Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

অভিযোগ আছে? অভিযোগ পেলেই শাস্তি, আসছে কমিশনের ফুলবেঞ্চ

1 min read

।। প্রথম কলকাতা ।।

বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ এখনও ঘোষণা করা হয়নি। তবে নির্বাচন যে কার্যত দরজায় কড়া নাড়ছে, সকলেই জানেন সেটা। সদ্য রাজ্য থেকে ঘুরে গেলেন উপ মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সুদীপ জৈন। তিনি বৈঠক করেছেন রাজ্যের প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে। বেশ কয়েকটি জেলার কিছু অঞ্চল নিয়ে কমিশন অত্যন্ত চিন্তিত। সেখানে কিভাবে সুষ্ঠুভাবে ভোট করানো হবে, সেটা নিয়ে বৈঠক করেছেন তিনি। বহুদিন ধরেই বিরোধীরা সরব হয়েছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের অভিযোগ তুলে। গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে হিংসার জন্য লক্ষ লক্ষ মানুষ ভোট দিতে পারেননি, এই অভিযোগে সরব হয়েছে বিজেপিসহ সমস্ত বিরোধী দল।

সুদীপ জৈনের সঙ্গে দেখা করে এই অভিযোগ জানিয়েছেন বিরোধী দলের নেতারা। আর এরপরেই জানা যাচ্ছে চলতি মাসের ১৮-২২ তারিখে রাজ্যে আসছে নির্বাচন কমিশনের ফুলবেঞ্চ। নির্বাচন কিভাবে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা হবে বাংলায়, সেই রূপরেখা তখনই চূড়ান্ত করা হবে বলে কমিশন সূত্রে খবর। স্বাভাবিকভাবেই বিষয়টি নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। এ প্রসঙ্গে রাজ্যের পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম বলেন, নির্বাচন কমিশন যেভাবে মনে করবেন নির্বাচন পরিচালনা করুক। আমাদের তাতে অসুবিধা নেই। আমরা ভোটের জন্য তৈরি। বিজেপি মিথ্যা অভিযোগ করছে। ওদের এসব কথার মূল্য নেই।

উল্লেখ্য বুধবার বিজেপি নেতা স্বপন দাশগুপ্ত সাংবাদিক সম্মেলনে অভিযোগ করেছেন ভূয়ো ভোটার তালিকা নিয়ে। তিনি জানান, রাজ্যে অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি হয়েছে ভোটার সংখ্যা। বহু জায়গায় মৃত ভোটারের নাম কাটানো যায়নি তালিকা থেকে। বিষয়টি নিয়ে অডিট করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। দিল্লি গিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সুনীল অরোরার কাছে দরবার করেছেন বিষয়টি নিয়ে। এদিকে বিশেষ সূত্রে জানা গিয়েছে সম্ভবত ফেব্রুয়ারি মাসেই নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করে দিতে পারে কমিশন। সে ক্ষেত্রে এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই নির্বাচন শুরু হয়ে যেতে পারে। অন্ততপক্ষে ৬-৭ পর্বে রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে খবর।

আরো পড়ুন :সব স্লোগানকে ফিকে করে দিচ্ছে “পরিবর্তনের পরিবর্তন চাই”স্লোগান !

তাই মধ্য জানুয়ারিতে রাজনীতি সচেতন মানুষের অবশ্যই নজর থাকবে নির্বাচন কমিশনের ফুলবেঞ্চের কার্যকলাপের দিকে। জানা গিয়েছে, ভার্চুয়াল মাধ্যমে বৈঠক হবে প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে কমিশন প্রধানের। কোথাও কোনো অভিযোগ যদি পাওয়া যায় প্রশাসনিক কর্তাদের বিরুদ্ধে, এবং সেই অভিযোগের ক্ষেত্রে যদি সত্যতা থাকে, তবে সংশ্লিষ্ট বিষয়টির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে কমিশন। এই বার্তা ইতিমধ্যেই পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে রাজ্য প্রশাসনের কাছে। এবার যে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাধ্যমে নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে, সেই আভাস বহুদিন ধরেই পাওয়া যাচ্ছে।

উল্লেখ্য ২০১১ সালে কেন্দ্রীয় বাহিনীর নজরদারিতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। নির্বাচনে বিপুল জয় পায় তৃণমূল। কিন্তু ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে ব্যাপক হিংসা হয়। হাজার হাজার আসনে বিরোধীরা প্রার্থী দাঁড় করাতে পারেনি। ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও বেশ কিছু কেন্দ্রে শাসক তৃণমূলের বিরুদ্ধে রিগিংয়ের অভিযোগ ওঠে। তাই শান্তিপূর্ণভাবে যাতে নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় তার জন্য কমিশন চেষ্টার ত্রুটি করছে না। ইতিমধ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলার পুলিশ কর্তাদের পাশাপাশি জেলাশাসকদের এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট বার্তা পাঠিয়েছে কমিশন। সব মিলিয়ে জানুয়ারি মাসে কমিশনের ফুলবেঞ্চের দিকে নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।