হাথরসের ঘটনাকে ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব বললেন যোগী

।। ময়ুখ বসু ।। কলকাতা ।।

হাথরাসের ঘটনা ষড়যন্ত্র। এবারে এমন দাবি করলেন স্বয়ং উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। তিনি বিরোধীদের বিরুদ্ধে মূলত আঙ্গুল তুলে এই ষড়যন্ত্রের তথ্য সামনে আনলেন। যোগী ট্যুইট বার্তায় বলেছেন, উত্তরপ্রদেশ রাজ্যের উন্নয়ন কিছু মানুষের সহ্য হচ্ছে না। তারা রাজ্যের উন্নয়ন দেখে দুঃশ্চিন্তায় পড়েছেন। আর তারাই সাম্প্রদায়িক হিংসা বাঁধাতে চাইছেন।

যার মাধ্যমে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করার চেষ্টা চলছে। এরাই হাথরাস কান্ড নিয়ে ষড়যন্ত্র করেছেন। যা রুখতে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। যোগি বলেন, যতো বড়ো সমস্যাই তৈরি হোকা না কেন, আমি বিশ্বাস করি আলোচনার মাধ্যমে তার সমাধান সম্ভব। পাশাপাশি, আদিত্যনাথ রাজ্যের পুলিশ মহলের প্রতি বার্তা দিয়ে বলেন, মহিলা, আদিবাসী জাতি উপজাতি সংক্রান্ত ঘটনায় রাজ্য পুলিশকে অনেক বেশি সংবেদনশীল এবং সক্রিয় থাকতে হবে।

এদিকে আদিত্যনাথের এই ট্যুইট বার্তার পরেই গোটা উত্তরপ্রদেশ জুড়ে কমপক্ষে ১৯ টির মতো মামলা দায়ের করা হয়েছে। যারমধ্যে দেশদ্রোহীতা, ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানো, বৈদ্যুতিন সংবাদমাধ্যমে মিথ্যা খবর প্রচার, আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র, রাজ্যের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এবং প্রশাসনের সম্মানহানির মতো বিষয়গুলি স্থান পেয়েছে। আর ঘটনায় উত্তরপ্রদেশে ক্ষোভের আগুন চড়েছে।

অনেকেই মনে করছেন, উত্তরপ্রদেশ সরকারের বিরুদ্ধে যাতে কেউ প্রতিবাদী হতে না পারেন তারজন্যই তড়িঘড়ি আইনের এই রক্ষাকবচকে কাজে লাগানো হচ্ছে। এদিকে হাথরস কান্ডের ঘটনায় গত তিনদিন আগে দিল্লির সফদরজং হাসপাতালের ফরেনসিক রিপোর্টকে তুলে ধরে সুর চড়ানোর চেষ্টা হয়েছিলো যে, ওই দলিত তরুণীকে ধর্ষন করা হয়নি। কারন রিপোর্টে ধর্ষনের কোনও উল্লেখ ছিলো না।

তবে চিকিৎসকেরা জানিয়ে দেন, নির্যাতিতার সঙ্গে যেদিন ঘটনা ঘটে তার ১১ দিন পর নমুনা আসে ফরেনসিক বিভাগের কাছে। যার ফলে প্রমাণ নষ্ট হয়ে যাওয়ারই কথা। আর এরপরেই ফের চাপ বাড়তে শুরু করে উত্তরপ্রদেশ প্রশাসনের উপর। রাজনৈতিক মহলের ধারনা, একের পর এক চাপের মুখে পড়ে হাথরসের ঘটনাকে খানিকটা হলে লঘু করার প্রয়াসে হয়তো এবারে খোদ মুখ্যমন্ত্রী আসরে নেমে ষড়যন্ত্র তত্বকে উপস্থাপিত করলেন।

এদিকে হাথরাসের ঘটনায় চার অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই করছেন দিল্লির নির্ভয়া গণধর্ষনকান্ডে দোষীদের হয়ে সওয়াল করা আইনজীবি এ পি সিং। আর তাঁকে এই কাজের দায়িত্ব দিয়েছে উচ্চবর্ণের প্রতিনিধিদের দল। রাজনৈতিক মহলের মত, হাথরাসের ঘটনায় দোষীদের শাস্তি হলে উচ্চবর্ণের ভোটব্যাংকে আঘাত আসতে পারে। তাই হয়তো, জাত পাতের রাজনীতির বেড়াজালে জড়িয়ে রাজনৈতিক স্বার্থের চোখ রাঙ্গানিতে প্রশাসন অতিমাত্রায় ততপর হতে পারছে না।

Categories