পুষ্কর মেলার ইতিবৃত্তান্ত

।।শর্মিলা মিত্র ।।

পুষ্কর মেলার সময়ে কথিত আছে, দশ দিন ধরে ঘুমোয় না পুষ্কর। দিন রাত ধরে চলে হরেক রকম জিনিসের বেচাকেনা। চলে মানুষের আনাগোনাও।দেশের অন্যতম বড় ‘ক্যাটল ফেয়ার’ হিসেবেও পুষ্করের মেলাকে দেখা হয়। উট, ঘোড়া, গরুর বেচাকেনার জন্য উল্লেখযোগ্য হল এই মেলা।

মেলার এক দিকে যদি সাজানো হয় উটের পশরা, তো অন্যদিকে জামাকাপড় ও বাসনপত্রের সম্ভার। এ ছাড়া থাকে নানা ধরনের রাইডও। যা আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করবেই।স্থানীয় মানুষদের মধ্যে রয়েছে লাঠি কেনার প্রথাও। আর্থিক সঙ্গতি যেমনই হোক না কেন মেলা থেকে লাঠি কিনবেনই ওখানকার স্থানীয় মানুষেরা।

মেলার কাছেই কয়েক হাজার সিঁড়ি ভেঙে পৌঁছতে হয় সাবিত্রী মন্দিরে।তবে, সিঁড়ি না ভাঙতে চাইলে রয়েছে রোপওয়ে করে মন্দির দর্শনের ব্যবস্থাও।

কার্তিক পূর্ণিমার দিন পুণ্যার্থীদের ভিড়ে ভরে ওঠে পুষ্কর মেলা চত্ত্বর। জানা যায়, স্থানীয়দের বিশ্বাস ওই দিন পুষ্কর হ্রদে স্নান করা গঙ্গাস্নানের সমান। কার্তিক পূর্ণিমার দিন পুষ্কর হ্রদে স্নান করে ব্রহ্মা মন্দির দর্শনে যান পুণ্যার্থীরা। দেশের একমাত্র ব্রহ্মা মন্দির এটি। কথিত আছে ব্রহ্মা তাঁর পদ্ম দিয়ে এক অসুরকে বধ করেছিলেন। আর মর্ত্যে সেই পদ্মের পাপড়ি এসে পড়েছিল এই পুষ্কর হ্রদে।

দশ দিন ধরেই এই মেলাকে কেন্দ্র করে নানা ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলে পুষ্কর স্টেডিয়ামে। শেষ দিন হয় বিভিন্ন ধরনের প্রতিযোগিতা। উট সাজানোর প্রতিযোগিতা থেকে শুরু করে সেরা উট, সেরা ঘোড়া, সবচেয়ে লম্বা গোঁফ, জলভরা কলসি নিয়ে হাঁটা সহ বিভিন্ন মজাদার প্রতিযোগিতায় সামিল হন স্থানীয় থেকে শুরু করে দেশী ও বিদেশী বহু ট্যুরিস্ট।

শেষ দিন বিভিন্ন প্রতিযোগিতার পর পুরস্কার তুলে দেওয়া হয় বিজয়ীদের হাতে। অজমের থেকে বাসে এক ঘণ্টার পথ পুষ্কর। কার্তিক মাসের গোড়ায় শুরু হয়ে কার্তিক পূর্ণিমার দিন শেষ হয় এই ঐতিহ্যবাহী পুষ্কর মেলা। তাই, এই মেলায় সামিল হতে চাইলে আপনারাও পৌঁছে যেতে পারেন পুষ্করে।