কফি আবিষ্কারের নেপথ্যে ছিল ছাগল !

1 min read

।। প্রথম কলকাতা ।।

পুরোনো কিংবদন্তী অনুযায়ী, নবম শতকে কালদি নামের একজন ছাগল-পালক প্রথম তার ছাগলদের বেরি জাতীয় গাছ থেকে ফল খেতে দেখে। পরবর্তীতে সে লক্ষ্য করে যে তার ছাগলগুলো সারারাত না ঘুমিয়ে পার করে দেয়।একদল সন্ন্যাসীকে তার পর্যবেক্ষণ জানানোর পর ঐ ফল থেকে পানীয় তৈরি করে তারা; উদ্দেশ্য ছিল সারারাত জেগে প্রার্থনা করা।

বর্তমানে শহরকেন্দ্রিক সমাজ ব্যাবস্থায় কফি নিয়ে যতটা হইচই এবং আলোচনা হয়ে থাকে,তা আগে কখনো ছিল না বললেই চলে।প্রতিদিনের কাজ শুরু করার আগে, লাঞ্চের পর অথবা অলস বিকেলে অনেকটা অভ্যাসবশতই কফি পান করার চল অনেকের মধ্যেই রয়েছে।ইন্টারন্যাশনাল কফি অর্গানাইজেশনের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯১ সালে সারা বিশ্বে ৬০ কেজি ওজনের কফির ব্যাগ বিক্রি হয়েছিল ৯ কোটি। এবছর সেই সংখ্যা গিয়ে দাঁড়াবে ১৬ কোটিতে।

কফির ভেতরের মূল চেরি ফলটিতে কামড় দিলে অনেকটা ডিম্বাকার দুই ভাগ হয়ে যায় বীজটি।যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় কফি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী বিশ্বের ৫% কফিতে ‘পিবেরি’ নামক একটি বীজ থাকে। কড়া স্বাদ এবং চমৎকার মিশ্রণের জন্য এই ধরণের কফি বীজ বিখ্যাত। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে কফি ওতোপ্রোতভাবে জড়িত, কিন্তু আমরা অনেকেই জানি না এমন কিছু তথ্য যা শুনে সত্যিই অবাক হতে হয়। যেমন, বিষ্ঠা থেকে তৈরি হয় কফি, যায় মূল্য আকাশ ছোঁয়া।

সিভেট’ নামের স্তন্যপায়ী এক ধরণের বিড়াল অথবা হাতি – পৃথিবীর সবচেয়ে দামী কফি এই দুই প্রাণীর যে কোনো একটির পরিপাকতন্ত্র হয়ে মানুষের কাছে পৌঁছায়।ঐ ধরণের কফির ৫০০ গ্রামের দাম হতে পারে ৭০০ ডলার অর্থাৎ ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৬০ হাজার টাকা। কফি নিয়ে আমরা বিভিন্ন বিজ্ঞাপন দেখতে পাই। আমাদের মধ্যে তার ফলে চাহিদা আরও বাড়ছে। প্রথম কফি দিবস পালন করা হয় ২০১৫ এর ১ অক্টোবর।

কিন্তু কোন বিশেষ দিন নয়,রোজই আমাদের ড্রয়িং রুমে কফির আনাগোনা। কফি পান করার মাধ্যমে অনেক রোগ নির্মূল হয়।কফিতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট থাকে। এগুলো আমাদের দেহের কোষগুলোকে ক্ষতিকর বিষাক্ত পদার্থ ও রাসায়নিকের মিশ্রণ ঠেকাতে সাহায্য করে।কফি যে শুধু ঘরেই উপভোগ করা হতো, তা কিন্তু নয়। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন শহরে কফির দোকানগুলোকে বলা হতো ‘কাহভেহ খানেহ।’

ঐসব কফির দোকানগুলো পরবর্তীতে দৈনন্দিন আড্ডা, জমায়েতের জায়গা হিসেবে জনপ্রিয়তা লাভ করে।এ প্রসঙ্গে আমাদের মনে পড়ে যায়, মান্না দের সেই বিখ্যাত গান, কফি হাউজের সেই আড্ডাটা। আমাদের এই কফি কাপের আড্ডা শুধু ১ অক্টোবর না, যেন সারাবছর চলতে থাকে, তবে বর্তমানের এই করোনা পরিস্থিতিতে আমাদের ড্রয়িং রুমই কফি হাউজে পরিণত হওয়া শ্রেয়।