দুর্গাকাহিনীর সূচনা (প্রথম পর্ব)

।। শর্মিলা মিত্র ।।

মহিষাসুরমর্দিনী তো কখনও দেবী দুর্গা। কখনও তিনি মহামায়া তো কখনও তিনি দেবী ঊমা।
এইভাবেই বিভিন্ন নামে মর্তে পূজিত হন দেবী দুর্গা।দেবী দুর্গার শারদীয়া উৎসবকে কেন্দ্র করে মেতে ওঠে আপামর বাঙালি। লক্ষ্মী, সরস্বতী, গণেশ, কার্তিককে নিয়ে এই চারদিন কৈলাশ থেকে মর্তে নেমে আসেন দেবী দুর্গা। বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে রয়েছে নানান মতবাদ।

পুরাণমতে দুর্গাপুজো

পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে, ব্রহ্মার বরদান পেয়ে অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠে অসুররাজ মহিষাসুর। সেইসময়ে অসুরবাহিনীর কাছে পরাস্ত হয়ে সিংহাসনচ্যুত হন দেবরাজ ইন্দ্র।আর এরপরই স্বর্গ থেকে বিতাড়িত হন দেবতাগণ। সমস্যার সমাধানের জন্য ভগবান বিষ্ণুর দ্বারস্থ হন দেবতারা।


কিন্তু, মহিষাসুরকে বধ করার কোনও কৌশলই খুঁজে পাচ্ছিলেন না তারা। কারণ ব্রহ্মার বরদান অনুযায়ী, মহিষাসুরকে বধ করতে পারবে না কোনও পুরুষ বা কোনও দেবতা। তাই অপ্রতিরোধ্য অসুররাজ মহিষাসুরকে বধ করার লক্ষ্যে ব্রহ্মা, বিষ্ণু, মহেশ্বরের তেজ থেকে জন্ম হয় দেবী মহামায়ার।

হিন্দুশাস্ত্র মতে, কাত্যায়ণ ঋষির আশ্রমে জন্ম হওয়ার কারনেই দেবী দুর্গার আর এক নাম কাত্যায়ণী। পুরাণ মতে, কাত্যায়ণ ঋষির আশ্রমেই শুক্লসপ্তমী, অষ্টমী ও নবমী এই তিনদিন আরাধনার মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গার আবাহন করেন ঋষি কাত্যায়ণ। এরপর, চতুর্থদিন অর্থাৎ দশমীর দিন মহিষাসুরকে বধ করে দেবী হয়ে ওঠে মহিষাসুরমর্দিনী।

অকাল বোধন

অন্য আরেকটি মতবাদ অনুযায়ী, রাবণের সঙ্গে যুদ্ধে যাওয়ার আগে দেবী দুর্গাকে তুষ্ট করে দেবীর আবাহন করেন অযোধ্যার রাজা রামচন্দ্র। শরৎকালে আশ্বিন মাসের দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে যে শারদীয়া উৎসব সংগঠিত হয় তারই আরেক নাম অকাল বোধন। অকালে দেবীর বোধন হয় বলেই শারদীয়া উৎসবের আরেক নাম অকাল বোধন।

পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে, ১০৮টি নীলপদ্ম দিয়ে দেবী দুর্গাকে পুজো করার উদ্দেশে যখন ১০৭টি নীলপদ্ম পেলেও আর একটি পদ্ম কোথাও না পেয়ে নিজের একটি চোখ দেবীর কাছে সমর্পণ করার সিদ্ধান্ত নেন রামচন্দ্র। রামচন্দ্রের এই সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট হয়ে রামের সামনে প্রকট হয়ে তাঁকে আশীর্বাদ দেন দেবী দুর্গা।

এরপর, সপ্তমীর দিন রাবণের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হয় রামচন্দ্রের। ভয়াবহ যুদ্ধ চলার পর অবশেষে অষ্টমী ও নবমীর সন্ধিক্ষণে রামচন্দ্রের হাতে মৃত্যু হয় রাবণের। দশমীর দিন শবদাহ হয় রাবণের। আর এই ঘটনার কারণেই আজও শারদীয়া উৎসবের পরই সারাদেশ জুড়ে পালিত হয় দশেরা।