পুলিশ কি পার্টির ক‍্যাডার? মুখ‍্যমন্ত্রীর ব‍্যাখ‍্যা চাইলেন রাজ‍্যপাল

।। রাজীব ঘোষ ।।

বিরোধীদলের জনপ্রতিনিধি এবং নেতারা তার কাছে অভিযোগ করেছেন জনসমক্ষে পুলিশ তাদের হেনস্তা করছে। পুলিশের আচরণ দলীয় ক্যাডারের মতো। এদিন দুপুরে একটি ভিডিও টুইট করেন রাজ্যের রাজ্যপাল জগদীপ ধানকার। ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন আমাকে অনেক বিরোধী দলের সাংসদ, বিধায়ক, নেতারা বলেছেন পুলিশ তাদের হেনস্তা করছে।

পুলিশ পার্টির ক্যাডার এর ভূমিকা নিয়েছে। এটা সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক। এই ব্যাপারে তিনি দ্রুত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যাখ্যা চেয়েছেন। প্রসঙ্গত, ব্যারাকপুরের বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিং অভিযোগ করেছিল আমাকে আটকাতে না পেরে আমার পরিবারকে টার্গেট করেছে ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেট। সার্চ ওয়ারেন্ট ছাড়া পুলিশ পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে আমার বাড়িতে। এই বিষয় নিয়ে রাজ্যপালের কাছে নালিশ করেছিলেন অর্জুন সিং।

বিজেপির বক্তব্য ছিল অর্জুন সিং এবং তার বিধায়ক পুত্র পবন সিং কে এনকাউন্টার করার ছক করছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুলিশ। রানাঘাটের সাংসদ জগন্নাথ সরকার বালুরঘাটের সংসদ সুকান্ত মজুমদার আলিপুরদুয়ারের সাংসদ জন বার্লা সহ একাধিক বিরোধী নেতা নেত্রীরা রাজ্যপালের কাছে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন। কিছুদিন আগেই চারটি বাম ছাত্র সংগঠন রাজ্যপাল কে স্মারকলিপি দিয়েছিল। তাতে ও বিভিন্ন জায়গায় শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশের গুন্ডামি অভিযোগ জানানো হয়।

রাজ্যের বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নান রাজ্যপাল কে চিঠি লিখেছিলেন। সেখানে তার অভিযোগ ছিল এক পুলিশ আধিকারিক তার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন। ৫৫ বছরের রাজনৈতিক জীবনে কোনো পুলিশ আধিকারিক এই ভঙ্গিতে কথা বলেননি। তিনি আমপান পরবর্তী সময়ে সিইএসসির কাণ্ডকারখানার প্রতিবাদে স্থানীয় মানুষকে সঙ্গে নিয়ে শেওড়াফুলি ফাঁড়ির সামনে রাস্তা অবরোধ করে ছিলেন। বেশ কিছুদিন ধরেই মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যপাল সংঘাত অন্যমাত্রা নিয়েছে।

রাজ্যপাল একাধিক বিষয়ে রাজ্য সরকারের উদ্দেশ্যে মন্তব্য করেছেন। তারপরেই নবান্নের সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যপাল কে আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে তিনি কার্যত হুঁশিয়ারি দেন তাকে। এই বৈঠকের পরে একুশে জুলাই এর মঞ্চ থেকেও রাজ্যপাল কে আক্রমণ করে কেন্দ্রের তাবেদার বলেন। এই প্রসঙ্গে রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর মমতার বক্তৃতা কে দুর্ভাগ্যজনক বলে জানান।

তৃণমূলের পক্ষ থেকে কোনো বিবৃতি না দেওয়া হলেও এক নেতা বলেন রাজ্যপাল বিজেপির রাজ্য সভাপতির মতো কেন আচরণ করছেন তার ব্যাখ্যা দিন। যখন সারা রাজ্য লকডাউনে ঘরবন্দি তখন রাজ্যের পুলিশ প্রশাসনের দলীয় ক্যাডারের মতো ভূমিকা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এর ব্যাখ্যা চাইলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর।