বিজেপির দিলীপ ঘোষ থাকলে তৃণমূলের আছে অনুব্রত, ২০২১ হবে জমজমাট

।। ময়ুখ বসু ।।

রাজ্য রাজনীতিরে গরমা গরম মন্তব্যের জন্য বিজেপির হাতে যদি থাকে দিলীপ ঘোষ। তাহলে তৃণমূলের আছে অনুব্রত মন্ডল। সেকথা প্রমান করেও দিলেন তিনি। এবারে বিজেপির খোদ রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষকে তৃণমূল কংগ্রেস আসার জন্য আগাম আমন্ত্রণ জানিয়ে রাখলেন তিনি। তবে দলে নেওয়ার আগে কীভাবে দিলীপ ঘোষকে নেওয়া হবে তার অভিনব উপায়ও বাতলে বিয়ে কর্মীদের তুমুল হাততালি অর্জন করে নিলেন তিনি।

বীরভূমের ইলামবাজারে তৃণমূলের এক কর্মীসভায় অনুব্রত মন্ডল বলেন, পশ্চিমবঙ্গের সবথেকে ভয়ঙ্কর ভাইরাসের নাম দিলীপ ঘোষ। তবে তিনি তৃণমূলে আসতে চাইলে স্বাগত। কিন্ত তাঁকে তৃণমূলে নেওয়ার আগে আমরা ভালো করে স্যানিটাইজ করে নেবো। এখানে কোনও ডোবার জলে স্নান করিয়ে নেবো। আর ওনার তো গোবর মাথার স্বভাব আছে, তাই আমাদের অসুবিধা হবে না, ওনাকে গোবর মাখিয়ে নেবো।

উল্লেখ্য, এর আগে দিলীপ ঘোষ অনুব্রত মন্ডলের নাম না করে বিজেপিতে আসতে বলেছিলেন। তার প্রত্যুত্তরে অনুব্রত বলেন, উনি আমার নাম না করে বিজেপিতে যেতে বলেছিলেন, আর আমি ওনার নাম করে বলছি, তুমি তৃণমূলে এসো। আমার বুথের কর্মীদের সঙ্গে মেশো। পাশাপাশি অনুব্রত মন্ডল বিজেপিকে সরাসরি আক্রমণ করে বলেন, ২০১৪ সাল থেকে কিছুই করেনি বিজেপি সরকার।

কোনও প্রতিশ্রুতিই রক্ষা করতে পারেনি। সবার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকাবে বলেছিলো, তা দিতে পারেনি। তারা এখন নাকি বাংলা দখলের দিবাস্বপ্ন দেখছে! বিজেপির মনে রাখা উচিত, এই বাংলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার ৬৬ টি প্রকল্প চালু করেছেন। যা সমগ্র পৃথিবীর মধ্যে একমাত্র বান্নগ্লার নামকে উজ্জ্বল করেছে। আসলে রাজ্য রাজনীতির দুই মেরুতে থাকা এই দুই নেতাই গরমা গরম মন্তব্য এবং কটাক্ষের জন্য বেশ জনপ্রিয়।

প্রতিদিন প্রতিনিয়তই তাদের কিছু না কিছু মন্তব্য খবরের শিরোনাম হয়েই থাকে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারনা, এটাও রাজনীতির একটি কৌশল কি করে নিজেকে এবগ দলকে খবরের শিরোনামে তুলে রাখতে হয় সেটা ভালো করেই জানেন এই দুই নেতা। ফলে ভোটের পারদ যতো চড়বে ততোই যে এই দুই শিবিরের নেতাদের মন্তব্য এবং পালটা মন্তব্য বাংলা বাজারকে গরম করে রাখবে তা হয়তো বলাই যায়।

Categories