Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

একুশের নির্বাচনে শুভেন্দু ও অধিকারী পরিবার কি সত্যিই তৃণমূলের কাছে ফ্যাক্টর? জানুন

1 min read


।। ময়ুখ বসু ।।


তৃণমূলে কি দিন ফুরালো অধিকারী পরিবারের সদস্যদের? শিশির অধিকারী ও দিব্যেন্দু অধিকারীও কি এবার গেরুয়া ঝান্ডার তলে যেতে চলেছেন? এই নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা চললেও তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) কিন্ত ইঙ্গিত দিয়েই দিলেন, তৃণমূলে দিন ফুরিয়েছে শিশির-দিব্যেন্দুর। বৃহস্পতিবার দক্ষিণ দিনাজপুরের গঙ্গারামপুরের সভা থেকে অভিষেক বলেন, আমি বলেছিলাম যে নিজের বাড়িতেই পদ্ম ফোটাতে পারছে না, সে বাংলায় কী করে পদ্ম ফোটাবে? আর তার পরেই একটা ভাইকে এনে বিজেপিতে জয়েন করিয়েছে। তারমানে তোমার বাড়িতে আরও উপসর্গহীন রোগী রয়েছে। অভিষেকের এই বক্তব্য স্পষ্টতই মেদিনীপুরের অধিকারী পরিবারকে টার্গেট করে তা বোধহয় খুলে বলার প্রয়োজন পড়ে না।

অভিষেক আরও বলেন, এরা উপসর্গহীন বেইমান। দলের খেয়েছে, দলের পরেছে, দলের সঙ্গেই গদ্দারি করেছে। আমি বলার সঙ্গে সঙ্গেই একটা ভাইকে এনে জয়েন করিয়েছে। তারমানে তোমার বাড়িতে আরও উপসর্গহীন রোগী রয়েছে। তুমিই প্রমান করে দিচ্ছো। তাদের ধরে ধরে আইসোলেশনে পাঠাচ্ছো। অবশ্য তাতে আমাদের কাজটা কমে যাচ্ছে। অভিষে্কের এই মন্তব্যের পরেই রাজ্য রাজনীতিতে চর্চা শুরু হয়ে গিয়েছে, তাহলে কি অধিকারী পরিবার আজ গেরুয়া শিবিরের পথে? ইতিমধ্যেই শুভেন্দুর হাত ধরে গেরুয়া পতাকা হাতে তুলে নিয়েছেন তার ভাই সৌমেন্দ্যু অধিকারী (Soumendyu Adhikari) । কাঁথি পুরসভার প্রশাসক পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরেই সৌমেন্দু বিজেপিতে নাম লেখান। সৌমেন্দুকে কাঁথি পুরসভার প্রশাসক পদ থেকে সরানোর পরেই বেসুরো বেজেছেন দিব্যেন্দু ও শিশির অধিকারীও।

আরো পড়ুন : লাল কালিতে লেখা পোস্টার পরেছে জঙ্গলমহলে, কী লেখা সেই পোস্টারে? উদ্দেশ্য কে?

ফলে তারা এখন কতোদিন নানা তীর্্যকক মন্তব্য সহ্য করে তৃণমূলে থাকবেন সেটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন। তবে অভিষেক শুভেন্দুকে নিয়ে কটাক্ষ করলেও তার প্রতিত্তুর দিতে কিন্ত ছাড়েননি শুভেন্দুও। শুভেন্দু বলেছিলেন, এখনও বাসন্তী পুজো আসেনি। রামনবমী আসেনি। রামনবমীটা আসতে দিন। আমার বাড়ির লোকেরাও পদ্ম ফোটাবে। শুধু আমার বাড়ির লোক কেন, কলকাতার হরিশ চ্যার্টার্জি স্ট্রিটে ঢুকেও পদ্ম ফুটিয়ে আসবো। ফলে চ্যালেঞ্জ ও পালটা চ্যালেঞ্জে এখন রণং দেহী তৃণমূল এবং শুভেন্দু। তবে রাজনৈতিক মহল মনে করছেন, তৃণমূলের বিভিন্ন নেতারা যেভাবে ক্রমাগত শুভেন্দু অধিকারীকে নিয়ে সমালোচনা করে চলেছেন তাতে এটা স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে যে, শুভেন্দু তৃণমূলের কাছে অবশ্যই একটা ফ্যাক্টর হয়ে দাড়িয়েছে।

এর আগে মুকুল রায়, সব্যাসাচী দত্তেরা বিজেপিতে নাম লেখালে এতোটা আক্রমণাত্মক হতে দেখা যায়নি তৃণমূল নেতৃত্বকে। সেখানে দাঁড়িয়ে শুভেন্দু ও তাদের অধিকারী পরিবারের প্রতি কেন এতো আক্রমণের সুর চড়ছে? রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছেন, তাহলে কি তৃণমূল নেতৃত্ব বুঝে গিয়েছে শুভেন্দুর চলে যাওয়া মানে মেদিনীপুরের মাটিতে পায়ের তলার জমি হারাতে চলেছে তৃণমূল? তাই কি শুভেন্দু ও তার পরিবারের প্রতি এতো আক্রমণ? রাজনীতির অংক বলছে, দল বদল ভারতীয় রাজনীতিতে একটি ধারা প্রবাহের মতো চলে আসছে। সেক্ষেত্রে শুভেন্দুর বিজেপিতে যোগদান নতুনত্ব কোনও ঘটনা নয়। তাহলে কেন শুভেন্দুকে নিয়ে এতো আলোচনা সমালোচনা! তবে কি সত্যিই একুশের নির্বাচনে শুভেন্দু ও অধিকারী পরিবার ফ্যাক্টর? যা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে গুঞ্জন কিন্ত চলছেই।