Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

পাতা ঝরলে কী আর গাছের ওজন কমে? নন্দীগ্রাম থেকে সুব্রত বক্সি


।। ময়ুখ বসু ।।


নন্দীগ্রামের একইঞ্চি জমি ছাড়তে নারাজ কেউই। নন্দীগ্রাম আন্দোলনের ফসল ঘরে তুলতে তৃণমূল কংগ্রেস যেমন মরিয়া তেমনি নন্দীগ্রাম আন্দোলনকে হাতিয়ার করে নন্দীগ্রামের মাটিতে পদ্ম ফোটাতে মরিয়া সদ্য বিজেপিতে যোগ দেওয়া শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার গভীর রাতে শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রামের ভাঙ্গাবেড়ায় গিয়ে শহীদ স্মরণে শ্রদ্ধার্ঘ জানিয়ে আসেন। আর শুভেন্দু শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পরেই বৃহস্পতিবার সকালে সেখানে পৌঁছে যান তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি। তিনি নন্দীগ্রামের ভাঙ্গাবেড়ায় গিয়ে শহীদ বেদীতে মোমবাতি প্রজ্বলনের মাধ্যমে শহীদ স্মরণ ও পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন এবং শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ নিবেদন করেন।

সেইসঙ্গে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, নন্দীগ্রাম ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ আন্দোলন নন্দীগ্রাম মানুষের ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের ফসল। বাংলার জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সক্রিয় উপস্থিতি ও অনুপ্রেরণা ওই আন্দোলনকে অন্য মাত্রায় পৌঁছে দিয়েছিলো। সেই ইতিহাস মানুষ ভুলবে না। সুব্রত বক্সি বলেন, নন্দীগ্রামের মাটিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের আন্দোলন সফলতা পেয়েছিল।শহীদদের রক্তস্রোত ও অগণিত মানুষের নিরবচ্ছিন্ন সংগ্রাম ও ত্যাগের উপর দাঁড়িয়ে নন্দীগ্রামের ভূমি আন্দোলন। সেই আন্দোলনকে কেউই এককভাবে দাবি করতে পারে না। স্বাভাবিকভাবেই নন্দীগ্রাম আন্দোলনের কৃতিত্ব তৃণমূল ছাড়তে নারাজ।

২০০৭ সালের ৭ জানুয়ারী ভাঙাবেড়ায় সিপিআইএম হার্মাদদের হাতে শহীদ হওয়া ভরত মণ্ডল, বিশ্বজিত মাইতি, সেখ সেলিমের স্মরণ সভা প্রতিবছরই আয়োজিত হয়। এতোদিন ধরে এই স্মরণ সভার অন্যতম মুখ ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। কিন্ত আজ তিনি গেরুয়া শিবিরে। ফলে সুদূর কলকাতা থেকে তৃণমূলের নেতাদের এখন ছুটে যেতে হয়েছে নন্দীগ্রামে। আসলে ভোটের আগে নন্দীগ্রাম আন্দোলনকে যাতে কোনওভাবেই শুভেন্দু অধিকারী হাইজ্যাক করে কৃতিত্ব নিতে না পারে তারজন্য সজাগ দৃষ্টি রেখে চলেছে তৃণমূল নেতৃত্ব। এদিকে শুভেন্দু বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর বারবার নন্দীগ্রাম নিয়ে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রসকে বিঁধতে ছাড়ছেন না। শুভেন্দু প্রকাশ্য জনসভায় দারিয়ে তৃণমূলকে কটাক্ষ করে বলেছেন, এতোদিন কোথায় ছিলেন আপনারা? এতোদিন নন্দীগ্রামের কথা মনে পড়েনি? কাউকে তো আসতে দেখা যায়নি নন্দীগ্রামের মাটিতে!

যা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা হলেও অস্বস্তি বেড়েছিলো শাসকের। ফলে একুশের ভোটের দিন যতোই বাড়ছে ততোই নন্দীগ্রামে আনাগোনা বাড়াতে শুরু করেছেন তৃণমূল নেতৃত্বরা। এমনকী স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রামের মাটিতে জনসভা করার ঘোষনাও দিয়ে রেখেছেন। রাজনৈতিক মহল মনে করছেন, একুশের নির্বাচনে নন্দীগ্রামের দখল রাখা তৃণমূলের কাছে রীতিমতো চ্যালেঞ্জ। এই নন্দীগ্রামের মাটিতেই যদি তৃণমূল তাদের রাশ শক্তহাতে ধরে রাখতে পারে তাহলে শুভেন্দুর দম্ভ অনেকটাই শেষ করে দেওয়া যাবে। অন্যদিকে, নিজেকে নন্দীগ্রামের কার্যত ভূমিপুত্র হিসাবে স্বীকার করে নিয়ে শুভেন্দু সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, রক্তচক্ষু দেখিয়ে আমাকে আটকানো যাবে না। নন্দীগ্রামে আমি বারবার ফিরে আসবোই। নন্দীগ্রামের কর্মসূচী সবকিছুর উর্ধে বলেও উল্লেখ করেন শুভেন্দু। ফলে নন্দীগ্রাম নিয়েই রাজ্য রাজনীতিতে এখন বাড়ছে টানটান উত্তেজনার পারদ।