Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

জনসমর্থন অটুট আছে তো? পুরুলিয়ায় বুঝে নিতে চাইলেন শুভেন্দু

1 min read

।। প্রথম কলকাতা ।।

তৃণমূলে থাকার সময় বেশ কয়েকটি জেলার পর্যবেক্ষক পদে ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী (Subhendu Adhikari)। সেইসঙ্গে জঙ্গলমহলের প্রতিটি জেলায় তাঁর ছিল অবাধ বিচরণ। বলা যায় তিনি নিজের একটা সমান্তরাল সংগঠন তৈরি করতে পেরেছিলেন জঙ্গলমহলে। তৃণমূল ছেড়ে এখন তিনি বিজেপিতে। দলত্যাগের পর রবিবার প্রথম এলেন পুরুলিয়ায় (Purulia)। যোগ দিলেন রোড শোতে। আগের গুলির মতো এদিনও শুভেন্দুর রোড শোতে বিপুল সংখ্যক মানুষ উপস্থিত থেকে চার কিলোমিটার রাস্তা হাঁটছেন। দুপুর ২.৩০ নাগাদ মিছিল শুরু হয় পুরুলিয়ার কাশিপুর বিধানসভার অন্তর্গত রাজবাড়ী মোড় থেকে। মিছিল শেষ হওয়ার কথা কাশিপুর হাটমোড়ের কাছে। এই দীর্ঘ পথ মানুষ অতিক্রম করছেন চরম উৎসাহ এবং উদ্দীপনার সঙ্গে।

শুভেন্দুর সঙ্গে গেরুয়া রঙের সুসজ্জিত ট্যাবলোয় ছিলেন পুরুলিয়া জেলা বিজেপি সভাপতি বিদ্যাসাগর চক্রবর্তী, স্থানীয় সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতোসহ জেলা নেতারা। মিছিল যত এগিয়েছে ততই সেটার কলেবর বৃদ্ধি পেয়েছে। অবিভক্ত মেদিনীপুরে শুভেন্দু বেশ কয়েকটি রোড শো এবং জনসভা করেছেন। বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর এই প্রথম তিনি মেদিনীপুরের বাইরে নিজের উদ্যোগে জনসভা এবং রোড শো করছেন। তৃণমূল ছাড়ার পরেও পুরুলিয়া জেলায় তাঁর পক্ষে কতটা জনসমর্থন রয়েছে, সেটা দেখে নেওয়ার পালা ছিল শুভেন্দুর। এক কথায় বলা যায় এক্ষেত্রে তিনি লেটারমার্কস পেয়েছেন। এখানে শুভেন্দুর কোর টিমের নেতাকর্মীরা কর্মসূচি সফল করার জন্য সকাল থেকেই আদাজল খেয়ে মাঠে নেমে পড়েছিলেন।

দল ছাড়ার পরেও মানুষের সমর্থন যেভাবে রয়েছে শুভেন্দুর সঙ্গে, তাতে তিনি আপ্লুত। মিছিলের শুরুতে তিনি বলেন,” তৃণমূলে যখন ছিলাম তখন কারও সঙ্গে মিশতে পারতাম না। বিজেপি নেতা-নেত্রীদের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত সম্পর্ক তৈরি হতেই পারে। কিন্তু তৃণমূল সেই সংস্কৃতিতে বিশ্বাসী ছিল না। আজ এখানে এসেছি সবার সঙ্গে আলাপ পরিচয় এবং সম্পৃক্ত পরিস্থিতি তৈরির জন্য। পুরুলিয়ায় ১৫ দিন অন্তর আসব। জেলাজুড়ে কর্মসূচি পালন করব বিজেপির কর্মী হয়ে। আগে সবাই বলছিল এখানে বিজেপি সর্বাধিক সাতটি আসনে জিততে পারে। কিন্তু আজ যা মানুষের উপস্থিতি দেখছি, তাতে মনে হচ্ছে জেলার নটি আসনেই বিজেপি জিতবে।” রবিবার কি তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান করবেন কেউ কেউ?

আরো পড়ুন : আপনাদের মতো করে বুঝে নিন! নিজের পোস্ট নিয়ে বললেন তৃণমূলের সুদীপ

এ প্রশ্নের উত্তরে শুভেন্দু বলেন,” যোগদান করানোটা আমার কাজ নয়। আমাকে কেউ প্রস্তাব দিতে পারেন। আমি সেটা পাঠিয়ে দিই পুরুলিয়া জেলা বিজেপি সভাপতি বিদ্যাসাগর চক্রবর্তীর কাছে। তিনি খোঁজ নিয়ে দেখবেন সেই নেতা বা কর্মী কি ধরনের মানুষ। কয়লা- কান্ডের নায়ক লালার কাছ থেকে প্যাকেট নেয় কিনা। এসব দেখে যোগদান করানো হবে”। অর্থাৎ শুভেন্দু ভালো করেই জানেন বিজেপি কতটা শৃঙ্খলাবদ্ধ দল। সেই সূত্রেই তিনি যোগদানের বিষয়টি পুরোপুরি ছেড়ে দিয়েছেন জেলা নেতৃত্বের উপরে। গত লোকসভা নির্বাচনে ফলের ভিত্তিতে এই জেলায় আটটি আসনে এগিয়ে রয়েছে বিজেপি। শুধুমাত্র মানবাজার আসনে এগিয়ে তৃণমূল (tmc)।

বলা যায় এই জেলার প্রতিটি আসনে বিজেপি (bjp) জেতার অন্যতম দাবিদার বিধানসভা নির্বাচনে। সেই সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে এদিন মিছিলের কলেবর দেখে। হাজার হাজার মানুষ সামিল হয়েছেন মিছিলে। যাত্রাপথ মুড়ে দেওয়া হয়েছে গেরুয়া পতাকায়। সেই প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন,” লোকসভায় বিজেপি জিতেছে। পঞ্চায়েত ভোটে পুরুলিয়া এবং ঝাড়গ্রামে বিজেপি জেলা পরিষদ দখল করেছিল আমি জানি। কিন্তু মধ্যরাতে গণনায় কারচুপি করে বিজেপিকে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে। পুরুলিয়া আমার অত্যন্ত চেনা জায়গা। কিন্তু তখন তৃণমূলে ছিলাম। ওটা দল নয়, একটা কোম্পানি। সেখানকার তোলাবাজ ভাইপো বিনয় মিশ্রদের সঙ্গে নিয়ে পুরুলিয়ার পরিবেশ নষ্ট করেছে। মানুষ ভোটে এর জবাব দেবে”।