ঠিক কতটা বদলেছে ধর্মতলার চেনা ছবিটা?

।। স্বর্ণালী তালুকদার ।।

মহানগরী সেজে ওঠা শুরু হয় গণেশ পুজোর বিসর্জন হলেই। এসপ্ল্যানেড চত্বরে প্রতিবছর নানান সামগ্রীর সম্ভার সাজিয়ে বসেন ব্যবসায়ীরা। বাংলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লোকজন এখানে কেনাকাটি করতে আসেন। বছরের সবথেকে বড় উৎসব দূর্গাপুজোর কয়েকমাস আগে থেকে কেনাকাটি হিড়িক লেগে যায় এখানে।

বিক্রেতা থেকে ক্রেতা, করোনা আবহে এই বছরের ছবিটা একদম আলাদা। চেনা ভিড়ে ঠাসা গলিগুলো এখন প্রায় ফাঁকা। ঘর চালানোর দায়ে ফুটপাথে পসার সাজিয়ে বসেছেন ব্যবসায়ীরা। শুধু যে পণ্য সামগ্রীর উপর প্রভাব পড়েছে তা নয়, বহু জনপ্রিয় খাবারের দোকানেও তালা ঝুলতে দেখা গিয়েছে।
শনি ও রবিবার যে হারে নিউমার্কেটে লোকজনের সমাগম থাকে, তাঁর এক তৃতীয়াংশও দেখা যাচ্ছে না। বহু ব্যবসায়ীই জানাচ্ছেন, প্রতিবছর দিনে যত টাকা মুনাফা লাভ হোত, সেই মুনাফার টাকা উঠছে গোটা মাস সামগ্রী বিক্রি করার পর।

ক্রেতাদের মনেও দূর্গাপুজো নিয়ে রয়েছে সংশয়। কিছু উৎসাহী ক্রেতা কেনাকাটি করতে এলেও বাদ দিচ্ছেন অনেক কিছু। কারণ পকেট বুঝে তাঁদের কিনতে হচ্ছে। করোনার প্রভাবে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলিতে পুজোর বোনাস পাওয়া নিয়ে রয়েছে অনিশ্চয়তা। সকলের জন্য কেনাকাটিতে লেগেছে লাগাম।

এশিয়ার অন্যতম বড় বাজার হিসেবে জনপ্রিয় ধর্মতলার বিনিকিনির এই ছবি দেখে হতাশ হবেন অনেকেই। বাজার আগের মতো জমজমাট নেই, আগের মতো হোলসেলের জন্য হাঁকও নেই বিক্রেতার গলায়। কার্যত বিষন্ন এবং উদাসী আবহাওয়া বইছে ধর্মতলার নিউ মার্কেট চত্বরে। করোনা আবহে কার্যত ধুকঁছে নিউমার্কেট।