বিহার বিধানসভা নির্বাচনে প্রধান ইস্যু হয়ে উঠবে যে বিষয়গুলি


।। ময়ুখ বসু ।।


দোরগোড়ায় কড়া নাড়ছে বিহার বিধানসভা নির্বাচন। বিহার বিধানসভা নির্বাচনে এবার বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ন বিষয় মূল ইস্যু হয়ে উঠতে পারে। বিহারের তখত দখল করতে এবার মরিয়া বিজেপি এবং নীতিশ কুমার জোট। পাশাপাশি, বিহারকে নিজেদের দখলে রাখতে সবরকম চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে কংগ্রেস এবং আরজেডি জোট। রাজনৈতিক এই জোট লড়াইয়ের মধ্যে বিহারের এবারের বিধানসভা নির্বাচনে চিরাচরিতভাবে উন্নয়ন, আইনশৃঙ্খলার পাশাপাশি ভোটের ইস্যু হয়ে উঠতে পারে কোভিড সংক্রান্ত বেশ কিছু বিষয়।

এবারের বিহার বিধানসভা নির্বাচনে মূল ফোকাস থাকবে রাজ্যটির স্বাস্থ্য পরিষেবার উপর। যেটা বুঝেই করোনা আবহের মধ্যে বিহারের স্বাস্থ্য ব্যাবস্থার ভোল পাল্টাতে উদ্যোগী হয়েছিলেন বিহারের নীতিশ কুমার সরকার। যে কারনে বিহারে একদিকে যেমন কমেছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা, বেড়েছে সুস্থতার হার, তেমনি, বাড়ানো হয়েছে করোনা পরীক্ষার সংখ্যা। তবে বিহার রাজ্যের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি করোনা আবহে রাজ্য সরকারের স্বাস্থ্য ব্যাবস্থা নিয়ে যে প্রশ্নচিহ্ন তুলতে ছাড়বেন না তা প্রচারের ময়দান দেখেই স্পষ্ট।

পাশাপাশি, করোনা আবহের মধ্যে পরিযায়ী শমিক সমস্যাও ভোটের অন্যতম ইস্যু হয়ে উঠতে পারে। করোনা আবহে লকডাউন চলাকালীন বিহারে প্রায় ৩০ লক্ষ পরিযায়ী শ্রমিক ঘরে ফিরেছিলেন। সেই সময় তাদের নানা দুর্ভোগের ছবি বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়াতে ভাইরাল হয়ে গিয়েছিলো। যে ঘটনাকে এবারের ভোট প্রচারে তুলে ধরে ফায়দা লোটার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বিরোধীরা। পাশাপাশি, পরিযায়ী শ্রমিকদের পরিষেবা প্রদানে সফলতার করে ভোট ময়দানে পালটা প্রচারে নেমেছে নীতিশ কুমার এবং বিজেপি শিবির।

আরো পড়ুন : সরেজমিনে বিহার ঘুরে জোট শান্তি ধরে রাখতে চান দেবেন্দ্র ফড়নবীশ

পাশাপাশি বিহারের বিধানসভা নির্বাচনে বড়ো ইস্যু হয়ে দাড়াতে চলেছে বেকারত্ব সমস্যা। সিএমআইই –এর তথ্য অনুযায়ি, চলতি বছরের গত এপ্রিল মাস নাগাদ বিহারে বেকারত্বের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছিলো ৪৬,৬ শতাংশ। ফলে বিহারে যুবক সম্প্রদায়ের কর্মসংস্থানের অভাবের বিষয়টি ভোট ময়দানে বড়ো প্রভাব ফেলতে পারে। যে বিষয়টি বিহারের শাসক দল সাফাই দেওয়ার চেষ্টা করলেও বেকারত্ব ইস্যু নিয়ে বিরোধী শিবির শাসককে চেপে ধরার জন্য প্রস্তুত। বিহার ভোটে প্রভাব পড়তে পারে সম্প্রতি কৃষি বিলের বিষয়টিও।

যে বিলের বিরুদ্ধে সংসদের ভিতরে এবং বাইরে যেমন বিরোধীরা সরব হয়েছিলেন। এবারে সেই বিলকে হাতিয়ার করে বিহার কাপাতে পারে বিরোধীরা। যদিও, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানিয়েছিলেন, কৃষি সংস্কার বিলগুলি তৈরির ক্ষেত্রে তিনি বিহার মডেল অনুসরন করেছিলেন। কিন্ত সেই রক্ষাকবচে বিহারের শাসক বা বিজেপির জোট কতোটা ফায়দা তুলতে পারবে তা নিয়ে প্রশ্ন চিহ্ন থেকেই যাচ্ছে। এর পাশাপাশি বিহারের শিক্ষা ব্যাবস্থা নিয়ে চিরকালীন একটা প্রশ্ন চিহ্ন উঠে আসছে।

তবে এনডিএ সরকারের আমলে বিহারে জাতীয় এবং রাজ্য স্তরে বেশ কয়েকটি মেডিক্যাল কলেজ, ইঙ্গিনীয়ারিং কলজ, পলিটেকনিক কলেজ সহ একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। তবে সেই সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মান এবং শিক্ষক ও পড়ুয়াদের নানা সুস্যা নিয়ে সরব হতে শুরু করে দিয়েছেন বিরোধীরা। সেইসঙ্গে বিহারের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে বরাবরই বেশ কিছু প্রশ্ন চিহ্নথাকলেও নীতিশ কুমার সরকারের আমলে বিহারের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেক ভালো বলে দাবি সরকারপক্ষের।

তবে বিহারের মাটিতে আরজেডি এবং বিরোধীরা সম্প্রতি ঘটে যাওয়া বিহারে বেশ কয়েকটি হত্যাকান্ড এবং লুঠপাটের ঘটনাকে সামনে তুলে ধরে আক্রমণ শানাতে শুরু করে দিয়েছে। তবে এক্ষেত্রে বিহার ভোটে সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যু রহস্যের বিষয়টিকে ইস্যু করে ফায়দা নিতে পারে নীতিশ কুমার সরকার। কারন, সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যু রহস্যের তদন্তভার সিবি আইয়ের হাতে তুলে দিয়ে স্বাভাবিকভাবেই কৃতিত্ব দাবি করতে পারে নীতিশ কুমার সরকার।