শুভেন্দু নিজের দল তৈরী করলে লোকসান বিজেপির !

1 min read

।। শ্রীপর্ণা মুখোপাধ্যায় ।।

শুভেন্দু অধিকারী আলোচনার একেবারে উঁচু স্তরে। ঘরে বাইরে সর্বত্র আলোচনা হচ্ছে শুভেন্দু অধিকারীকে নিয়ে। বিষয় তো সবার জানা, নির্বাচনের আগে দল ছেড়ে শুভেন্দু বিজেপি তে গেলে 2021 শে দিদির প্রত্যাবর্তন অনিশ্চয়তার মুখে গিয়ে দাঁড়াবে, বিশেষজ্ঞরা তো আলোচনা এমনটাই করছেন। আজ দিল্লিতে অমিত -নাড্ডা দের সাথে বৈঠকও করেছেন শুভেন্দু তবু এক অন্য আভাস বা ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে,(কিছু জন বলতে পারেন ফালতু খবর, রঙ লাগানোর ধান্দা, তবে উদ্দেশ্য তেমন নয়)… কী আভাস সেটা একটু পরেই বুঝতে পারবেন।



মন নেই ঘাস ফুল শিবিরে শুভেন্দুর। ফিরে যাই বেশ কয়েক বছর আগে, শুভেন্দু অধিকারী ছাড়া তৃণমূল সুপ্রিমো তখন কিছু ভাবতে পারেন না, যা কিছু বড়-গঠনমূলক সিদ্ধান্ত তা নেওয়ার জন্য, ডাইনে -বাঁয়ে তৃণমূল নেত্রীর সাথে থেকেছেন বা থাকতে দেখা গিয়েছে শুভেন্দু অধিকারীকে। এটা 2011 সালের কথা বলছি, দীর্ঘ বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে তখন সদ্য ক্ষমতায় বর্তমান শাসকদল। শুভেন্দু অধিকারী কে বলতে শোনা গিয়েছিলো, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সিপিএম কে বাংলা ছাড়তে বাধ্য করে দ্বিতীয় স্বাধীনতা যুদ্ধের ডাক দিয়েছেন।


ফিরে আসি 2019শে, লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যের 18 টি আসনে জয়ী বিজেপি।জঙ্গলমহল এলাকার 5 টি আসন বিজেপির দখলে তখন। সেদিন শুভেন্দু অধিকারীকে বলতে শোনা গিয়েছিলো, “আমরা আবার জিতবো, এগারো সালের মতো একুশ সালেও ক্ষমতায় আসবো। মমতা ব্যানার্জীর নেতৃত্বে বাংলায় আবার জনগণের সরকার তৈরী হবে। “মেদিনীপুর জেলা এবং শুভেন্দু অধিকারী দু’টো বিষয়কে আলাদা করে দেখা বোকামি।


লোকসভা নির্বাচনের আগে আগে তখন শেষ বেলার প্রচার চলছে , গোটা তমলুক -কাঁথিতে শুভেন্দু ঝড়। শুভেন্দু বাবু পূর্ব মেদিনীপুর জেলাকে নিজের “ভদ্রাসন “হিসেবেই পরিচিতি দিতেন।( দিতেন ঠিকই পড়েছেন), বিষয়টা আজ অতীতই বটে! “আমি মমতাদির কাছ থেকে শিখেছি উন্নয়ন কীভাবে করতে হয়। মমতাদির চিন্তাধারা -ভাবধারা কে রেখেই উন্নয়ন করে চলেছি। ” মেদিনীপুরে সেদিন শুভেন্দু অধিকারী প্রচারে, রাস্তার দু ‘পাশারি লোক সাড়ে সাড়ে দাঁড়িয়ে আছেন শুধু শুভেন্দু বাবু কে একবার দেখবেন, একবার হাত মেলাবেন, একবার নিজের সমস্যার কথা তুলে ধরবেন।

থিকথিকে ভিড় সেদিন জমেছিলো শুধু শুভেন্দুর সমর্থনে।কেনই বা হবে না, আর পাঁচ জন নেতার সাথে শুভেন্দু অধিকারীকে তো আর গুলিয়ে ফেললে চলবে না, শুভেন্দু অধিকারীর ঠাকুরদা কেনারাম অধিকারী, লবন সত্যাগ্রহে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। বাবা শিশির অধিকারীর কাকা বিপীন অধিকারী, ব্রিটিশ জেলে জীবনের অনেকটা সময় কাটিয়েছেন, এই রখম একটা পরিবারের সন্তান শুভেন্দু কদর তো তাঁর আলাদা হওয়ারই কথা। স্বাধীনতা সংগ্রামের জেলা, পীঠস্থান, সতীশ সামন্ত, অজয় মুখোপাধ্যায়ের জেলা মেদিনীপুর সেই জেলায় ভরসা মুখ শুভেন্দু… এটা মানুষের বিশ্বাস!

