Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

শুভেন্দুর সব দাবি মানা অসম্ভব, আজই বুঝিয়ে দেবে তৃণমূল, এরপরেই কি চরম ঘোষণা?

1 min read

।। কুমার মিত্র ।।

এবার নিয়ে দ্বিতীয়বার। তৃণমূলের সিনিয়র সাংসদ সৌগত রায়ের সঙ্গে আজ ফের একবার মুখোমুখি বসেছিলেন পরিবহণ মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। যে বৈঠকের দিকে তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল। তবে এদিনের বৈঠকে আদৌ কোনো সমাধান সূত্র বের হবে কি না তা নিয়ে সন্দিহান জোড়া ফুল শিবির। বিষয়টি নিয়ে সৌগত রায় আজ দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে আগেই কথা বলে নিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। এবার শুভেন্দুর সঙ্গে মুখোমুখি বৈঠকে বসে দল কি ভাবছে তাঁকে নিয়ে, সেটা শুভেন্দুকে জানিয়ে দেওয়া হবে বলে খবর। শুভেন্দুর সব দাবি যে দল মেনে নেবে না, তা জানিয়ে দেওয়া হবে তাঁকে। এমনই জানা গেছে সূত্রে।


এখন প্রশ্ন শুভেন্দু কেন দলের বিরুদ্ধে হঠাৎ বিদ্রোহী হয়ে উঠলেন? এর প্রথম কারণ দলের এক যুব সাংসদের রকেটের গতিতে উত্থান। দলের সংগঠনে ওই সাংসদের গুরুত্ব যে অপরিসীম তা সকলেই জানেন। শুভেন্দুর ক্ষোভের মূল কারণ সেটাই। যা আগের দিন শুভেন্দু বলেছিলেন সৌগত রায়কে, এমনটাই জানা গিয়েছে তৃণমূল সূত্রে। এই পরিস্থিতিতে আজ তবে শুভেন্দু নতুন কথা কি বলবেন? যে পদ্ধতিতে দল চলছে সেটাই কি শুভেন্দু মেনে নিয়ে থেকে যাবেন, নাকি তিনি যা চাইছেন সেটা বাস্তবে কার্যকর না হলে দল ছেড়ে দেবার মত চরম সিদ্ধান্ত নেবেন? এই প্রশ্নই এখন সবচেয়ে বড় হয়ে দেখা দিয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে।

তৃণমূল দল তৈরি হওয়ার পর দলের শেষ কথা ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলে অন্যান্য শীর্ষ পদ থাকলেও নেত্রীই যে শেষ কথা বলতেন তা সকলেই জানেন। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে দলের গঠনতন্ত্রে সেই সমীকরণটা অনেকটাই বদলে গিয়েছে বলে মনে করছে তৃণমূলের একটা বড় অংশ। সেখানে নেত্রীর পাশাপাশি সমান গুরুত্ব পাচ্ছেন ওই যুব সংসদ। স্বাভাবিকভাবেই বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ তৃণমূলের একটা বড় অংশ। তাঁরা মনে করছেন এতে দলের ক্ষতি হচ্ছে। কারণ যেসব নেতারা আন্দোলনের মাধ্যমে উঠে এসেছেন তাঁদের গুরুত্ব কমিয়ে ওই যুব সাংসদকে কেন এত গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে সেই প্রশ্ন তাঁরা সকলেই তুলছেন।

কিন্তু শুভেন্দুর মতো কেউ এই বিষয়টি নিয়ে এত দূর এগোনোর সাহস পাননি। তৃণমূল শিবিরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাদ দিলে যে গুটিকয়েক নেতা-নেত্রী নিজের ক্ষমতায় নির্বাচনে জিততে পারেন বলে অনেকেই মনে করেন, তাঁদের মধ্যে প্রথম নামটি হল শুভেন্দু অধিকারী। সেই কারণে দল কিছুতেই তাঁকে হাতছাড়া করতে চায় না। কিন্তু শুভেন্দু মনে করেন তিনি সম্মানের সঙ্গে দল করতে চান। কিন্তু যেভাবে দল এখন চলছে তাতে তিনি অসম্মানিত বোধ করছেন। এটাই তাঁর আর বিদ্রোহের প্রধান কারণ। শুভেন্দু অনুগামীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, আজ তাঁদের দাদা ফের নিজের বক্তব্য খোলাখুলি জানিয়ে দেবেন প্রবীণ সাংসদ সৌগতবাবুকে।

এটাও জানা গিয়েছে যে, আজ যদি কোনো সমাধান সূত্র না বের হয় তাহলে আগামী দিনে শুভেন্দুর সঙ্গে মুখোমুখি বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা আর নেই বললেই চলে। এদিকে বিষয়টি নিয়ে প্রশান্ত কিশোরের সঙ্গে কথাও বলেছে তৃণমূল। শুভেন্দুকে নিয়ে কি পদক্ষেপ করলে দলের সুবিধা হয় সেই বিষয়টি নিয়ে তাঁর সঙ্গে তৃণমূলের আলোচনা হয়েছে বলে খবর। তাই আজকের বৈঠকের পর শুভেন্দু ও তৃণমূলের মধ্যে যে জমাটবাঁধা বরফ রয়েছে তা গলবে কিনা সেদিকে নজর থাকবে ওয়াকিবহাল মহলের। আর বরফ যদি না গলে তাহলে শুভেন্দু কি খুব শীঘ্র দল ছাড়ার কথা ঘোষণা করবেন? যথারীতি চর্চা শুরু হয়েছে সেই বিষয়টি নিয়েও।