জুনে বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে ৩৬৮ জন

1 min read

।। মনির ফয়সাল, বাংলাদেশ ।।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতিতে সীমিতভাবে গণপরিবহন চললেও থেমে নেই সড়ক দুর্ঘটনা। গত জুন মাসে দেশে ৩৫৮টি সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৩৬৮ জন। এছাড়া আহত হয়েছে ৫১৮ জন। একই সময় রেলপথে ২০টি দুর্ঘটনায় ১৫ জন নিহত ও চারজন আহত হয়েছে। এছাড়া নৌ-পথে ১৭ টি দুর্ঘটনায় ৪৫ জন নিহত ও ৬০জন আহত এবং ১০ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

রোববার (১২ জুলাই) বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, জুন মাসে সড়কে দুর্ঘটনায় আক্রান্তদের মধ্যে ১৬২ জন চালক, ১২৫ পরিবহন শ্রমিক, ১১৩ পথচারী, ৬২ নারী, ৫৭ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে ২১ বিজিবি, ১৮ আনসার, ১৩ পুলিশ ও পাঁচজন সেনাবাহিনীর সদস্য, ২৮ শিশু, ২৩ শিক্ষার্থী, ১১ রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, ৭ শিক্ষক, একজন চিকিৎসক, একজন মুক্তিযোদ্ধা এবং একজন প্রকৌশলী রয়েছে।

এর মধ্যে ৩৪ দশমিক ৯ শতাংশ ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান, ২৪ দশমিক ১৫ শতাংশ মোটরসাইকেল, ১২ দশমিক ১ শতাংশ বাস, ৯ দশমিক ২৪ শতাংশ নছিমন-করিমন, ৮ দশমিক ১১ শতাংশ সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ৭ দশমিক ১৫ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক, ৪ দশমিক ৩৪ শতাংশ কার-জিপ-মাইক্রোবাস সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে।

সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা সংঘঠিত হয় ৮ জুন। ওই দিনে ২২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২১ জন নিহত এবং ২৫ জন আহত হয়। সবচেয়ে কম সড়ক দুর্ঘটনা সংঘঠিত হয় ১০ জুন। ৮টি সড়ক দুর্ঘটনায় চারজন নিহত এবং ১৪ জন আহত হয়। মোট দুর্ঘটনার ৫১ দশমিক ১২ শতাংশ গাড়ি চাপা দেওয়ার ঘটনা, ২৪ দশমিক ৫৮ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষ, ১৫ দশমিক ৮ শতাংশ খাদে পড়ে, ৭ দশমিক ৫৪ শতাংশ বিবিধ কারণে, ১ দশমিক ১২ শতাংশ ট্রেন-যানবাহন সংঘর্ষ এবং ০ দশমিক ৫৬ শতাংশ চাকায় ওড়না পেছিয়ে দুর্ঘটনা ঘটেছে।

পরিসংখ্যানে দুর্ঘটনার ধরণ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এ মাসে মোট সংঘটিত দুর্ঘটনার ৪৮ দশমিক ৬ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে, ৩১ দশমিক ৫৬ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ১৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ ফিডার রোডে সংঘটিত হয়। এছাড়াও সারা দেশে সংঘটিত মোট দুর্ঘটনার ২ দশমিক ৭৯ শতাংশ ঢাকা মহানগরীতে, ১ দশমিক ৯৫ শতাংশ চট্টগ্রাম মহানগরীতে ১ দশমিক ১২ শতাংশ রেলক্রসিংয়ে সংঘটিত হয়।

মে মাসের তুলনায় জুন মাসে সড়ক দুর্ঘটনা ৫৬ দশমিক ১৪ শতাংশ, নিহত ৫৭ দশমিক ৩৪ শতাংশ ও আহতের হার ৪৩ দশমিক ৮২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। মে মাসে ২১৩টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে, তাতে প্রাণ হারিয়েছেন ২৯২ জন। এছাড়াও আহত হয়েছেন আরও ২৬১ জন। নিহতের মধ্যে ৩৯ জন নারী ও ২৪ জন শিশু রয়েছে। এছাড়া ৯টি নৌ-দুর্ঘটনায় ৩২ জন নিহত ও ১৭ জন নিখোঁজ হয়েছে।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির মনে করে, সড়ক নিরাপত্তায় দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোর স্বেচ্ছাচারিতা, অনিয়ম, দুর্নীতি ক্রমাগতভাবে বৃদ্ধি ও জবাবদিহিতার অভাবে সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি বাড়ছে।

অন্যদিকে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন কর্মকর্তাদের মতে, সড়ক দুর্ঘটনার জন্য ফিটনেসবিহীন গাড়ি, দ্রুতগতি, অদক্ষ চালক, চালকের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা, বেতন ও কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট না থাকা ও দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাসহ ১০টি কারণ তুলে ধরে। দুর্ঘটনার হার কমিয়ে আনতে দক্ষ চালক বাড়ানো, সব মহাসড়কে রোড ডিভাইডার, চালকদের কাজের সময় নির্ধারণ, চালকের বেতন ও কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট করাসহ বিআরটিএর সক্ষমতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।

এম/বি