বেশি চিনি খাওয়া কি খারাপ, কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা ?

1 min read

।। শর্মিলা মিত্র ।।

জানেন কী অতিরিক্ত চিনিতেই লুকিয়ে রয়েছে বিপদ ? পুষ্টিহীন ক্যালোরি হল চিনি। চিনি খেলে যেমন ওজন বাড়ে। তেমনই ডায়াবিটিস থাকলে বাড়ে তার প্রকোপও। এ ছাড়াও মাত্রা ছাড়া চিনি খেলে ক্ষতি হয় হার্ট ও লিভারেরও। অতিরিক্ত চিনি খেলে ওঠা–নামা করে হরমোনের মাত্রাও। বাড়ে কোলেস্টেরল–ট্রাইগ্লিসারাইড। বাড়ে কিছু ক্ষেত্রে ক্যানসারের আশঙ্কাও। হ্যাঁ এমনটাই জানাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা।

আরও জানা গিয়েছে যে, সংক্রামক রোগে যত না মানুষ আক্রান্ত হন, তার চেয়েও ঢের বেশি মানুষ আক্রান্ত হন বা অসুস্থ হন চিনির বিষক্রিয়ায়। অতিরিক্ত চিনি খাওয়ার ফলে নানা রোগে প্রতি বছর প্রায় সাড়ে তিন কোটি মানুষ মারা যান বলে নেচার পত্রিকায় প্রকাশিত একটি রিপোর্টে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেব অনুযায়ী, সারাদিনে পুরুষদের ৯ চামচ ও মহিলাদের ৬ চামচের বেশি চিনি খাওয়া বারণ। আমেরিকান সরকারের ডায়াটেরি গাইড লাইন অনুযায়ী, দিনে যত ক্যালোরি আমরা খাই, চিনি থেকে সেই ক্যালোরির ১০ থেকে ১৫ শতাংশের কম আসা উচিত। কিন্তু বিভিন্ন সমীক্ষা থেকে দেখা গিয়েছে যে, আমেরিকান সরকারের ডায়াটেরি গাইড লাইন খুব কম মানুষই মানেন। ১০ থেকে ১৫ শতাংশ তো দূর, চিনি থেকে কখনও ক্যালোরি ২৫ শতাংশও ছাড়িয়ে যায়।

করোনা আবহের মধ্যে এর প্রতিক্রিয়া যে কী হতে পারে, তা বলাই বাহুল্য। কারন, ওজন বাড়লে, ডায়াবিটিস ও রক্তচাপ মাত্রা ছাড়ালে, হৃদরোগের আশঙ্কা বাড়লে বাড়ে কোভিডের আশঙ্কা, বাড়ে জটিলতাও বলে মত হরমোন চিকিৎসক সতীনাথ মুখোপাধ্যায়ের।

আরো পড়ুন : এসআইআই ৫টি কোভিড-১৯ টিকার ১ বিলিয়ন ডোজ তৈরি করছে

জানা গিয়েছে, শুধু চিনি বা মিষ্টি বলে নয়, লো–ফ্যাট ও প্রসেসড ফুডেও অতিরিক্ত চিনি ও আরও অন্যান্য ক্ষতিকর উপাদানের কারণে রয়েছে একই বিপদ। তাই করোনা মহামারির সময়ে চিনি, লো–ফ্যাট ও প্রসেসড খাবার খাওয়া যথাসম্ভব কমান উচিত বলে মত চিকিৎসকদের।

এই বিষয়ে পুষ্টিবিদ প্রিয়াঙ্কা মিশ্র জানান, খাবারকে প্রসেস করে তার থেকে অতিরিক্ত ফ্যাট বার করে নিলে, খাবারের স্বাদ–গন্ধ চলে যায় তলানিতে। খাবারের স্বাদ–গন্ধ ফেরত আনতে তখন তাতে মেশানো হয় হোয়াইট সুগার, ব্রাউন সুগার, হাই ফ্রুকটোজ কর্ন সিরাপ, অ্যাগাভে নেক্টর ইত্যাদি নানা নামের চিনি। ফলে ফ্যাট কমে গেলেও, ক্যালোরি কিন্তু কমে না। বরং পুষ্টি কমে যায়।

পাশাপাশি আরও জানা গিয়েছে যে, খেতে মিষ্টি হোক বা না হোক প্রসেসড খাবারেও থাকে প্রচুর পরিমাণে চিনি। প্রসেসড খাবারের পাশাপাশি একই অবস্থা প্যাকেটের ফলের রস, বিয়ার, সস, কেচাপ, ক্যান্ডি, নরম পানীয় ইত্যাদিরও। তাই কোভিড আবহের মধ্যে এ সব খাবার যথাসম্ভব না খাওয়া উচিত বলে মত চিকিৎসকদের।

আর তাও যদি, খাওয়ার পর একটু মিষ্টি না খেলে মন না ভরে ? তাহলে চিকিৎসকদের মতে, কৃত্রিম চিনি না খেয়ে খান প্রাকৃতিক চিনি। যেমন গুড়, আখের রস, নারকেল চিনি, খেজুর, কিসমিস বা অন্য শুকনো বা টাটকা ফল। তবে তাও মাত্রা রেখে খাওয়া উচিত বলে মত চিকিৎসক থেকে শুরু করে বিশেষজ্ঞ সকলেরই।

পাশাপাশি চিনিতে থাকে সালফার ডাই-অক্সাইড নামের এক ক্ষতিকর রাসায়নিক। যার প্রভাবে বাড়তে পারে শ্বাসকষ্টের প্রকোপ। যা কোভিড আবহের মধ্যে বাড়ায় চিন্তা। তাই, বিশেষজ্ঞদের মতে সতর্ক হয়ে লাগাম টানুন চিনি খাওয়াতে।

Categories