দুর্গাকাহিনীর সূচনা (দ্বিতীয় পর্ব)

1 min read

।। শর্মিলা মিত্র ।।

আকাশে বাতাসে পেঁজা মেঘের ভেলা জানান দিচ্ছে দেবী দুর্গার আগমনী বার্তা। কাশফুলের গন্ধে বিভোর চারিদিক। আর তারই মধ্যে লক্ষ্মী, সরস্বতী, গণেশ ও কার্তিক এবং সিংহ ও অন্যান্য বাহনদের সঙ্গে করে নিয়ে কৈলাশ থেকে মর্তাধামে নিজের ভক্তদের মধ্যে আসেন দেবী দুর্গা।

মা দুর্গার আগমনের এই চারদিন আনন্দে মেতে ওঠেন সকলে। হাজার আলোর রোশনাইতে ভরে ওঠে চারিধার।বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে রয়েছে নানান মতবাদ। আমরা দুর্গা কাহিনীর প্রথম পর্বে জেনেছি পুরাণমতে দুর্গাপুজো ও অকাল বোধনের কথা। দুর্গাকাহিনীর সূচনার দ্বিতীয় ও শেষ পর্বে জানবো দুর্গাপুজোকে নিয়ে আরও কিছু কথা।

বাংলায় প্রথম দুর্গাপুজো

বাংলায় কবে ও কারা প্রথম দুর্গাপুজোর প্রচলন করেছিলেন তা নিয়ে রয়েছে অনেক মতভেদ। ইতিহাসের পাতা ঘাঁটলে জানা যায়, বাংলায় প্রথম দুর্গাপুজো শুরু হয় ১৫০০ সালে। জানা যায়, বাংলায় প্রথম দুর্গাপুজো শুরুর পরিকল্পনা গ্রহণ করেন দিনাজপুর ও মালদার জমিদাররা। কারও মতে, জানা যায়, প্রথম সাড়ম্বরে দুর্গাপুজো শুরু করেন তাহেরপুরের রাজা কংসনারায়ণ। আবার কারও মতে, বাংলায় প্রথম শারদীয়া পুজোর সূচনা করেন নদিয়ার ভাষানন্দ মজুমদার।

বারোয়ারি পুজো

জানা যায়, জমিদার ও বাবু ঘরানার বাইরে বেরিয়ে প্রথম শারদীয়া পুজো সবর্জনীন হয়ে ওঠে ১৯১০ সালে।প্রথম সাধারণ মানুষের জন্য কলকাতার বাগবাজারে শুরু হয় সর্বজনীন দুর্গাপুজো।

কুমারী পুজো

নিজের চার সন্তানকে নিয়ে প্রতিবছর চারদিনের জন্য মর্তাধামে অর্থাৎ নিজের বাপের বাড়ি ঘুরেত আসেন দেবী ঊমা। এই চারদিনের মধ্যে বিভিন্ন রূপে পূজিত হন দেবী দুর্গা। দেবী দুর্গার বিভিন্ন রূপের মধ্যেএকটি অন্যতম রূপ হল কুমারী রূপ। হিন্দুশাস্ত্র অনুযায়ী, মহাশক্তির সবচেয়ে দৃঢ় রূপ বলে মনে করা হয় এই দেবীর এই কুমারী রূপকে। কখনও অষ্টমীর দিন তো কোথাও কখনও নবমীর দিন এক থেক ষোলো বছরের মেয়েদের দেবীর কুমারী রূপ হসাবে পুজো করা হয়। ১৯০২ সালে প্রথম কুমারী পুজোর প্রচলন হয় বেলুড় মঠে।

কলাবউ ও নবপত্রিকা

দুর্গাপুজোয় গণেশের সঙ্গেই পুজো করা হয় কলাবউ-এরও। কথায় বলে কলাবউ হল গণেশের বউ। কিন্তু, বাস্তবে গণেশের সঙ্গে কোনও সম্পর্কই নেই কলাবউ-এর। শাস্ত্র অনুসারে একে বলা হয় নবপত্রিকা।জানা যায়, ফসলের সম্বৃদ্ধির জন্য পালিত হওয়া জনপ্রিয় একটি প্রাচীন রীতি হল নবপত্রিকা। শরৎকালে কলাগাছ, বেলগাছ, ডালিমগাছ, জয়ন্তীগাছ, কচুগাছ, মানকচু, ধানগাছ, হলুদগাছ ও অশোকগাছ এই ৯টি বৃক্ষকে পুজো করা হত। পরে যখন দুর্গাপুজা জনপ্রিয় হয়ে ওঠে তখন নবপত্রিকার রীতিকেও দুর্গাপুজার অন্তর্ভূক্ত করা হয়। দুর্গাপুজোয় নবপিত্রকার প্রতিনিধি হিসেবে দুর্গাপুজোর মন্ডপে রাখা হয় কলাগাছকে।
সপ্তমীর দিন সকালে নবপিত্রকার স্নান ও পুজোর মধ্যে দিয়ে শুরু হয়ে যায় দুর্গাপুজো।দুর্গা পুজোকে কেন্দ্র করে মেতে ওঠেন আট থেকে আশি সকলেই।