Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

আমি একদম বেসুরো নই, আমি সুরেই রয়েছি, প্রথম কলকাতাকে জানালেন রুদ্রনীল ঘোষ

1 min read

।। শর্মিলা মিত্র ।।

রুদ্রনীল ঘোষ। এই নামটা বললেই অনেক কিছু ভিড় করে আসে আমাদের অনেকের চোখের সামনে। আমরা যারা এই প্রজন্মের। ছোট থেকে যারা নানা রূপে দেখেছি অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষকে। কখনও কমিক চরিত্রে তো কখনও সিরিয়াস কোন চরিত্রে। খুব ভালো বন্ধুর চরিত্রেও আমরা বহুবার দেখেছি তাকে। বয়স বাড়ার সঙ্গে অভিনয় জীবনেও যেমন পাল্টেছে তার অভিনয়ের দিশা। পাল্টেছে অভিনয়ের স্টাইল। পাল্টেছে তার অভিনীত চরিত্রের ধরনও। অন্যদিকে যদি একটু অভিনয় থেকে বেরিয়ে আসা যায়, তাহলে প্রথমে বামপন্থী মতবাদে বিশ্বাস। পরবর্তী সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) ভালোবেসে শ্রদ্ধা করে তার কাছে পৌঁছে যাওয়া। পাশাপাশি সরকারি পদে চাকরিও। এরপর হঠাৎ করোনা অতিমারির বঙ্গে প্রবেশ। লকডাউন সকলের গৃহবন্দী জীবন। কারও কারও ক্ষেত্রে জীবন জীবিকা নির্বাহের জন্য, তো কারও কাছে জীবনকে অন্যভাবে চেনার জন্য, অন্যভাবে তুলে ধরার জন্য প্রায় সকলেই খানিকটা হলেও মুঠোফোনের উপরই ভরসা করতে শুরু করেন।

ভরসা করতে শুরু করেন সোশ্যাল মিডিয়ার উপর। বন্ধু খুঁজতে শুরু করেন সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে। যখন প্রাসঙ্গিক সব ঘটনাতেই ভরে উঠছে সোশ্যাল মিডিয়ার পাতা। ঠিক সেই সময় আবারও সকলকে খানিকটা হলেও চমকে দিয়ে নতুন রূপে আত্মপ্রকাশ রুদ্রনীল ঘোষের (Rudranil Ghosh)। সোশ্যাল মিডিয়ায় সকলকে মোহিত করে তার লেখা কবিতায় নতুন করে কবিতা পাঠের নতুন স্টাইলে তার অগণিত অনুরাগীকে মোহিত করেন তিনি। পাশাপাশি সামাজিক জীব হিসেবে সমাজের প্রতি দায়িত্ববদ্ধতা থেকে বিভিন্ন সামাজিক কাজেও অংশ গ্রহণ করতেও দেখা যায় রুদ্রনীল ঘোষকে। আর এরই মধ্যে এবার বিধানসভা নির্বাচনের আগে যখন শাসক দলের বহু নেতা নেত্রীরাই বেসুরো। ঠিক সেই সময় বেসুরো সুর শোনা যাচ্ছে রুদ্রনীল ঘোষের (Rudranil Ghosh) গলাতেও। রাজ্য সরকারের দুর্নীতি নিয়েও সরব হতে দেখা যাচ্ছে তাকে।

অন্যদিকে, গেরুয়া শিবিরের সঙ্গেও প্রকাশ্যে আসছে তার সখ্যতাও। এবার এইসব কিছু নিয়েই প্রথম কলকাতার সামনে মুখ খুললেন রুদ্রনীল ঘোষ। তাকে কেন বেসুরো বলা হচ্ছে এই প্রশ্নের উত্তরে রুদ্রনীল ঘোষ বলেন, ‘বেশ কিছু মানুষই মনে করেন যারা শিল্পী হন তারা ঠান্ডা ঘরে বসে থাকেন। কোথাও নামেন না। তারা মেঘের উপর দিয়ে হাঁটেন। ফুলের সঙ্গে সময় কাটান। তারা রেশন বাজার জানেনা। জিনিসপত্রের দাম জানেনা। এটা একদম নয়। এসব একদমই ভুল। যারা অন্যান্য জীবিকা নির্বাহ করেন তারাও যা দেখতে পান আমরা শিল্পীরাও তাই দেখতে পাই।’ একইসঙ্গে রুদ্রনীল ঘোষ জানান যে, ‘থিয়েটার এবং রাজনীতি দুটি করেই তার বড় হওয়া। রাজনীতি শেখা বামপন্থা স্কুলে। পাশাপাশি মানুষের জন্য ভাবাটাও তখন থেকেই শেখা’ বলেও জানান তিনি। একইসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বামপন্থী আমলেও বহু শিল্পী অভিনেতা উঠে এসেছেন।

