Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

অনেক হয়েছে, আর নয়, এবার বিজেপি গুডবাই জানাচ্ছে শোভন-বৈশাখীকে?

1 min read

।। প্রথম কলকাতা ।।

বিধানসভা নির্বাচন দরজায় কড়া নাড়ছে। বিজেপি (bjp) এই হাইভোল্টেজ নির্বাচনে জিতে বাংলায় ক্ষমতা দখলের স্বপ্ন দেখছে। অনেকটা কাছাকাছি তাঁরা এসে গিয়েছেন বলে মনে করছেন দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। এখন কোনো মতেই দলে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব বা সামান্যতম অস্বস্তিজনক পরিস্থিতি দল সহ্য করবে না। কারণ এতে দলের মুখ পুড়বে। আর সেটা বিভিন্ন সময় বারবার দেখা গিয়েছে শোভন চট্টোপাধ্যায় এবং তাঁর বান্ধবী বৈশাখী বন্দোপাধ্যায়কে নিয়ে। নতুন বছরের শুরুতেই আবারও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হল। পুরো বিষয়টি নিয়ে তিতি বিরক্ত রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। সোমবার বর্ণাঢ্য মিছিল করে শোভন এবং বৈশাখীকে বিজেপির রাজ্য দপ্তরে নিয়ে আসার কথা ছিল। সেইমতো প্রস্তুতি নেওয়া হয়।

কিন্তু মিছিলে যোগ দিলেন না কেউ। পরে মুখ রক্ষা করতে মিছিলে শামিল হলেন মুকুল রায় (Mukul Roy), কৈলাস বিজয়বর্গীয়, অর্জুন সিং, দেবজিৎ সরকাররা। যাদের জন্য এত আয়োজন তাঁরাই এলেন না। এই ঘটনার কিছুক্ষণ পরেই দেখা গেল রাজ্য বিজেপি বিষয়টি নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। যে ঘরে শোভন এবং বৈশাখীর বসার ব্যবস্থা করা হয়েছিল, সেই ঘরের দরজায় তাঁদের নাম লেখা অস্থায়ী কাগজের বোর্ড ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। তার পাশাপাশি ঘরের দরজায় তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাতেই পরিষ্কার দল আর তাঁদের এমন আচরণকে প্রশ্রয় দেবে না। তবে কি বিজেপি এবার তাঁদের গুডবাই জানিয়ে দেবে? সেই জল্পনাও চলছে গেরুয়া শিবিরের অন্দরে।

আর প্রশ্রয় দিতে যাবার কোনো প্রশ্নই উঠছে না। কারণ শোভন এবং বৈশাখী বিজেপিতে অপরিহার্য নন। এমনটাই মনে করেন দলের একটা বড় অংশ। সেই অংশের যুক্তি, শোভন, বৈশাখী ছাড়াই বিজেপি গত লোকসভা নির্বাচনে অভূতপূর্ব ফল করেছে। যেখানে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah), বিজেপি সভাপতি জেপি নাড্ডাসহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব নিয়মিত আসছেন, বা আগামীদিনে খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রাজ্যে আসবেন, সেখানে শোভন এবং বৈশাখীকে কেন এত গুরুত্ব দেওয়া হবে সেই প্রশ্ন উঠছে দলের মধ্য থেকে। উল্টে এতদিন তাঁদের গুরুত্ব দিতে গিয়ে বিজেপির বহুলাংশে ‘ফেস লস’ হয়েছে। সাংগঠনিক ক্ষেত্রে কলকাতা এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনায় শোভনের যথেষ্ট গুরুত্ব ছিল তৃণমূলে থাকার সময়। দু-দুবার কলকাতার মেয়র হয়েছেন।

ছিলেন বেশ কয়েকটি দপ্তরের মন্ত্রী। সব মিলিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে তাঁর একটা ওজন ছিল। সেই কারণেই বিজেপি শোভনকে দলে নিয়ে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়েছিল। আশা ছিল শোভন পাল্টা কাজ করে দেখাবেন। কিন্তু তিনি এবং বৈশাখী নিত্যনতুন নানা ছুঁতো তুলে যেভাবে বিজেপিকে এড়িয়ে যাচ্ছেন, তাতে তো গেরুয়া শিবিরকে এবার কঠোর পদক্ষেপ করতেই হবে। বিজেপির মতো রেজিমেন্টেড পার্টিতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায় শৃঙ্খলা। দলে কিছুদিন আগে যোগ দেওয়া রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Subhendu Adhikari) সেটা অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলছেন। মুখেও বলছেন সেকথা। মজার কথা শোভন কিন্তু শুভেন্দুর মতো তো দূরের কথা, জননেতার নিরিখে তাঁর কাছাকাছি যাওয়ার যোগ্যতা নেই।

