গান্ধীজিও তাহলে বহিরাগত ছিলেন? তৃণমূলকে বিঁধলেন দিলীপ

1 min read

।। কুমার মিত্র ।।

টানা পাঁচ দিন ধরে তৃণমূল কংগ্রেস কবে সাংবাদিক সম্মেলন করেছে তা চট করে মনে করা যাবে না। তার পাল্টা সাংবাদিক সম্মেলন করছে বিজেপিও। যেখানে বহিরাগত ইস্যুতে তৃণমূল এবং বিজেপির মধ্যে চাপানউতোর অব্যাহত। আর সেই প্রসঙ্গে শনিবার সাংবাদিক বৈঠকে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ তৃণমূলকে বিঁধতে বলেন, “আমাদের পাঁচ কেন্দ্রীয় নেতা যদি বহিরাগত হবেন তাহলে দেশের স্বাধীনতা রক্ষায় যেসব বাঙালি আন্দোলন করেছিলেন তাঁরা কি শুধু বাংলার জন্য আন্দোলন করেছিলেন?

তাঁরা তো গোটা দেশের জন্য আন্দোলন করেছিলেন। মহাত্মা গান্ধীজি তো গুজরাটের। তাহলে তিনিও কি বহিরাগত?” রাজ্যে বিশেষ দায়িত্বে বিজেপির ৫ কেন্দ্রীয় নেতার আগমনের পরেই বহিরাগত ইস্যুতে যেভাবে তৃণমূল সোচ্চার হয়েছে, তারই প্রত্যুত্তর এদিন এভাবেই দিয়েছেন দিলীপবাবু। শশী পাঁজা, সুখেন্দু শেখর রায়, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, ব্রাত্য বসুর পর এবার কাকলি ঘোষ দস্তিদার। শনিবার তৃণমূল ভবনে বারাসতের সাংসদ সাংবাদিক সম্মেলন করে ফের বহিরাগত ইস্যুতে বিজেপিকে আক্রমণ করেন। বিজেপির যে পাঁচ কেন্দ্রীয় নেতা রাজ্যে বিশেষ দায়িত্বে এসেছেন, তার বিরুদ্ধে সোচ্চার হন কাকলিদেবী।

সেই সঙ্গে তিনি বিভিন্ন ইস্যুতে বিজেপিকে এদিন আক্রমণ করেন। তিনি বলেন,” দেশে ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি চলছে। ভোটের আগে বিজেপি দলিতের বাড়িতে ভোজন করে, পরে দলিত নিধন হয়। দলিতদের ওপর অত্যাচার বহু গুণ বেড়েছে “। এখন প্রশ্ন তৃণমূল রোজ এভাবে দলের বিশিষ্ট নেতৃত্বকে সামনে রেখে সাংবাদিক সম্মেলন কেন করছে? সবচেয়ে বড় কথা যারা সাংবাদিক সম্মেলন করলেন এই পাঁচ দিন ধরে, তাঁরা কেউই এ ব্যাপারে পরিচিত মুখ নন।

আরো পড়ুন : লোকালের পর এবার নন -সাবার্বান রেল চালু করতে চলেছে নবান্ন

অর্থাৎ সাংবাদিক সম্মেলনে তাঁদের নিয়মিত দেখা যায় না। তার মানে কি এটাই দাঁড়াচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস বহিরাগত ইস্যুতে গোটা দলকে সংবাদমাধ্যমের সামনে নামিয়ে দিতে চাইছে? এদিকে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বহিরাগত ইস্যুতে তৃণমূলকে ব্যাপক নিশানা করেছেন। তিনি বলেন,” বাংলার লক্ষ লক্ষ পরিযায়ী শ্রমিক অন্য রাজ্যে কাজ করছেন। তাঁদের তো কেউ বহিরাগত বলে মনে করেন না।

যেসব রাজ্যে তাঁরা কাজ করছেন সেখানে তাঁরা খুবই সম্মান পান। গুজরাটে বহু বাঙালি শ্রমিক কাজ করছেন। সেখানে কাজ করে তাঁরা লক্ষ লক্ষ টাকা উপার্জন করছেন। এখন তৃণমূল নেত্রী যদি বলেন বহিরাগত, তাহলে তো তাঁদের সবাইকে বাংলায় ফিরে আসতে হয়। সেই বিপুল সংখ্যক মানুষকে রাজ্য সরকার চাকরি দিতে পারবে তো? রাজনীতির জন্য বাঙালিদের বিপদে ফেলছে তৃণমূল। এটা আপনারা করবেন না”।‌

সব মিলিয়ে বহিরাগত ইস্যুতে তৃণমূল এবং বিজেপির মধ্যে বিরোধ চরমে পৌঁছেছে। এর পাশাপাশি এদিন তৃণমূল করোনা মোকাবিলার ক্ষেত্রেও কেন্দ্রের ব্যর্থতার অভিযোগ তুলেছে। এ প্রসঙ্গে কাকলিদেবী বলেন, শুধুমাত্র করোনা মোকাবিলার নিরিখে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের সরে যাওয়া উচিত। প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত। সব মিলিয়ে শীতের শুরুতেই রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ যে অনেকটাই বেড়ে গেছে তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

Categories