হাতিয়ায় জোয়ারের জলে ২৫ গ্রাম প্লাবিত, ভেসে গেছে ৫০ পরিবারের বসতঘর

।।চট্টগ্রাম ব্যুরো, বাংলাদেশ।।

বাংলাদেশের নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় টানা বর্ষণ ও অস্বাভাবিক জোয়ারের জলে বেড়িবাঁধ ভেঙে ২৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। জোয়ারের স্রোতে ভেসে গেছে প্রায় ৫০টি পরিবারের বসতঘর। অনেকে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে।

স্থানীয়রা জানায়, বুধবার থেকে শুরু হওয়া টানা বর্ষণ ও অস্বাভাবিক জোয়ারের জলে হাতিয়া উপজেলার নিঝুমদ্বীপ, সোনাদিয়া, তমরদ্দি, সূখচর, চরঈশ্বর, নলচিরা, হরনী ও চানন্দী ইউপির প্রায় ২৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, এ বছর বেড়িবাঁধ মেরামত না করায় ঘূর্ণিঝড় আম্পান পরবর্তী সময়ে জোয়ারের জলে এলাকাগুলো সহজে প্লাবিত হয়। এছাড়া নতুন করে সোনাদিয়া ইউপির মাইজচরা ও তমরদ্দি ইউপির ক্ষিরোদিয়া গ্রামে বেড়িবাঁধ ভেঙে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এ সময় জোয়ারের স্রোতে প্রায় ৫০টি পরিবারের বসতঘর ভেসে যায়। অনেকে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করতে দেখা যায়।

এদিকে আম্পান পরবর্তী ক্ষতিগ্রস্থ বেড়িবাঁধ মেরামত না করায় সূখচর ইউপির চরআমান উল্যা, বৌ বাজার, চেয়ারম্যান বাজার, নলচিরা ইউপির তুপানিয়া, নলচিরা ঘাট এলাকা, চরঈশ্বর ইউপির তালুদার গ্রাম, ফরাজী গ্রাম, ৭ নম্বর গ্রাম, মাইচচা মার্কেট এলাকা প্লাবিত হয়। এসব এলাকার প্রায় ২০ হাজার মানুষ জলবন্দি হয়ে পড়েছে।

চরইশ্বর ইউপি সদস্য কামরুল ইসলাম জানান, জোয়ারের পানিতে অনেকের বসতবাড়ি ডুবে গেছে। ভেসে গেছে পুকুরের মাছ। অনেকে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে। নলচিরা ঘাটের ৫টি দোকান জোয়ারের জলে ভেসে গেছে।

নিঝুম দ্বীপের স্থানীয়রা জানান, দ্বীপে বেড়িবাঁধ না থাকায় জোয়ারের পানিতে ৫ ফুট পানির নিচে তলিয়ে গেছে দ্বীপের অধিকাংশ এলাকা। এতে ঘেরের মাছ ছাড়াও ফসলের অনেক ক্ষতি হয়েছে।

হাতিয়া ইউএনও মো. রেজাউল করিম জানান, দ্রুত বেড়িবাঁধ মেরামতের জন্য জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।