশক পিপলু এবং খানের সঙ্গে কাজ করেছেন জয়া। ফোনেই আলাপাচারিতা করতে গিয়ে ঠিক করা হয় একটি ছবি তৈরী করতে হবে। অতিমারির মধ্যেও শ্যুট হয়েছে, যার অভিজ্ঞতা অনন্য।

View this post on Instagram

বেশি বলা বারণ। তাই কথা না বাড়িয়ে পাঁচখানা ছবি দিলাম আমার দর্শকদের জন্য। আমার আগামী ছবির আগমনী বার্তা। পিপলু আর খান এর ২য় ছবি, কিন্তু প্রথম কাহিনী চিত্র। আপাতত নামহীন, গোত্রহীন সাকুল্যে ৬ সপ্তাহের যাত্রা। তার মধ্যে ১৫ দিনে একটি ফিচার ফিল্ম এর শ্যুটিং করে ফেললাম। প্যানডেমিক এর মানসিক অস্থিরতার দিনগুলোতে যখন বাসায় বসে ভয় আর শংকায় দিনগুলো কাটাচ্ছিলাম, পরিচালক ফোনে বললেন, ‘চলেন ছোট করে একটা শর্ট ফিল্ম বানিয়ে ফেলি।’ তারপর গল্পের মধ্যে গল্প, আর বলতে বারণ নানাকারণে পরে সেটা ফিচার ফিল্ম হয়ে গেলো! ‘প্যানডেমিক এর মধ্যে একটা ছবি শ্যুট করবো তার উত্তেজনাটাই আসল। এত সিরিয়াসলি নেওয়ার কিছু নেই, চলেন করে ফেলি।’ ঠিক এভাবেই একটা ছবির অংশ হয়ে গেলাম। জীবনের খণ্ড খণ্ড না-বলা অনুভূতি আর বাকী গল্পটা ‘it’s complicaed’। এতটুকুই বলা অনুমতি সাপেক্ষে। ছবি অনেক সময় ছবি হয়ে উঠে, বানাতে হয় না!- সম্ভবত এটা এমন একটা প্রজেক্ট। আশায় থাকলাম কী করলাম সেটা দেখার জন্য! কিন্তু ১৫ দিনের শ্যুটিংটা একটা পাগলামি ছিল, for sure. এত কম মানুষ নিয়ে একটা ছবি শ্যুট করা যায় সেটাও জানা হলো। অসাধারণ পরিশ্রমী কিছু মানুষের সাথে একটা সুন্দর experience হলো। পিপলু ভাই আর নুসরাত মাটির চিত্রনাট্যে আপাতত নাম, গোত্রহীন এই ছবি। Applebox films, আবু শাহেদ ইমন এর Box office Multimedia এর সাথে আমার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘C তে cinema’-ও এই ছবির প্রযোজক বটে! আপাতত এর চাইতে বেশী কিছু বলতে বারণ। সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। জয়া ঢাকা ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ছবি কৃতজ্ঞতাঃ আতা মোহাম্মদ আদনান

A post shared by Jaya Ahsan (@jaya.ahsan) on

মানসিক অস্থিরতার মধ্যে দিয়েও খুব হালকা মেজাজে থেকে কাজ হয়েছে। অল্পসংখ্যক মানুষের সঙ্গে কাজ করে জীবনের নানান কাহিনীর ছোট ছোট সংস্করণগুলি তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। জটিল জীবনে কিভাবে সহজে চলার আশা জাগতে পারে, তাই নিয়েই কাহিনী। এর বেশি অভিনেত্রী বলেননি। নাম বা মুক্তির তারিখ কোনও কিছু নিয়েই মুখ খুলতে নারাজ অভিনেত্রী।

চিত্রনাট্যের দায়িত্বে ছিলেন নুসরাত মাটি। এই ১৫ টা দিন হইহই করে শ্যুটিং চলেছে। বেশি মানুষ ছিলেন না, সকলের মিলিত সহযোগিতায় কাজটি করা সম্ভব হয়েছে। আপাতত এর থেকে বেশি বলা যাবে না। খুব সুন্দর অভিজ্ঞতা ছিল এরকম সংকটের মূহুর্তে কাজ করার। বেশ কিছু ছবিও তিনি শেয়ার করেছেন, যেখানে অভিনেত্রী বিভিন্ন রকমের মুডে দেখা গিয়েছে। অনুরাগীরা সেইসব ছবি দেখে মন্তব্য করেছেন গল্পের চরিত্র মানসিক নির্যাতনের শিকার। তবে এখনই আনুষ্ঠানিকভাবে জানান হয়নি বলে অনুরাগীদের অনুমান কতটা ঠিক, তা নিয়ে সন্দিহান রয়েছে।