Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

দেশ কি করোনার টিকা সংকটে পড়েছে?

1 min read

।।প্রথম কলকাতা।।

করোনায় আক্রান্তে তৃতীয় এবং মৃত্যুতে চতুর্থ অবস্থানে থাকা ভারতে ভ্যাকসিনের মজুত শেষ হয়ে গেছে বলে বেশ কয়েকটি রাজ্য দাবি করেছে। তবে কেন্দ্র সরকার বলছে, টিকার যথেষ্ট মজুত রয়েছে।

শুক্রবার (০৯ এপ্রিল) বিবিসির খবরে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

খবরে বলা হয়েছে, গত দু’দিন ধরে ভারতের উত্তর প্রদেশে সঞ্জয় কুমার নামে এক ব্যক্তি নিজের এবং তার বয়স্ক মায়ের জন্য করোনাভাইরাসের টিকা দেয়ার চেষ্টা করছেন।

গাজিয়াবাদের বাসিন্দা সামাজিক বিজ্ঞানী ড. কুমার বলেন, ‘আমি আমার প্রতিবেশী তিনটি বেসরকারি হাসপাতালে করোনার টিকার জন্য ফোন করেছি কিন্তু তাদের সবাই জানিয়েছে, তাদের কাছে টিকার ডোজ নেই।’

এগুলোর মধ্যে একটি ৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল রয়েছে। হাসপাতালের এক কর্মকর্তা বলছিলেন, ‘আমাদের ভ্যাকসিনের মজুদ নেই এবং আমরা আর বুকিং নিচ্ছি না। কারণ মানুষ করোনার ডোজ নিতে আসছে এবং তাদের সঙ্গে রীতিমতো বাকযুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে হচ্ছে (যখন আমরা বলছি যে আমাদের কাছে মজুত নেই)।’

আরেক হাসপাতাল, যেখানে ড. কুমার টিকার বুকিং দিতে গিয়ে ব্যর্থ হয়েছেন, তারা বলছে, বুধবার সন্ধ্যা থেকে তাদের হাসপাতালে করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিনের ডোজ শেষ হয়ে গেছে।

ভারতে চলছে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ। গত ১ এপ্রিল থেকে দেশটিতে প্রতিদিন গড়ে ৯০ হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণঘাতী এই ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছেন। কেন্দ্রীয় সরকার করোনার টিকার যথেষ্ট মজুত থাকার দাবি করলেও বেশ কয়েকটি রাজ্য টিকার ঘাটতির কথা জানিয়েছে।

ভারতের অর্ধেকের বেশি নতুন সংক্রমণের তালিকায় থাকা মহারাষ্ট্রে করোনার টিকা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। বর্তমানে রাজ্যে ১ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডোজ মজুত রয়েছে যা তিন দিনেই শেষ হয়ে যাবে।

রাজ্যের রাজধানী মুম্বাই এবং কোলাপুর, সাঙ্গলি ও সাতারা জেলার কিছু অংশে টিকাদান কেন্দ্রগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাজেশ টোপ সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘তিন দিনের মধ্যে ভ্যাকসিন না এলে আমরা টিকা কর্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য হব।’

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষবর্ধন বলেছেন, ভ্যাকসিনের অভাবের অভিযোগ ‘একেবারে ভিত্তিহীন’ এবং ৪০ মিলিয়নেরও বেশি ডোজ ‘মজুত বা বিতরণ কাছাকাছি’ রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি দুর্বল টিকা দেয়ার প্রচেষ্টা থেকে মনোযোগ সরিয়ে দিতে রাজ্যগুলো টিকার ঘাটতির কথা বলছে বলে জানান।

বর্ধন বিশ্বাস করেন, যেসব রাজ্য টিকার অভাবের অভিযোগ করছে তারা তাদের প্রথম সারির কর্মীদেরও পুরোপুরি টিকা দেয়নি।

এটি পুরোপুরি সত্য নাও হতে পারে। দিল্লি-ভিত্তিক একটি থিংক ট্যাংক অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশন ওমেন সি কুরিয়ান অনুসারে, কয়েকটি রাজ্য যারা খুব দ্রুত টিকা দিতে সক্ষম হয়েছিল তাদের মধ্যে ভ্যাকসিনের ঘাটতির এই তথ্য সঠিক বলে মনে হচ্ছে। ‘গত চার মাস বা তার বেশি সময় ধরে ভারতীয় ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারকদের দাবি করা উৎপাদনক্ষমতা এবং প্রকৃত উৎপাদিত ডোজের মধ্যে মিল না থাকায়’ এই ঘাটতি হতে পারে।

ভারতে বিশ্বের বৃহত্তম টিকা প্রদান কার্যক্রম শুরু হয় গত ১৬ জানুয়ারি থেকে এবং জুলাইয়ের মধ্যে ২৫০ মিলিয়ন মানুষকে এই টিকা কার্যক্রমের আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৈরি  (কোভিশিল্ড) একটি এবং  ভারতীয় কোম্পানি ভারত বায়োটেকের (কোভ্যাকসিন) অনুমোদিত দুটি ভ্যাকসিনের ৯০ মিলিয়নেরও বেশি ডোজ দেয়া হয়েছে। প্রতিদিন গড়ে তিন মিলিয়ন ডোজ দেয়া হচ্ছে। এ ছাড়া ভারত এ পর্যন্ত ৮৫টি দেশে ভ্যাকসিনের ৬৪ মিলিয়ন ডোজ পাঠিয়েছে।

এর মধ্যে কিছু ‘উপহার’ হিসেবে, অন্যগুলো ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারী এবং গ্রহীতা দেশগুলোর মধ্যে স্বাক্ষরিত বাণিজ্যিক চুক্তির মাধ্যমে এবং বাকিগুলো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নেতৃত্বে কোভ্যাক্স স্কিমের আওতায় পাঠানো হয়েছে।

ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিন তৈরি করছে, যা কোভিশিল্ড নামে পরিচিত।

চলতি সপ্তাহে সেরামের প্রধান আদর পুনওয়ালা বলেছেন, ‘আমরা এখনও প্রতিটি ভারতীয়কে টিকা সরবরাহ করতে পারছি না।’

সেরাম বলছে, এটি ভারতে প্রতি মাসে ৬৫-৭০ মিলিয়ন ডোজ টিকা সরবরাহ করছে এবং টিকা উৎপাদনের পর থেকে প্রায় সমানসংখ্যক টিকা রপ্তানি করেছে।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও প্রাণহানির পরিসংখ্যান রাখা ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডওমিটারের তথ্যানুযায়ী, শুক্রবার (৯ এপ্রিল) সকাল পর্যন্ত ভারতে করোনায় এক কোটি ৩০ লাখ ৫৭ হাজার ৯৫৪ জন সংক্রমিত হয়েছেন। মৃত্যু হয়েছে এক লাখ ৬৭ হাজার ৬৯৪ জনের।

পিসি ডব্লিউ