Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

‘এত অন্ধকার এখানে ‘, বাগদা কেন্দ্রের প্রার্থী বিশ্বজিৎ দাসের গলায় ক্ষোভ


।। ময়ুখ বসু ।।


এত অন্ধকার যে এখানে লুকিয়ে রয়েছে তা এই কেন্দ্রে প্রার্থী না হলে কখনই জানতে পারতাম না। রাজ্য সরকারের উন্নয়নের ভাঁওতাবাজি এখানে এলেই যে কেউ বুঝতে পারবেন। এভাবেই রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দেগে প্রতিদিন প্রচারে ঝড় তুলছেন উত্তর ২৪ পরগণা জেলার বাগদা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী বিশ্বজিত দাস। তিনি বলেন, অনুন্নয়নের অন্ধকারে ঢেকে রয়েছে এই বাগদা কেন্দ্র। আর সেই অনুন্নয়নকে তুলে ধরেই এবারে আমার লড়াই। এখানে তৃণমূল বা জোটের প্রার্থীরা কোনও ফ্যাক্টর নয়। বিজেপির জয় এখানে নিশ্চিত। বিশ্বজিতের দাবি, এই বাগদা কেন্দ্রে যোগাযোগ ব্যাবস্থা থেকে স্থানীয় ভিত্তিক রাস্তাঘাট, স্বাস্থ্য ব্যবস্থা থেকে শিক্ষা পরিষেবা সব ক্ষেত্রেই কয়েক যোজন পিছিয়ে এই কেন্দ্র।

তাই ভোটে জিতে আমার প্রথম কাজ হবে এই বাগদায় হাসপাতাল ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো এবং রাস্তাঘাট নির্মান করা। তিনি বলেন, বাগদার মানুষ সহজ সরল মানুষ। আর সেই সহজ সরলতার সুযোগ বুঝে সীমান্তবর্তী এই বাগদার আজ একটাই পরিচয় হয়ে উঠেছে অনুন্নয়নের বাংলা। যে পরিচয়কে দূর করতে আমি বদ্ধ পরিকর। তিনি রাজ্যের মমতা সরকারকে একহাত নিয়ে বলেন, আমরা শুনেছিলাম, রাজ্যে নাকি ৯০ শতাংশ উন্নয়ন হয়ে গিয়েছে, অথচ এখানে আসলে দেখা যাবে ১০ শতাংশ উন্নয়নের কাজ হয়নি। উন্নয়নের মিথ্যে বুলি আওড়ে এখানকার মানুষকে স্রেফ এখানে ধোঁকা দেওয়া হয়েছে। ভারত বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এই বাগদা কেন্দ্রে বাংলাদেশ থেকে আসা শরণার্থীদের যেমন প্রভাব রয়েছে, তেমনি প্রভাব রয়েছে মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষেরও।

যারা আজ নাগরিকত্বের দাবিতে সোচ্চার। সেখানে দাঁড়িয়ে বিশ্বজিত দাস বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী ২০১৪ সালের পর যারা ভারতে এসেছেন তারা সবাই ভারতীয় নাগরিক। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে নাগরিকত্বের সার্টিফিকেট দরকার হয়। যেওন, উচ্চ শিক্ষা, জমি রেজিষ্ট্রির ক্ষেত্রে নাগরিকত্বের সার্টিফিকেটের ভীষণ দরকার। আর সেকথা মাথায় রেখেই সিএএ–এর মাধ্যমে ভারত সরকার সবাইকে নাগরিকত্বের সার্টিফিকেট দেবে বলে ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছে। যার ঘোষণা বাংলার মাটিতে দাঁড়িয়ে দিয়ে গিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ফলে মানুষ আজ বুঝতে পারছেন নাগরিকত্ব নিয়ে রাজ্য সরকার যেটাই বলুন না কেন, আসলে সেই সার্টিফিকেট একমাত্র দিতে পারে ভারত সরকারই।

সেখানে দাঁড়িয়ে রাজ্য সরকারের কে কী বললেন তা নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছেন না এখনাকার মানুষজন। বিজেপিকে বাংলায় ক্ষমতায় আনতে এখানকার সবাই আজ এককাট্টা হয়ে উঠেছেন। তবে এবারের ভোটে এই কেন্দ্রে গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে চলা অবাধ সন্ত্রাস, ভোট রিগিং, বুথ দখলের মতো ঘটনা এবারে আর মাথাচাড়া দিতে পারবে না বলেও জানান বিশ্বজিত দাস। বলেন, বাগদার মানুষ আজ ঘুরে দাঁড়িয়েছেন। তারা চাইছে কেন্দ্র ও রাজ্যে ডবল ইঞ্জিনের সরকার। আর সেই লক্ষ্যে যারা ভোট সন্ত্রাসের পথে হাঁটবে তাদের বিরুদ্ধে জীবনপণ লড়াই দেওয়ার জন্য এখন থেকেই প্রস্তুত বাগদার মানুষ।