Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

আবারও বার্সেলোনা পরিবারে সুখ

1 min read

।। প্রতীক রায়।।

বারবার আটকে যাচ্ছিল অ্যাটাকিং থার্ডে গিয়ে। কখনও কখনও ভাগ্যও সঙ্গ দিচ্ছিল না। আথলেতিক বিলবাওয়ের বিপক্ষে বুধবার রাতের ম্যাচেও এই সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছিল বার্সেলোনাকে। তবে এবার লিওনেল মেসি জ্বলে উঠেছিলেন তার চিরচেনা রূপে। আর তিনি ছন্দে থাকলে প্রতিপক্ষের কী অবস্থা হয়, সেটি নতুন করে বলার প্রয়োজন পড়ে না। আর্জেন্টাইন অধিনায়কের জোড়ায় বিলবাওকে তাদেরই মাঠে ৩-২ গোলে হারিয়ে এসেছে বার্সা।

টানা তিনটি অ্যাওয়ে ম্যাচ জিতল বার্সেলোনা। রোনাল্ড কোম্যান যুগে যা প্রথমবার। পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে পাওয়া জয়ে পয়েন্ট টেবিলের তিন নম্বরে উঠে এসেছে কাতালানরা। ১৭ ম্যাচ শেষে তাদের পয়েন্ট ৩১। সমান ম্যাচে ৩৬ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রিয়াল মাদ্রিদ। আর দুই ম্যাচ কম খেলে ৩৮ পয়েন্ট নিয়ে সবার ওপরে আতলেতিকো মাদ্রিদ।

হুয়েস্কার বিপক্ষে লা লিগার আগের ম্যাচে সুযোগের পর সুযোগ তৈরি করেও ১-০ গোলের কষ্টের জয় পেয়েছিল বার্সা। তবে চলতি মৌসুমে কাতালানদের যে অবস্থা, তাতে কোনোমতে জয় পাওয়াটাই বড় ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেই জায়গা থেকে বিলবাওয়ের মাঠ থেকে জিতে ফেরাটা কোম্যানের জন্য অনেক স্বস্তির ব্যাপার। মাঠের পারফরম্যান্সে, বিশেষ করে মেসি পুরনো ছন্দে ফেরায় বার্সেলোনা আবার ‘সুখী পরিবারে’ রূপ নিয়েছে। খেলোয়াড়দের একে অন্যের সঙ্গে বোঝাপড়া ও জয়ের জন্য সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা ঢেলে সাজানো বার্সেলোনার উজ্জ্বল ভবিষ্যতের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

যদিও সান মামেসের শুরুর অভিজ্ঞতা মোটেও ভালো ছিল না সফরকারীদের। নতুন কোচ মার্সেলিনোর প্রথম ম্যাচে দারুণ শুরু পেয়েছিল বিলবাও। প্রতিআক্রমণ থেকে তৃতীয় মিনিটেই এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। নিজেদের অর্ধ থেকে রাউল গার্সিয়ার বাড়ানো লম্বা পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ক্ষীপ্রগতিতে বার্সার ডি বক্সের ঢুকে পড়েন ইনাকি উইলিয়ামস। এরপর সামনে থাকা ক্লেমঁ লেংলেকে কাটিয়ে আড়াআড়ি শটে বল জড়িয়ে দলকে এগিয়ে নেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড।

গোলশোধে মরিয়া বার্সেলোনা মিনিট তিনেক পরই ভালো সুযোগ তৈরি করেছিল। কিন্তু সের্গিনো ডেস্টের জোড়ালো শট প্রতিহত করেন বিলবাও গোলকিপার উনাই সিমন। তবে বেশিক্ষণ জাল অক্ষত রাখতে পারেননি। ১৪ মিনিটে পেদ্রির হেডে সমতায় ফেরে বার্সেলোনা। মেসির বাড়ানো লম্বা ক্রস ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ংয়ের ভলি হয়ে আসে পেদ্রির সামনে। ১৮ বছর বয়সী মিডফিল্ডার দেখেশুনে হেড করে বল জড়িয়ে দেন জালে।

৩৮ মিনিটে এই পেদ্রির অ্যাসিস্ট থেকেই স্কোরশিটে প্রথমবার নাম লেখান মেসি। বার্সেলোনা অধিনায়কের সঙ্গে তরুণ মিডফিল্ডারের যুগলবন্দী জমে উঠেছে। আগেও ব্যাকহিলে বল বাড়িয়ে মেসিকে দিয়ে গোল করিয়েছেন তিনি। বিলবাও ম্যাচেও দেখা গেল আরেকবার। বক্সের বাইরে থেকে তার করা ব্যাকহিলে বল পেলে যান মেসি, বিলবাও গোলকিপারের লাইন থেকে বেশ খানিকটা এগিয়ে থাকার সুযোগ কাজে লাগিয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন ছয়বারের ব্যালন ডি’অর জয়ী।

৬২ মিনিটে মেসির গোলেই ব্যবধান আরও বাড়ায় বার্সেলোনা। তবে তার আগে-পরে দুইবার পোস্ট হতাশ করেছে আর্জেন্টাইন অধিনায়ককে। নইলে হ্যাটট্রিকের আনন্দে মাততে পারতেন। আতোঁয়া গ্রিজমানের ক্রস থেকে করা তার দ্বিতীয় গোলটিও তো পোস্ট ছুঁয়ে জড়িয়েছে জালে।

গোটা ম্যাচে দারুণ পারফর্ম করা এই মেসির কারণেই আবার পয়েন্ট হারানোর শঙ্কা জন্মেছিল বার্সার! ৯০ মিনিটে তার ভুল থেকেই দ্বিতীয় গোল পায় বিলবাও। মেসির ভুল পাস থেকে বল পেয়ে গিয়েছিলেন আলেক্স বেরেনগার। তার বাড়ানো পাস থেকে আড়াআড়ি শটে দারুণ এক গোল করেন মুনিয়াইন।

বার্সেলোনা ক্যাম্পে শঙ্কা জন্মালেও ইনজুরি টাইমের তিন মিনিট কোনও বিপদ ছাড়া পার করে দিতে পেরেছে। তাতে অ্যাওয়ে ম্যাচ থেকে পূর্ণ ৩ পযেন্ট পেয়ে তালিকার তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে কোম্যানের দল।

পিসি/