মায়ের বিদায়বেলাতে আবেগপ্রবণ রুদ্রনীল

1 min read

।। স্বর্ণালী তালুকদার ।। কলকাতা ।।

পুজো আসছে। পুজো প্রায় এসে গেল। পুজোর আর একটা দিন। এইভাবেই কাউন্ট-ডাউন করতে করতে পুজো এবছরের মত শেষ হয়ে গেল। ঢাকের বাদ্যিতে লেগেছে বিষাদের সুর, মায়ের চোখ ছলছল । সব মিলিয়ে করোনার আক্রমনে পুজো যেন আরও বিষাদময় হয়ে গিয়েছে। কিন্তু এর সুরক্ষা বিধি মেনে সাধারণ মানুষ যতটা আনন্দ করার করেছেন। যতটা ইতিবাচক মনোভাব প্রয়োজন আগামী দিনগুলোর জন্য, সেই রসদ তারা পুরোদমে নিংড়ে নিয়েছেন। শুধু কি সাধারন মানুষ! তারকাদের মনেও আনন্দ আর বিষাদের মিশ্র সুর বেজেছে।

আরো পড়ুনঃ ধুনুচি নাচে মত্ত মিমি, সুরক্ষাবিধির ঘেরাটোপেও করলেন আনন্দ

অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষের লেখালেখির স্বভাব কারোর অজানা নয়। তিনি প্রতিটি ঘটনা, মুহুর্তকে শব্দের আঁচলে সুন্দর করে বেঁধে ফেলতে পারেন। বিজয়া দশমার শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে তিনি আবেগতাড়িত হয়ে পড়েছেন। তিনি লিখেছেন, জানি আসছে বছর সবার ভালো হবে। ছলছল চোখে বিদায় জানাবার পালা এলেও সিঁদুর ছোঁয়ানো মানা, নিজের ভাইকে জড়িয়ে ধরতে মানা – রোগের সংক্রমন ঠেকাতে যা কিছু হয়নি, সব হবে ২০২১এ। দেখে নিন ভিডিওটি..

অভিনেতা অঙ্কুশ আবার সিঁদুরখেলায় যোগদান করেছেন। সঙ্গে নিয়েছেন প্রেমিকা ঐন্দ্রিলাকেও। নীল জামা, চোখে রোদচশমা, মোটা গোঁফ, কপালে বড় করে সিঁদুরের টিকা – সব মিলিয়ে ফাটাফাটি দেখতে লাগছে অঙ্কুশকে। পাশে মেকবিহীন লুকে মাত করেছেন ঐন্দ্রিলাও। লালা সালোয়ারের সঙ্গে একটা সিঁদুরের টিপ – এতেই কামাল করেছেন তিনি। দুইজনেই জানিয়েছেন শুভ বিজয়া।

অভিনেত্রী সায়ন্তিকা ব্যানার্জী জানিয়েছেন বিজয়ার শুভেচ্ছা সাবেকি ঢং এ। করজোড়ে প্রণাম করেছেন তিনি, সাদা লাল পাড় শাড়ি, ঠোঁটের লিপস্টিক, চোখের কাজলে মাত করেছন তিনি। আসছে বছর আবার হবে, এই আশাই রেখেছেন তিনি। 

অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় নিরঞ্জিত প্রতিমার ছবি পোস্ট করে লিখেছেন তোমার বিদায়ে নতুন করে মন খারাপ করব না মা। তুমি নতুন আশার আলো জন্ম দিয়ে যাও, এই প্রার্থনা রইল। করোনার যুদ্ধে জিততে মরীয়া সকলেই। তাই মায়ের বিদায়বেলায় ভাবুক হলেন না, বরং দৃঢ় প্রতিজ্ঞ রইলেন প্রসেনজিৎ।

অভিনেত্রী দর্শনা বণিক ঘিয়ে লাল পাড় শাড়িতে টানা চোখের চাউনিতে স্নিগ্ধ পরশ এনে জানিয়েছেন শুভ বিজয়া। তিনি সদ্যই দেখা দিয়েছেন মাঝে মাঝে তব শীর্ষক গানে, যেখানে তাঁর থেকে চোখে ফেরানো কার্যত অসম্ভব ছিল। ঠিক তেমন ভাবেই এখনও চোখ ফেরানো যাচ্ছে না। 

