Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

তৃণমূলে অসম্মানিত হলে বিজেপিতে আসতে হবে, শিশিরকে দিলীপের বার্তায় জল্পনা

1 min read

।। প্রথম কলকাতা ।।

গতকাল দীঘা- শঙ্করপুর উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে কাঁথির তৃণমূল সাংসদ শিশির অধিকারীকে। এরপর বুধবার ফের ডানা ছাটা হল তাঁর। আজ তাঁকে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা তৃণমূল সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেই পদে বসানো হয়েছে রাজ্যের মন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্রকে। আর এই বিষয়টি নিয়ে প্রবীণ তৃণমূল সাংসদ শিশির অধিকারীকে কার্যত বিজেপিতে আসার আহ্বান জানালেন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। এদিন হাওড়ায় রোড শো কর্মসূচিতে অংশ নেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি। সেখানে সংবাদমাধ্যমের সামনে তিনি শিশির অধিকারীর বিষয়ে বলেন, তৃণমূল যদি কাউকে অসম্মান করে, দলে না রাখতে চায়, তখন রাজনীতির ময়দানে থাকতে গেলে অবশ্যই তাঁদের আসতে হবে বিজেপিতে।

বলা যেতে পারে বিজেপিতে আসার বন্দোবস্ত করে দিচ্ছেন তাঁরাই। বিজেপি সকলকে সম্মান দেয়। এরপর হাওড়া ময়দানে জনসভা করেন দিলীপ। সেখানেও কাঁথির সাংসদকে সম্মান জানিয়েছেন তিনি। মঞ্চ থেকে তিনি বলেন, কোনো ভদ্রলোক তৃণমূলে থাকতে পারবেন না। প্রবীণ তৃণমূল সাংসদ শিশির অধিকারীকেও দলে হেনস্থা করা হল। স্বাভাবিকভাবেই দিলীপ ঘোষের এই বক্তব্য নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। উল্লেখ্য শুভেন্দু অধিকারী এবং সৌমেন্দু অধিকারী তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে গেলেও এখনও পর্যন্ত নিজের দলের বিরুদ্ধে একটি কথাও বলেননি শিশিরবাবু। এমনকি তিনি বিজেপির প্রশংসা করছেন, সেটাও দেখা যায়নি। তা সত্ত্বেও দল তাঁকে অবিশ্বাসের চোখে দেখছে। তাই ক্রমশ দলের মধ্যে শিশির অধিকারীর গুরুত্ব কমানো হচ্ছে। ঠিক এই পরিস্থিতিতে আজ শিশির প্রসঙ্গে রাজ্য বিজেপি (BJP) সভাপতি যে কথা বলেছেন, তাতে জল্পনা শুরু হবে এটাই স্বাভাবিক।

আরো পড়ুন :সারদার অ্যাম্বুলেন্স উদ্বোধন করেছিলেন পতাকা নাড়িয়ে, মমতাকে তোপ দিলীপের

সেই জল্পনা আরো বেড়েছে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর (Subhendu Adhikari) কথায়। তিনি বলেন, ” আমি তৃণমূল কংগ্রেস প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির সিদ্ধান্ত নিয়ে কিছু বলব না। শুধু বলছি মানসম্মান থাকলে ওখানে কেউ কাজ করতে পারবেন না। ওরা কর্মচারী খুঁজতে চাইছে। নতুন করে কর্মচারী খুঁজে নেবে”। অর্থাৎ শিশির অধিকারীকে যেভাবে সরানো হয়েছে জেলা সভাপতির পদ থেকে, তাতে শুভেন্দু কতটা ক্ষুব্ধ এতেই পরিষ্কার। এর পাশাপাশি বিভিন্ন ইস্যুতে আজ তৃণমূলকে নিশানা করেছেন দিলীপ। তিনি বলেন, রাজ্যে নারীদের সুরক্ষা নেই। বাড়ির মেয়েরা পড়তে গেলে সবাই চিন্তায় থাকেন। রাতে কেউ অসুস্থ হলে হাসপাতালে নিয়ে গেলেও মানুষ নিশ্চিন্ত হতে পারেন না সুচিকিৎসা হবে কিনা। তিনি বেঁচে বাড়ি ফিরবেন কিনা। চারদিকে শুধু দুর্নীতি চলছে। কোনো কাজ হচ্ছে না।

মানুষ নিশ্চিন্ত মনে বাইরে বের হতে পারছেন না। বিজেপি কর্মীদের উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে মামলা দেওয়া হচ্ছে। কাটমানি না দিলে চাকরি পাওয়া যায় না। স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্পের কার্ড থাকা সত্ত্বেও মানুষ চিকিৎসা পাচ্ছেন না। এটা দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। বোকা বানানোর চেষ্টা করছে সরকার। এরপরই করোনা ভাইরাসের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন,” করোনা ভাইরাস দেশ থেকে কবে যাবে জানি না। কিন্তু মে মাসের পর তৃণমূল রাজ্যে আর থাকবে না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গকে বাংলাদেশের সঙ্গে জুড়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী হতে চান। আর খালি সকলকে বলছেন বহিরাগত। পশ্চিমবঙ্গে অবাঙালি শিল্পপতিরা প্রচুর শিল্প করেছেন। বাংলার ছেলে মেয়েরা এসব প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে। আমরা কি তাঁদের বহিরাগত বলব? বাংলার প্রচুর ছেলেমেয়ে বাইরের রাজ্যে কাজ করতে যান। সেখানে তাঁদের কি বহিরাগত বলা হয়? তাঁরা যেতে বাধ্য হন। তৃণমূলের আমলে চাকরি-বাকরি কিছু নেই। তাই আপনাদের বলছি বিজেপি আসলে চাকরি হবে। বেকারদের বাইরে যেতে হবে না”। এভাবে বিভিন্ন ইস্যুতে এদিন তৃণমূলকে নিশানা করেছেন দিলীপ।