পশ্চিম মেদিনীপুরে তৃণমূল কংগ্রেসের সংগঠনের রদবদল হয়েছে, শুভেন্দু অধিকারীকে জেলার তৃণমূল পর্যবেক্ষকের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরই শুভেন্দু অনুগামীরা ফুঁসছেন। ছাত্র রাজনীতি করতে করতে রাজনীতির মেন কোর্সে আসেন শুভেন্দু বাবু তার পর শুভেন্দু অধিকারীকে গুরুর আসনে বসিয়ে কত লোক যে রাজনীতির ময়দানে এসেছেন, নেতা -মন্ত্রী হয়েছেন সে হিসেব কষতে বসছি না। মেদিনীপুর জেলার একাংশ ক্ষুব্ধ, নির্বাচনের আগে শুভেন্দু বাবুর দায়িত্ব না বাড়িয়ে খর্ব করা হয়েছে/হচ্ছে যেটা দলের অন্দরেই দিতে পারে খারাপ ফল।মেদিনীপুরের একাংশ তো বলেন, একসময়, পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদটা দলের ঝুলিতে এনে দিয়েছিলেন শুভেন্দু বাবুই। পূর্ব মেদিনীপুরে ভোট প্রচারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় না গেলেও নিরঙ্কুশ গরিষ্ঠতা পেয়ে দেখিয়েছেন শুভেন্দু।


” আমাদের ধুমকে চমকে লাভ নেই, আমরা জানি কোন রোগের কী ওষুধ,ভদ্রভাবে বলব, কাজ না হলে ওষুধ প্রয়োগ করব। ” এই শুভেন্দুর এই হুঁশিয়ারি ছিল নন্দীগ্রামের একটি জনসভা থেকে বিজেপি কে উদ্দেশ্য করে। 2021 এ ফাইনাল ম্যাচের আগে শুভেন্দু জেলা খা খা করছে!শুভেন্দু অধিকারী জেলার “উন্নয়নের গ্যারান্টার”,আজ তিনিই ফ্যাকাশে! পূর্ব মেদিনীপুর জেলার সম্প্রতি জেলা যুব তৃনমূলের সভাপতি হয়েছেন পার্থসারথি মাইতি, রাজ্যের সহ-সভাপতি সুপ্রকাশ গিরি।তমলুক শহরের মানিকতলা থেকে নিমতলা লাইটপোস্টে, রাস্তার ধারে ধারে,অভিষেক ব্যানার্জির সমর্থনে পোস্টার পড়ছে কিন্তু এই পোস্টারগুলো হয়তো শুভেন্দু অধিকারীর নামে পড়ার কথা ছিল! তবে তেমনটা হয়নি।

শুভেন্দু অনুগামীরা থেমে নেই শুভেন্দু অধিকারীর সমর্থনে “সমাজসেবী” লিখে পোস্টার সাঁটিয়ে দিয়েছেন রাস্তার ধারে ধারে বিস্তর।পোস্টারে লেখা,”বাংলার মুক্তি সূর্য” “সংগ্রামের অপর নাম” “আন্দোলনের আরেক নাম” “উন্নয়নের কান্ডারী” “জনগণের নায়ক” শুভেন্দু অধিকারী! শুভেন্দু অধিকারীর অনুগামীরা প্রমাণ করে ছাড়ছেন,তৃণমূলের “ডার্ক হর্স” শুভেন্দু,তাঁর দৌড় এত সহজে থামানো যাবেনা,শুভেন্দু বাবুর ডানাকাটা এত সহজে যাবেনা। ঠিক এখান থেকেই একটা প্রশ্ন উঁকি ঝুঁকি খাচ্ছে, তবে কি নতুন দল গড়ার কথা ভাবছেন শুভেন্দু? ইঙ্গিত অন্তত তেমনটাই মিলছে শুভেন্দু অধিকারীকে “সমাজসেবী” বলা হয়েছে কোথাও রাজনীতিবিদ বলে উল্লেখ করা হয়নি।


যদি নতুন দল গড়ার কথা শুভেন্দু বাবু, তবে তৃণমূল নেত্রীর কী ক্ষতি হবে সেটার থেকেও গুরুত্বপূর্ণ বিজেপি কী হারাবে!কারণ শুভেন্দু প্রকৃতার্থেই” ভূমিপুত্র “, শুভেন্দু অধিকারী ব্র্যান্ড নতুন দল গড়লে তৃণমূল ভেঙে তো অবশ্যই বিজেপি ভেঙেও দলে দলে লোক- নেতা -কর্মী -সমর্থক,শুভেন্দুমুখী হবেন। রাজনীতির কারবারিদের অনুমান তেমনটাই।মুকুল রায় মুখিয়ে আছেন, শুভেন্দু বাবু তৃণমূল ছাড়লেই যাতে তাঁকে বিজেপিতে টেনে নেওয়া যায়, কারণ এতে বিজেপির” দারুণ “লাভ, শুভেন্দু বিজেপি তে গেলে শুভেন্দু অনুগামীরাও ভিড় ভিড় করে বিজেপিতে ঢুকবেন। নির্বাচনের আগে বিজেপির কাছে যা হবে সোনায় সোহাগা!