অভিনেত্রী তথা প্রযোজক এনা সাহা জানালেন গুরুত্বপূর্ণ কথা বিজয়া দশমীর প্রাক্কালে। গালে সিঁদুরের ছোঁয়ায় রাঙা এনা জানালেন, দেশে মহিলাদের সুরক্ষা ব্যবস্থা ঠিক হবে কি! কখনও কি ধর্ষনের মতো নারকীয় ঘটনার আতঙ্ক থেকে মুক্ত হবে? মা দুর্গাকে শক্তি এবং ভক্তির প্রতীক হিসেবে পুজো করা হয়, কিন্তু মায়ের রূপে থাকা মেয়েরা অত্যাচারিত হন। এই বিজয়াতে প্রার্থনা রইল, মহামারির সঙ্গে সঙ্গে সমাজের অশুভ শক্তি, মেয়েদের অসম্মানকারীদের লোলুপ দৃষ্টিও যেন শেষ হয়। দেখে নিন এনার সেই ভিডিও..

অভিনেত্রী মধুমিতা চক্রবর্তীর মুখের মিষ্টি হাসিটা আজ আরও বেশি চওড়া। কারণ আজ যে তাঁর জন্মদিন। অনুরাগীদের ভালোবাসায় ভরে গেলে তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া পেজ আর নিজের বাড়ি। তাই ভারী ঝুমকো, চওড়া হাসি, সিল্কের ঘিয়ে লাল পাড় শাড়ি পরে তিনি কড় জোড়ে শুভ বিজয়ার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন সকলকে।

অভিনেত্রী ইশা সাহা আবার আটপৌড়ে সাজে দেখা দিলেন বিজয়ার শুভেচ্ছা জানাতে। ভাবুক চাউনি, কান পাশা, মোহময়ী হাসি, কানের ঝুমকোতে মায়ের রূপ নিয়েছেন। সুমন্দ ভাষ্যে তিনি শুভ বিজয়ার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন সকলকে। রইল ভিডিও আপনাদের জন্য।

অভিনেতা সৌরভ দাস এবং অভিনেত্রী অনিন্দিতা বোস এইবারের পুজোতে একে অপরের প্রেমেই পড়েছেন বারে বারে। চোখে হারাচ্ছেন দুই জন দুইজনকে। সাবেকি সাজেও এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া, কারণ অনিন্দিতার ঠোঁট প্রায় ছুঁয়ে ফেলেছে সৌরভের গাল আর এতে লজ্জায় রাঙা সৌরভ। সবমিলিয়ে এই জুটি খোশমেজাজেই বিদায় দিয়েছেন মা-কে।

অভিনেত্রী নুসরত জাহানের দুর্গাপুজোতে অংশগ্রহণ করা নিয়ে বিতর্ক হলেও, তিনি এই সবে কান দেননি কখনই। বরং সাবেকি সাজে তিনি বরাবর পুজোর মন্ডপে এসে পুজোর উপাচার পালন করেছেন নিষ্ঠা ভরে। একইভাবে অনুরাগীদের শুভ বিজয়ার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন লাল নীল শাড়ির সাজে। হাতের জ্বলন্ত প্রদীপের শিখা মায়ের কৃপার প্রতীক হয়ে উঠেছে যেন।

অভিনেতা যশ দাশগুপ্ত প্রার্থনা করেছেন ভালোর দাপটে শেষ হোক অশুভ শক্তি। এতেই বিজয় প্রাপ্তি হবে বিজয়ার। ড্যাশিং লুকে, ফর্মাল শার্ট আর স্যুটে ফাটাফাটি লুকে দেখা দিয়েছেন তিনি। চোখ থেকে সানগ্লাসটা সরাতেই ললনাদের বুকের ধুকপুকানি দ্বিগুন হয়ে যাবে। এমন ছবি দিয়েই তো ফিদা করেন যশ সকলকে। রইল সেই ভিডিও..

পরিশেষে সংযম বজায় রেখে গোটা বাংলার মানুষ করোনার যুদ্ধে একধাপ এগিয়ে গেল। উৎসবের আনন্দে সকলে সুস্থ থাকবেন। শুভ বিজয়ার প্রীতি ও শুভেচ্ছা রইল প্রথম আনন্দের তরফে।

Categories