Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

হলদিয়ায় ভোটটা আমি করিয়ে নেবো, সব আমার তালুর মতো চেনা, শুভেন্দুর মেজাজই অন্য

||প্রথম কলকাতা||

১৯৭৭ সালে সিপিএম তথা বামেরা রাজ্যে ক্ষমতায় আসে। ক্ষমতায় আসার পর প্রথম দিকে নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে বড় ধরনের কোনো অভিযোগ সামনে আসেনি। কিন্তু পরবর্তীকালে সেই অভিযোগ সামনে আসতে শুরু করে। আর তখন থেকেই ভোট মেশিনারি শব্দবন্ধটা প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে রাজ্য রাজনীতিতে। বিভিন্ন এলাকায় কিভাবে ভোট করানো হবে, কারা সেই ভোট করাবে, ইত্যাদি বিষয় নিয়ে চর্চা শুরু হয়। বিষয়টি বর্তমানেও সমান প্রাসঙ্গিক রাজ্য রাজনীতিতে। সেকথা ফের একবার শোনা গেল বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর মুখে। শনিবার পূর্ব মেদিনীপুরের দাড়িবেরিয়ায় বিজেপির সভা ছিল। সেখানে হাজির ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী এবং কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়। সভা মঞ্চ থেকে শুভেন্দু বলেন,” গত লোকসভা নির্বাচনের ফলে মহিষাদল বিধানসভায় বিজেপি ১৭ হাজার ভোটে পিছিয়ে রয়েছে। কিন্তু আমি জানি বেশ কয়েকটি জায়গায় ভোট দিতে পারেননি ভোটাররা। সেখানে ভোট লুঠ হয়েছে। ওটা দেখে নেব। আর হলদিয়াতে ভোটটা করাতে হয়। ওটা আমি করিয়ে নেব। গোটা জেলা হাতের তালুর মতো চিনি। এখানে পাড়ায় পাড়ায় ঘুরেছি। তৃণমূলের খুঁটি পুঁতেছি। আপনারা পাশে থাকুন। নরেন্দ্র মোদিজির হাতে বাংলা তুলে দেব। তৃণমূলকে হলদি নদীর পাড়ে ছুড়ে ফেলে দিতে হবে”।

এই প্রথম নয়, এর আগেও শুভেন্দু ভোট মেশিনারি নিয়ে তাঁর পুরনো দল তৃণমূলকে বিঁধেছেন। শুভেন্দুকে বলতে শোনা গিয়েছে, ওদের দলে লোকই থাকবে না। তাই বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে কারা চমকাতে যাবে। এদিন শুভেন্দুর মুখে সেই ভোট মেশিনারির কথা ফের শোনা গেল। তাই তিনি তৃণমূলকে নিশানা করে বলেন, পরিবেশটা নষ্ট হতে দেবেন না। ১৫ মে’র পর সবাইকে নিয়ে চলতে হবে। বিধানসভা নির্বাচনে হারার পর পঞ্চায়েতে তৃণমূল প্রার্থী দাঁড় করাতে পারবে না। সেই সঙ্গে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের একাংশকে কটাক্ষ করে বলেন, মনে রাখবেন পিপীলিকার পাখা গজায় মরিবার তরে।

এটা ২০২১ সাল। বর্তমানে নির্বাচন পঞ্চাশ বা ষাটের দশকের মতো হয় না। ভোটাররা লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে নিজেদের পছন্দমতো দলকে ভোট দেবেন, এটাই দস্তুর। এখনো সেটাই হয়। কিন্তু তার বাইরেও অনেক ‘ খেলা’ চলে। সাংগঠনিক শক্তি অনুযায়ী রাজনৈতিক দলগুলি নিজেদের মতো করে ‘ভোট করানোর’ চেষ্টা করে। বলাবাহুল্য সংগঠন ভালো না হলে সেই মেশিনারি সফল হয় না। রাজ্যে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থেকে বামেরা সেটা নিপুণভাবে রপ্ত করেছিল। ক্ষমতায় আসার পর তৃণমূলও সেই ব্যাপারে ভুলচুক করেনি। তাই শুভেন্দু অধিকারী আজ যেভাবে হলদিয়াতে ভোট করিয়ে নেওয়ার কথা বললেন, তা বেশ ইঙ্গিতপূর্ণ। পূর্ব মেদিনীপুরের সংগঠন ইতিমধ্যেই তিনি বিজেপির অনুকূলে পুরোপুরি নিয়ে আসতে পেরেছেন, তাঁর কথায় সেটাই প্রমাণিত হচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই শুভেন্দুর এই বক্তব্যের পর একেবারেই স্বস্তিতে থাকছে না তৃণমূল।