তেমনই এখনকার সময় যেমন দেব নুসরত মিমি আছেন তেমনই রয়েছেন লকেট চট্টোপাধ্যায়ও। সুতরাং শিল্পীরা কিছু জানেনা এমন কিন্তু নয়।’ অন্যদিকে, ‘দক্ষিণভারতের দিকে কিন্তু শিল্পীরাই রাজনীতিকে চালায়।’ বলেও উদাহরন দেন তিনি। পাশাপাশি তার মন্তব্য, ‘দীর্ঘ ৩৪ বছর ধরে দাদু ছেলে নাতি তারা সকলে প্রেম করেছিল লালের সঙ্গে। পশ্চিমবাংলার ভোটাররা সমর্থকরা প্রেম করেছিল লালের সঙ্গে। মানুষ লাল ছিল। তারপর আস্তে আস্তে সেই প্রেমে ধাক্কা খেয়েছ্ন তারা। ২০১১ সালে বদল হয়েছে। মানুষ বুঝিয়ে দিয়েছে। যে মানুষ প্রায় তিন পুরুষ ধরে লাল ছিল তারপর হয়ে গেল মানুষ সবুজ।’ ‘এরপর ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি দলটি সেভাবে নিজেদের গুছিয়ে না তুলতে পারলেও। ৪২ টি আসনের মধ্যে ২টি আসন থেকে বেড়ে ১৮টি আসন মানুষ দিলেন বিজেপিকে।’

রুদ্রনীল ঘোষের মন্তব্য, ‘মানুষ নিয়ে এসেছে বিজেপিকে। বিজেপি (bjp) মানুষকে নিয়ে আসেনি।’ পাশাপাশি তার মন্তব্য, ‘তাই মানুষ চাইছে কিছু একটা। অর্দ্ধেক পশ্চিমবঙ্গের ভোট বিধানসভার ভোট কাউন্ট করলে মানুষ লাল ছিলেন মানুষ সবুজ হলেন। আবার মানুষ গেরুয়ার পথে হলেন।’ পাশাপাশি ‘এই শেষ সময় নেতা মন্ত্রী চলে যাচ্ছে বা বেসুরো’ তার বক্তব্য ‘প্রেমিক যেমন আগে ছিল সেটা সুর ছিল। তারপর যখন মারামারি করে গালাগালি দিতে দিতে বাড়ি ফিরবে, কারও থেকে ধার নিলে শোনা যাচ্ছে দেয়নি। কার মানিব্যাগ তুলে নিয়েছে। যদি এরম কথা শুনি কোন প্রিয় মানুষের সম্পর্কে তখন প্রেমিকটা থাকবে ? নাকি আদর্শ প্রেমিকা হব বলে তার অবক্ষয় দেখে বারবার বলা সত্বেও কেন কাজ হয়নি। আমি তার সঙ্গে প্রেম করে যাব। এটাতো হয়না’ বলে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন রুদ্রনীল ঘোষ (Rudranil Ghosh)। তার মন্তব্য ‘সেই প্রেম মানুষও রাখেনি। আমিও তো একজন মানুষ। সমাজের একজন সাধারন মানুষ।’

একইসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি একদম বেসুরো বাজছি না। যে সুরের স্বপ্ন সারা পশ্চিমবঙ্গের মানুষ দেখেছিল। যে সুর নিয়ে প্রচুর শিল্পী লেখক বুদ্ধিজীবী আমরা অনেকেই সুরে রয়েছেন’ বলেও জানান তিনি। একইসঙ্গে এখন মুখ খোলা নিয়ে রুদ্রনীল ঘোষ জানান, ‘মুখ কে কখন খুলবেন তার ব্যাপার। কেউকি মানসিকভাবে তার অন্দরমহলে ঢুকতে গেছি।’ ‘রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় কেন মুখ খুললেন বৈশালী ডালমিয়া কেন মুখ খুললেন। এরাতো ভালো মানুষ সবাই জানে। অত্যন্ত ভদ্র সচেতন পরিবার থেকে উঠে আসা মানুষ। তাদের নামে তো কোন কেলেঙ্কারি নেই। তাদের কথা বাদ দিন যে সমস্ত শয়ে শয়ে হাজার হাজার লক্ষ লক্ষ মানুষ যারা তৃণমূল কংগ্রেসের বিপরীতে মিছিলে হাঁটছে। তাদের কী ধান্দা রয়েছে ?’ প্রশ্ন রুদ্রনীল ঘোষের (Rudranil Ghosh)। পাশাপাশি তার কাজ নিয়ে তার মন্তব্য, ‘যারা না জেনে তার সরকারি কাজ নিয়ে সমালোচনা করেছিলেন তারা কিন্তু প্রশংসাটা করতে পারেননি।’

