তেল আমদানির খরচ কমাতে ‘ইন্দো-বাংলা মৈত্রী পাইপলাইন’

1 min read

।। চট্টগ্রাম ব্যুরো,বাংলাদেশ ।।

বাংলাদেশে বর্তমানে জ্বালানি তেলের চাহিদা প্রায় ৭০ লাখ মেট্রিক টন। বিদেশ থেকে আমদানি হচ্ছে প্রায় ৬৭ লাখ মেট্রিক টন। সিস্টেম লস আর আমদানি খরচের গ্যাঁড়াকলে এসব তেল বিপণনে আর্থিক লোকসানসহ নানা সমস্যার সম্মুখীন হয় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। আর এই আমদানির খরচ এবং সিস্টেম লস কমাতে ‘ইন্দো-বাংলা মৈত্রী পাইপলাইন’ নির্মাণে চুক্তি হয় দু’দেশের মধ্যে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি থেকে বাংলাদেশের দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর তেল ডিপো পর্যন্ত বসানো হচ্ছে ১৩১.৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পাইপলাইন।

পাইপলাইনটি সম্পন্ন হলে আমদানিকৃত জ্বালানি তেলের একটি বড় অংশ আসবে এই পাইপলাইনের মাধ্যমে। যার ব্যয় ধরা হয় ৪২৯ কোটি টাকা। পাইপ লাইন স্থাপনের এই পুরো অর্থায়ন করছে ভারত। ১৫ বছর মেয়াদি এই চুক্তি অনুযায়ী, এ পাইপলাইনের বার্ষিক পরিবহন ক্ষমতা হবে ১০ লাখ টন। তবে ১৫ বছরের মধ্যে প্রথম তিন বছর আড়াই লাখ টন, এর পরের তিন বছর ৩ লাখ টন, সপ্তম থেকে ১০ম বছর পর্যন্ত সাড়ে তিন লাখ টন এবং ১১ থেকে ১৫তম বছর পর্যন্ত বার্ষিক ৪ লাখ টন ডিজেল আমদানি করা হবে। যার পরিমাণ চাহিদা অনুযায়ী কমানো ও বাড়ানো যাবে।

এদিকে পাইপলাইন স্থাপনের সম্পূর্ণ ব্যয় ভারত বহন করলেও তেল গুদামজাত করতে ট্যাংক নির্মাণ ও কাজ সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় ভূমি অধিগ্রহণের ব্যয় বহন করতে হবে বাংলাদেশ সরকারকে। এরইমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে ভূমি অধিগ্রহণের কাজ। চলমান রয়েছে পার্বতীপুরে নতুন ডিপো নির্মাণে টেন্ডার প্রক্রিয়া। কারণ, ভারত থেকে আমদানি করা ডিজেল গুদামজাত করার ধারণ ক্ষমতা নেই পার্বতীপুরের বর্তমান ডিপোতে। তাই শুধুমাত্র এ প্রকল্পের জন্যই আরও একটি নতুন ডিপো নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয় বিপিসি। যার নির্মাণে এরই মধ্যে ঠিকাদারদের দরপত্র গ্রহণ করেছে বিপিসি।

আরো পড়ুন : চট্টগ্রামে চালু হতে চলেছে বিশ্বমানের ক্যন্সার হাসপাতাল

প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, এ প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশের ৩টি জেলা থেকে অধিগ্রহণ করা হয়েছে ১৮৫.৪৪৪ একর ভূমি। কাজ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত হুকুম দখলের আওতায় নেয়া হয় আরও ১২৬.৫২৩ একর জমি। হুকুম দখলের আওতায় নেয়া এসব জমি কাজ শেষ হলে সংশ্লিষ্ট মালিককে বুঝিয়েও দেয়া হবে। এরমধ্যে পঞ্চগড় জেলা থেকে অধিগ্রহণ করা হয় ১১৯.৯২৪ একর ও হুকুম দখলের আওতায় নেয়া হয় ৮৩.৫৯৩ একর জমি। দিনাজপুর জেলায় অধিগ্রহণ করা হয় ৫১.২৪ একর ও হুকুম দখলের আওতায় নেয়া হয় ৩৩.৪৪ একর ও নীলফামারিতে অধিগ্রহণ করা হয় ১৪.২৮ একর ও হুকুম দখলের আওতায় নেয়া হয় ৯.২৪ একর। শুধু তাই নয়, ভারত শিলিগুড়ি থেকে বাংলাদেশের পার্বতীপুর পাইপলাইনের কেবল ৫ কিলোমিটার ভারতের অংশে।

বাকি ১২৬.৫ কিলোমিটার বাংলাদেশ অন্তঃবর্তী। এরইমধ্যে বংলাদেশের ২৫ কিলোমিটারে বসানোর জন্য পাইপ চলে এসেছে। চলতি বছরেই বাংলাদেশের ভূমির তলদেশে শুরু হবে এসব পাইপ স্থাপনের কাজ। এছাড়া আমদানি করা ডিজেল তেল মজুত করতে পার্বতীপুরে নির্মাণ করা হচ্ছে সম্পূর্ণ নতুন একটি ডিপো। যেখানে নির্মাণ করা হবে ৬টি অয়েল ট্যাংক ও ২টি ফায়ার ওয়াটার ট্যাংক। ভারত থেকে পাইপলাইনে আসা ডিজেল তেল মজুত করতেই এই ট্যাংক নির্মাণ করা হচ্ছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। বিপিসির এক কর্মকর্তা জানান, চুক্তির পর এবার বাস্তবায়নের অপেক্ষায় পাইপলাইন। সকল ধরনের প্রস্তুতি শেষ আমাদের।

জমি অধিগ্রহণ থেকে শুরু করে অন্যসব পরিকল্পনাও শেষ। এরইমধ্যে ৩টি জেলা থেকে অধিগ্রহণ করা হয়েছে ১৮৫.৪৪৪ একর ভূমি। কাজ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত হুকুম দখলের আওতায় নেয়া হয় আরও ১২৬.৫২৩ একর জমি। এরইমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে পার্বতীপুরে ডিপো নির্মাণের টেন্ডার কার্যক্রম। বাংলাদেশে চলে এসছে ২৫ কিলোমিটার তলদেশের পাইপ। বর্ষায় এতদিন কাজ শুরু করতে না পারলেও চলতি বছরেই বাংলাদেশ অংশে কাজ শুরু হবে। এছাড়া এই পাইপলাইন নির্মিত হলে দেশের উত্তরাঞ্চলে শুষ্ক মৌসুমে ডিজেলের সরবরাহ নিশ্চিত হবে। চট্টগ্রাম থেকে পার্বতীপুর পর্যন্ত সড়ক ও রেলপথে তেলের পরিবহন ব্যয়, অপচয় এবং ক্ষতি কমবে।

Categories