ভারত-চিন সীমান্তে শহীদ রাজেশ ওরাংয়ের বাড়িতে রাজ্যপাল

1 min read

।। হিমাদ্রি মন্ডল,বীরভূম ।।

দিন কয়েজ আগেই প্রশাসনিক সূত্রে জানা যায় রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর বীরভূমের মহঃবাজারে আসছেন। সেইমতো শুক্রবার তিনি কপ্টারে সিউড়ির চাঁদমারী ময়দানে এসে পৌঁছান। সেখান থেকে সড়কপথে যান মহঃবাজারে। মহঃবাজারে রাজেশ ওরাংয়ের বাড়ি বেলগড়িয়াতে পৌঁছে প্রথমেই শহীদ রাজেশের ছবিতে মাল্যদান করে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন সস্ত্রীক রাজ্যপাল। এরপর পরিবারের লোকজনদের সাথে কথা বলবেন রাজ্যপাল।

জুন মাসের ১৫ তারিখ ভারত-চীন সীমান্তে পূর্ব লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় দুই দেশের সেনা সংঘাতে শহীদ হন বীরভূম তথা বাংলার বীর পুত্র রাজেশ ওরাং। রাজেশের শহীদ হওয়ার খবর পৌঁছায় জুন মাসের ১৬ তারিখ বিকাল বেলায়। আর এই খবর পৌঁছাতেই শোকস্তব্ধ হয়ে পড়ে গোটা পরিবার, গোটা জেলা, রাজ্য, দেশ। সেই সপ্তাহের শুক্রবার শহীদের কফিনবন্দি দেহ আসে মহঃবাজারের বাড়িতে। তারপর তাঁকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাধিস্থ করা হয়। রাজেশ ওরাংয়ের শহীদ হওয়ার পর তাঁর পাশে দাঁড়ায় রাজ্য সরকার। পরিবারের একজনকে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয় এবং দু লক্ষ টাকা নগদ দেওয়া হয়। সরকারের পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের তরফ থেকেও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া হয়, সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া হয় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের তরফ থেকে এবং জেলা ও রাজ্যের বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার তরফ থেকে।

আর এই রাজেশ ওরাংয়ের শহীদ হওয়া দেখতে দেখতে পেরিয়ে গেল একটা মাস। এদিন রাজ্যপালের আগমনকে কেন্দ্র করে বীরভূম জেলা প্রশাসনের তরফ থেকে অছিদ্র নিরাপত্তাবেষ্টনী গড়ে তোলা হয়েছে বীরভূমের বিভিন্ন এলাকায় এবং মহঃবাজারে।

এদিন রাজ্যপাল রাজেশ ওরাংয়ের বাড়িতে উপস্থিত হয়ে বলেন, “রাজেশ ওরাং বীরভূমকে বীরভূমি করে দিয়েছেন। রাজেশ ওরাং দেশের জন্য শহীদ হয়েছেন। এই বীরভূম হলো সেই জায়গা যেখানে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শান্তিনিকেতন করেছেন। বিখ্যাত অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন বীরভূমের, মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির বীরভূমের। বীরভূম সেই জায়গা যেখানে গীতগোবিন্দ রচিত হয়েছিল। আর এই বীরভূমকে আরও গৌরবোজ্জ্বল করলো রাজেশ ওরাং। দেশের জন্য প্রাণ দেওয়া ব্যক্তি সবথেকে বড় প্রেরণা।”

এছাড়াও তিনি এদিন বর্তমান করোনা আবহের কথা মাথায় রেখে সাধারণ মানুষকে সব সময় সামাজিক দূরত্ব এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, “করোনা আবহে এসকল মেনে না চললে আমরা, আমাদের পরিবার বিপদের মুখে পড়তে পারি। আর আমরা বিপদের মুখে পড়লে দেশ বিপদের মুখে পড়বে।”

Categories