বাংলাদেশে চালের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে শুল্ক কমিয়ে আমদানি হবে

1 min read

।। চট্টগ্রাম প্রতিনিধি, বাংলাদেশ ।।

সরকার চালের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে শুল্ক কমিয়ে চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাজারের চালের পরিমাণ নিয়ে ব্যবসায়ী ও সরকারের মন্তব্যে পারস্পরিক বিরোধ সৃষ্টি হয়। তবে শুল্ক কমিয়ে চাল আমদানির সিদ্ধান্তে বাজারে চালের কোনো সংকট থাকবে না বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা। তারা মনে করছে, এ সিদ্ধান্তটি সময়োপযোগী ও প্রাসঙ্গিক একটি সিদ্ধান্ত। তাই চালের বাজার স্থিতিশীল রাখতে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন প্রয়োজন।

মিল মালিকরা চুক্তিমূল্যে সরকারকে চাল সরবরাহ না করায় সরকার শুল্ক কমিয়ে বিদেশ থেকে আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ প্রসঙ্গে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদারকে উদ্ধৃত করে মঙ্গলবার খাদ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘কারসাজি ঠেকাতে ও চালের বাজার স্থিতিশীল রাখার স্বার্থে প্রয়োজনে আমদানি শুল্ক কমিয়ে প্রয়োজন মতো চাল বিদেশ থেকে আমদানি করা হবে।’

এ বিষয়ে কথা বলা হয় চট্টগ্রামের পাহাড়তলী চাল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ওমর আজমের সাথে। তিনি বলেন, ‘শুল্ক কমিয়ে চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। কিন্তু এখনো এ বিষয়ে কোনো আদেশ আসেনি। তবে এ আদেশ জারি করা হলে ব্যবসায়ীসহ সকলের জন্য ভালো হবে। কেননা বাজারের প্রকৃত অবস্থার তথ্য সরকারের কাছে পাঠানো হয় না। তথ্যগুলোর দফায় দফায় নয়-ছয় হয়। তাই সরকার মনে করে বাজারে চাল আছে, আসলে কিন্তু নেই।’

ব্যবসায়ীরা চাল মজুদ করেও চালের দাম বৃদ্ধি করতে পারে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কোরবানির দুই দিন আগেও বস্তা (৫০ কেজি) প্রতি ধানের দাম ছিল ৯২০ টাকা। বর্তমানে একই বস্তার দাম ১ হাজার ৩০ টাকা‌। এটি চালের হিসেবে দেড়-দুইশ’ টাকা বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা যদি চাল মজুদ করে, তাহলে তারা মুনাফার লোভে করে। এখন চালের দাম যেহেতু বেড়েছে, তাদের কাছে যদি চাল থাকতো তাহলে তারা তা ছেড়ে দিতো। শুল্ক কমিয়ে চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা শুনেও তারা চাল মজুদ করতো না। আসলে সরকারের কাছে তথ্য যারা পাঠায়, তারা মাঠ পর্যালোচনা না করেই তথ্য পাঠানোর কারণে এমন সংকট সৃষ্টি হয়।’

জানা যায়, বর্তমানে পাইকারি বাজারে বস্তা (৫০ কেজি) প্রতি সিদ্ধ চাল ২ হাজার ২৭০ টাকা, ২৮ আতপ ২ হাজার ১৫০ টাকা, ২৯ আতপ ২ হাজার টাকা এবং সুনামগঞ্জের আতপ (নিম্নমান) ১ হাজার ৯২০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এ বছর ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে এবং কৃষক ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে। তা সত্ত্বেও চালের বাজার অস্থিতিশীল করা হলে এবং চালকল মালিকরা সরকারের সঙ্গে করা চুক্তি অনুযায়ী সরকারি খাদ্যগুদামে সঠিক সময়ের মধ্যে চাল সরবরাহ করতে গড়িমসি করলে কৃষকের স্বার্থ ও চালের বাজার দর উভয়ের মধ্যে সমন্বয় করে প্রয়োজনে আমদানি শুল্ক কমিয়ে প্রয়োজনমতো চাল বিদেশ থেকে আমদানি করার কথা ভাবছে সরকার।

চলতি বছর সাড়ে ১৯ লাখ মেট্রিক টন বোরো ধান-চাল কেনার লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করে সরকার।চট্টগ্রাম জেলা খাদ্য অধিদপ্তরের সূত্রমতে, আতপের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ১০ হাজার মেট্রিক টন, সংগ্রহ হয়েছে ৩ হাজার মেট্রিক টন, সিদ্ধ ২ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন, সংগ্রহ হয়েছে ৩০০ মেট্রিক টন।

এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলা খাদ্য অধিদপ্তরের জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আবু নঈম মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘চট্টগ্রাম জেলায় চালের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল, আমরা তার ৪০ শতাংশের মতো সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছি। তবে উৎপাদন কেমন হয়েছে, এ বিষয়ে কৃষি অধিদপ্তরের কাছে বিস্তারিত তথ্য থাকবে।’

চালের বর্তমান বাজার ও শুল্ক কমিয়ে আমদানি করা প্রসঙ্গে কথা বললে অর্থনীতিবিদ ও অধ্যাপক ড. মইনুল ইসলাম বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা কতটুকু সত্য বলছে, তা বুঝা মুশকিল। এরপরেও সরকারকে সঠিক তথ্য নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। এছাড়া শুল্ক কমিয়ে চাল আমদানির সিদ্ধান্ত খারাপ নয়। যেভাবেই হোক, রাষ্ট্রের জনগণ সুলভে চাল কেনার ব্যবস্থা করে দেয়াটা অবশ্যই শুভ লক্ষণ। এখন এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে এবং ব্যবসায়ীরা অন্য কোনো ছলা-কলা না করলে চালের বাজার স্থিতিশীল থাকবে বলে আশা করি।’