বিজেপির মতো রেজিমেন্টেড দলের সঙ্গে লড়াইয়ে পেরে ওঠা সহজ নয়

1 min read

।। শ্রীপর্ণা মুখোপাধ্যায় ।।

সামনের লড়াইটা খুব কঠিন, মনে রাখতে হবে লোকসভা নির্বাচন, বিধানসভা নির্বাচন বিষয়টা এক নয়, মানুষের রায়ের তফাৎ কিন্তু বহুল হতে পারে। 2014 সালের লোকসভা ভোটের চেয়েও অনেক বেশি আসনে জিতে বিজেপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে দিল্লির মসনদে বসেছে। শাসকদল বলছে লোকসভা নির্বাচনের মতো রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারবে না বিজেপি, বাংলায় একুশেই বিজেপির শেষ কলস ডুববে। 21এ বাংলা ছাড়তে হবে বিজেপিকে। গেরুয়া শিবিরের হাইকমান্ডরা কিন্তু আত্মবিশ্বাসী, বিধানসভা নির্বাচনে হাতে গরম পাতে গরম ফল পাবেন মুখ্যমন্ত্রী।

শাসকদল বলছে, বিজেপির ফাঁকা চিৎকার, মানুষের মন থেকে সরে গেছে বিজেপি, নিজদেশে পরবাসী হওয়ার তীব্র আতঙ্ক সীমান্ত লাগোয়া জেলার মানুষজনদের মনে চেপে বসে আছে। এনআরসি, এনপি আর, সিএ এ -র সাড়াঁশি চাপে মানুষ দিশেহারা। বিরোধীদল বলছে, কাটমানি, রেশন দুর্নীতি,স্বাস্থ্যে অপব্যাবস্থা কোনও দিনই বাংলায় তৃণমূল নেত্রীকে সেরা শিরোপা ছিনিয়ে নিতে দেবে না। শাসকদল মোদী সরকারের যে ইস্যু গুলো সামনে আনছে সেগুলো সবই “জাতীয় স্বার্থে”। গেরুয়া শিবির বলছে, নোট বাতিল হোক, জিএসটি হোক, 370 ধারা বিলুপ্ত হোক, জাতীয় নাগরিকপঞ্জী হোক, রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ আনা হোক সবই জাতীয় স্বার্থে(গেরুয়া শিবিরের “জাতীয় স্বার্থের “এই নমুনায় অবশ্য বুদ্ধজীবী মহলের একাংশ খুশি নয়)।

শাসকদল বলছে, নীরব মোদী, মেহুল চোকসি, বিজয় মালিয়া, যতীন মেহেতা, সন্দেসেরা সহ আরও অনেক কে দেশ ছেড়ে যাওয়ার অনুমতি বিজেপি কি জাতীয় স্বার্থেই দিয়েছিলো? প্রশ্নখানা অবশ্যই ফেলে দেওয়ার নয় তবে, এতে কিন্তু খুব একটা কায়দা করতে পারবে না শাসকদল, শাসকদল ভাবছে ভোট পরবর্তী কয়েক মাসে তৃণমূল নেট্রা সামাল দিয়ে নিতে পেরেছেন মানুষ এক্জন তৃণমূল নেত্রীর পাশেই বিধানসভা নির্বাচনে আবার আসবেন মুখ্যমন্ত্রী, 2011,2016,2021শে মুখ্যমন্ত্রী হ্যাট্রিক করবেন!ভুল টা এখানেই হয়ে যাচ্ছে। একটা উদাহরণ দিয়ে বলি, শুধু কলকাতার কথা ধরুন, “দিদি কে বলো “কর্মসূচির পর এলাকার তৃণমূল কাউন্সিলররা জনতার মুখোমুখি হয়েছিলেন, রিপোর্ট কিন্তু শাসকদলের পক্ষে স্বস্তিকর নয় অনেক ক্ষেত্রেই, প্রকাশ্যে মানুষ কাউন্সিলরদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনে, পালিয়ে বাঁচার পথ ছিলো না তখন অনেক নেতা -মন্ত্রী -কাউন্সিলরের।

দুর্নীতির পার্সেপশনে এগিয়ে তৃণমূল, আর মনে রাখতে হবে রাজনীতিতে “পারসেপশন “কথাটা খুব খারাপ।বিধানসভা নির্বাচনের 7-8মাস আগে বিজেপিছেড়ে কটা লোক তৃণমূলে ফিরলো সেই দিয়ে বিচার করেই ভুল করছেন তৃণমূল নেত্রী। মনে রাখা দরকার ভোট দেওয়ার সময় কটা লোক বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে ফিরেছে সে ভেবে মানুষ ভোট দেবে না বরং নির্দিষ্ট নেতা বা নেত্রীর মুখে দেখে ভোট বাক্সে হিসেব নিকেশ বদলে যাবে। আর এখান থেকেই একটা প্রশ্ন ঘুরছে, মমতার কারিশমার সাথে পাল্লা দেওয়ার মতো রাজ্যে বিজেপির মুখ এ তল্লাটে একটাও আছে নাকি?

এটা ভাবাই তো ভুল শাসকদলের, এক সময় দুই সংসদের দল থেকে এতো বড় রেজিমেন্টেড দল বিজেপি তো আর এমনি এমনি হয়নি, রাজনীতির কারবারিরা জানাচ্ছেন, বাংলায় বিজেপি হয়তো কাউকে মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী করবে না বাংলায় মমতার বিপরীতে থাকবে মোদী মুখ ই!লোকসভা নির্বাচনের আগে আগে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী র কাছে আছে “গুন্ডাতন্ত্র “আমাদের কাছে আছে “লোকতন্ত্র “কথা টা প্রমান করে ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী।মুখ্যমন্ত্রী বলছেন, “মোদী আর দিদি এক নয় “বিজেপির এই স্লোগান ই একদিন বুমেরাং হয়ে বিজেপির কাছে ফিরে যাবে, ভুললে চলবে না “অগ্নিকন্যা”র ও “দম “আছে। বাকিটা অবশ্যই মানুষ বলবেন!!