পাশাপাশি দুয়ারে সরকার নিয়ে তার মন্তব্য, ‘এখন যে নির্বাচনের আগে শেষকালে দুয়ারে সরকার প্রকল্প হচ্ছে এই উন্নয়ন বা ঘোষণা করা এগুলোতো অনেক আগে উচিত ছিল। বিজেপির বাড়বাড়ন্ত হচ্ছে দেখে মানুষকে ধরে রাখবার জন্য। এটাতো মানুষ বুঝতে পারেন।’ ‘কাটামানি নিয়ে আমি কথা বলেছি প্রকাশ্যে’ মন্তব্য রুদ্রনীল ঘোষের। তিনি আরও বলেন, ‘তিনি যখন প্রথম প্রথম কাটমানি নিয়ে বলতে শুরু করেছিলেন বিজেপি যখন সবে সবে আসছে তখন তাকে বলা হয়েছিল তিনি বিজেপির দালাল’। একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দেন ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তার কাছে একজন আইকন। তার তিনজন আইকন হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সৌরভ গাঙ্গুলি ও প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়।’ ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে জায়গায় ছিলেন আছেন থেকে যাবেন’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। রুদ্রনীল ঘোষ জানান যে তিনি ‘এখনও বিশ্বাস করেন না যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘বাংলা আবাস যোজনার টাকা চুরি করে নিয়েছে বাথরুম তৈরি করার টাকা এদিক ওদিক হয়ে গেছে। কোন শাস্তি হয়নি।

কাটমানির জন্য শাস্তি হয়েছে শুধু কান ধরে ওঠবোস করা। জেল হওয়া উচিত’ মন্তব্য রুদ্রনীল ঘোষের। তিনি জানান ‘তার একটাই দু:খ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে মানুষের টাকা চুরি হয়েছে শাস্তি হয়নি। শুধু কান ধরে ওঠবোস করে ছেড়ে দিয়েছিলেন বলে এদের সংখ্যা বেড়েছে। বেড়ে আম্ফানের টাকা চুরি হল। ত্রান চুরি হয়ে যাচ্ছে গরীব মানুষদের। শাস্তি হচ্ছেনা। চাল চুরি হয়ে যাচ্ছে। এর থেকে দু:খের কিছু হতে পারে না। তিনি আরও বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন কাটমানি নিতে, আমি বিশ্বাস করিনা। চাল চুরি করতে বলেছেন আমি বিশ্বাস করিনা। তার মানে দলের একাংশই কিন্তু ওই যাদের ক্ষমার চোখে দেখেছিলেন তারা এগুলো করেছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে। ওনার আস্থাকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য। এবং এরাই ক্রমাগত ক্ষতি করে গেছে এবং ক্ষতি করে যাচ্ছে। যারা ঠিক কথা বলবার চেষ্টা করেছে তাদের উদ্দ্যেশেই বলা হচ্ছে তারা বেসুরো। এখন মুখ খুলছেন কেন। এবং তারাই সুরে রয়েছেন। হয় কিছু মানুষ দল থেকে বেরিয়ে গেছেন বা হয় কিছু মানুষ বসে গেছেন এটা অত্যন্ত দু:খজনক। এদের শাস্তিটা হয়নি। কেন হয়নি।

এটা পৃথিবীর কী আইন জানিনা সরকারি টাকা। এটা অত্যন্ত দু:খজনক।’ মন্তব্য রুদ্রনীল ঘোষের (Rudranil Ghosh)। পাশাপাশি তিনি বলেন, ‘আমি একদম বেসুরো নই, আমি সুরেই রয়েছি’। ‘বিরোধীরা মজা করার জন্য বলছেন রুদ্র নীল (আমার নাম), রুদ্র লাল, রুদ্র সবুজ, রুদ্র গেরুয়া তার উত্তর আমি মানুষ। পশ্চিমবঙ্গের অধিকাংশের বেশি মানুষই কিন্তু ২০১১ র আগে পরে যা যা হয়েছে মানুষ লাল মানুষ সবুজ মানুষ গেরুয়া।’ স্পষ্ট মন্তব্য রুদ্রনীল ঘোষের। বিজেপি যোগদানের বিষয় প্রথম কলকাতার সামনে পরিস্কার করে দিলেন রুদ্রনীল ঘোষ। তিনি বললেন ‘তিনি এখনও পর্যন্ত যোগদান করেন নি।’ ‘রাজ্যের মানুষকে যদি ভালো থাকতে হয়, অনেক মানুষের উপকার করতে গেলে একটা প্ল্যাটফর্ম লাগে একটা সরকার লাগে। এবং সেক্ষেত্রে ভাবনা চিন্তা করছি কী করব’ বলেও জানান রুদ্রনীল ঘোষ। অন্যদিকে, ‘দলত্যাগীদের বেইমান সুবিধেবাদী বলা হচ্ছে। তারা বেইমান নয় তারা সুবিধেবাদী নয় বরং যারা দলের মধ্যে থেকে প্রত্যেক মূহুর্তে দলের সম্পর্কে মিথ্যে খবর দিয়ে ঢাকবার চেষ্টা করছে এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ক্ষতির দিকে অসম্মানের দিকে প্রত্যেকটা মূহুর্তে অবিশ্বাসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।’ বলেও মন্তব্য রুদ্রনীল ঘোষের। ‘এখন হঠাৎ করে ভোটের আগে কল্পতরুর মত সবকিছু বিতরণ হচ্ছে যেখানে রাজ্যে প্রায় টাকাই নেই’। বিষ্ফোরক মন্তব্য রুদ্রনীল ঘোষের (Rudranil Ghosh)।