Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

যে ডালে বসছেন সেই ডাল কাটছেন, কটাক্ষ শোভন চট্টোপাধ্যায়ের

1 min read

।। শর্মিলা মিত্র ।।

শোভন চট্টোপাধ্যায়-বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে অবশেষে স্বস্তির নি:শ্বাস পড়তে চলেছে গেরুয়া শিবিরে তা বলাই যায়। প্রসঙ্গত, ২০১৯-এর অগাস্টে দলবদল করে পদ্মশিবিরে যোগদান করলেও কার্যত সক্রিয় হতে দেখা যায়নি কলকাতার প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায় ও বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়কে ( Sovon Chattopadhyay ও Baishakhi Bandopadhyay) । এরপর, গত সোমবার শোভন-বৈশাখীকে নিয়ে বাইক ব়্যালির আয়োজন করে বিজেপি নেতৃত্ব। কিন্তু একদম শেষ মূহুর্তে অসুস্থতার কথা জানিয়ে সেই রোড শো-তে অংশগ্রহণ করেননি বহুচর্চিত এই জুটি। অবশেষে মুখ রক্ষা করতে রোড শো-তে সামিল হন বিজেপি নেতৃত্ব। আর এবার বলা যেতেই পারে উলাটপুরান।

গত সোমবারে ছবিটা একেবারেই বদলে যেতে চলেছে আজ। মান-অভিমানের পালা শেষ করে আজ অবশেষে বিজেপির মিছিলে যোগ দিতে চলেছেন শোভন-বৈশাখী। দক্ষিণ কলকাতা সাংগঠনিক জেলার উদ্যোগে শোভন চট্টোপাধ্যায় এবং বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের মিছিল সম্পন্ন হতে চলেছে গোলপার্ক থেকে সেলিমপুর পর্যন্ত। আর সোমবারের মিছিলের আগেই রবিবার সন্ধ্যায় হেস্টিংসে বিজেপির দফতরে সাংগঠনিক বৈঠকে যোগ দেন শোভন-বৈশাখী (Sovon Chattopadhyay ও Baishakhi Bandopadhyay)। বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর এদিনই প্রথমবার সংগঠনের কোনও বৈঠকে উপস্থিত হন তারা। জানা যায়, শোভন-বৈশাখীর পাশাপাশি ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কৈলাস বিজয়বর্গীয়, সুনীল বনসল, দেবজিৎ সরকার, শঙ্কুদেব পন্ডা, গজেন্দ্র সিং শেখাওয়াত-সহ বেশ কয়েকজন নেতা।

প্রসঙ্গত, ইতিমধ্যেই, গেরুয়া শিবিরে কলকাতা সাংগঠনিক জোনের কমিটির পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব পেয়েছেন শোভন চট্টোপাধ্যায় (Sovon Chattopadhyay)। অন্যদিকে, সহ-আহ্বায়ক পদ পেয়েছেন বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় (Baishakhi Bandopadhyay)। কলকাতা সাংগঠনিক জোনের কমিটির পর্যবেক্ষক হিসেবে মিছিলে সামিল হতে চলেছেন শোভন চট্টোপাধ্যায়। সোমবার এই মিছিলের আগেই রবিবার সাংগঠনিক বৈঠকে যোগ দেন শোভন-বৈশাখী (Sovon Chattopadhyay ও Baishakhi Bandopadhyay)। সেই বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শোভন চট্টোপাধ্যায় Sovon Chattopadhyay জানান, ‘এই জোনে ৫১টি বিধানসভা আসন রয়েছে। বৈঠকে সকলে নিজের নিজের মত প্রকাশ করেছেন। সকলে মিলে এক সঙ্গে কাজ করব।’

আরো পড়ুন :আজ নদীয়া দেখল আগ্রাসী মমতাকে, হুঁশিয়ারি বক্তব্যের বেশিরভাগ জুড়েই

বলে জানান শোভন চট্টোপাধ্যায়। পাশাপাশি, একই সুর শোনা যায় বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের গলাতেও। তিনিও জানান, ‘সবার সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করতে চান তিনিও’। এরপর তৃণমূল কংগ্রেসের ভাঙনকে কটাক্ষ করে শোভন চট্টোপাধ্যায় Sovon Chattopadhyay বলেন, ‘তৃণমূলের এখন অবস্থা ছোট চাদরের মতো৷ পা ঢাকতে গেলে মাথা বেরিয়ে যাচ্ছে, মাথা ঢাকতে গেলে পা৷’ এরপরই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, বিজেপি-র সিগন্যালেই তো ১৯৯৮ সালের ১ জানুয়ারি তৃণমূল তৈরি হয়েছিল। যা নিয়েই ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে চাপানোতর। শোভন চট্টোপাধ্যায় আরও অভিযোগ করে বলেন, ‘তৃণমূলকে যে নেতারা প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন, তারাই দলে সম্মান না পেয়ে বাধ্য হয়ে দল ছাড়ছেন৷’

তিনি বলেন, ‘যারা সংগ্রাম করে দলকে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, তারা কী ব্যবহার পেলেন? ‘তা দুর্ভাগ্যজনক’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, ‘মুকুল রায়ের মতো নেতা দলে থাকতে পারলেন না৷ তার পরেও আত্মসমালোচনা করার প্রয়োজন অনুভব করা হয়নি৷ দমবন্ধকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। পাশাপাশি, ‘আজকে বিজেপি যে আমাদের কাজের সুযোগ দিচ্ছে, তার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ৷’ বলেও জানান কলকাতার প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায় Sovon Chattopadhyay। পাশাপাশি বিজেপি সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নড্ডার (JP Nadda) কনভয়ে হামলার তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘যা দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলায় অভিপ্রেত নয়।’ পাশাপাশি তার মন্তব্য, ‘দলকে বাড়াতে গিয়ে না যে ডালে বসছেন কালিদাসের মতন সেই ডাল কাটছেন, সেটা তারাই ব্যাখ্যা করতে পারেন’ বলেও মন্তব্য করেন শোভন চট্টোপাধ্যায় Sovon Chattopadhyay।