আরো পড়ুন :দল তৈরি হয়ে গিয়েছে, ঘোষণা খুব তাড়াতাড়িই হবে দাবি আব্বাস সিদ্দিকির

সেখানে বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম আলোচনাতেই আসা উচিত নয়। অথচ এতদিন ধরে বিজেপি তাঁদের প্রচুর বায়নাক্কা সহ্য করে এসেছে। এবার তাঁদের চরম জবাব দিতে দল প্রস্তুত। এমনটাই খবর পাওয়া যাচ্ছে। রাজ্য বিজেপির নেতারা সোমবার ঠারেঠোরে বুঝিয়ে দিয়েছেন তাঁরা কতটা ক্ষুব্ধ বিষয়টি নিয়ে। প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি তাঁরা। এককথায় বিষয়টি তাঁরা এড়িয়ে গিয়েছেন। রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেছেন, বিষয়টি জানি না। কার জন্য ঘর বরাদ্দ করা হয়েছিল সে ব্যাপারে আমার কাছে কিছু খবর নেই। সারাদিন মাঠে ঘাটে ঘুরে বেড়াই। এটুকু বলেই তিনি বিষয়টি এড়িয়ে গিয়েছেন। কিন্তু বিজেপি সূত্রে জানা যাচ্ছে, শোভন, বৈশাখীকে বিজেপি এবার ক্লোজড চ্যাপ্টার হিসেবেই দেখতে চলেছে। সেই প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে।

তাঁদের নেমপ্লেট খোলার পাশাপাশি বরাদ্দ করা ঘরে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ ইঙ্গিতটি স্পষ্ট। কলকাতা এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনায় বিজেপির ভাল ফল হয়নি গত লোকসভা নির্বাচনে। সেই লক্ষ্যেই তারা শোভনদের দলে নিয়েছিল। কিন্তু যদি সত্যিই তাঁরা বিজেপি সম্পর্কে উৎসাহী ছিলেন না, তবে এলেন কেন? এই প্রশ্ন ফের উঠতে শুরু করে দিয়েছে। সোমবারের ঘটনা পরিষ্কারভাবে জানাচ্ছে যে, শোভন,বৈশাখী রীতিমতো অপমান করেছেন রাজ্য বিজেপি তথা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে। বৈশাখী যুক্তি দেখিয়েছেন, তাঁর নাকি ব্লাড প্রেসার ওঠানামা করছিল বলে তিনি মিছিলে যেতে পারেননি। সেই কারণে তাঁকে বাড়িতে একা ফেলে শোভনও যাননি মিছিলে। এটা যে কোনো যুক্তি হতে পারে না, সেটা সকলেই বোঝেন। এটা পরিষ্কার শোভন ইচ্ছা করেই এই কাণ্ড ঘটিয়েছেন।

কি কারণে তিনি এটা করলেন, সেটা খতিয়ে দেখতে চলেছে বিজেপি (BJP)। সম্প্রতি বিজেপি এবং তৃণমূল দুটি দলই নিজেদের মতো করে অভ্যন্তরীণ সমীক্ষা করেছে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে কি ফলাফল হতে পারে সে ব্যাপারে। তৃণমূল শিবির মনে করছে তারা ফের ক্ষমতায় আসতে চলেছে। কারণ অভ্যন্তরীণ সমীক্ষা-রিপোর্ট তাদের পক্ষে কথা বলছে। স্বাভাবিকভাবে তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা উজ্জীবিত হয়ে উঠেছেন। এতদিন তাঁরা বিজেপির উত্থানে অনেকটাই হতোদ্যম হয়ে পড়েছিলেন। যদিও পাল্টা বিজেপি দাবি করছে তাদের সমীক্ষা অনুযায়ী বিধানসভা নির্বাচনে গেরুয়া শিবির ক্ষমতায় আসতে চলেছে। বিজেপি যখন এই দাবি করছে ঠিক তখনই শোভন-বৈশাখীদের নিয়ে প্রবল অস্বস্তি বাড়ল পদ্মশিবিরে। বিষয়টি নিয়ে দু’পক্ষ আগামীদিনে কি অবস্থান নেয় সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।