অধ্যাপক থেকে রাষ্ট্রপতি,কেমন ছিল প্রণব মুখোপাধ্যায়ের কর্মজীবন!

1 min read

।। প্রথম কলকাতা ।।

প্রণব মুখোপাধ্যায়ের অধুনা পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার কীর্ণাহার শহরের নিকটস্থ মিরাটি গ্রামে ১৯৩৫ সালে ১১ ডিসেম্বর জন্মগ্রহন করেন। তার পিতার নাম কামদাকিঙ্কর মুখোপাধ্যায় ও মাতার নাম রাজলক্ষ্মী দেবী। প্রণব মুখোপাধ্যায় সিউড়ির বিদ্যাসাগর কলেজের ছাত্র ছিলেন। তাঁর কর্মজীবন সম্পর্কে এবার বিস্তারিত আলোচনা করা হল।

প্রণব মুখোপাধ্যায় তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন একজন কলেজ শিক্ষক রূপে। প্রথম দিকে তিনি হাওড়া জেলার বাঁকড়ায় অবস্থিত “বাঁকড়া ইসলামিয়া হাইস্কুল” এ ২ বছর শিক্ষকতা করেন। তারপর বেশ কিছু সময় তিনি সাংবাদিক হিসাবেও কাজ করেন। সেই সময় দেশের ডাক নামে একটি পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। এছাড়াও তিনি বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের ট্রাস্টি ও পরে নিখিল ভারত বঙ্গ সাহিত্য সম্মেলনের সভাপতি পদে নিযুক্ত হয়েছিলেন তিনি। অন্যদিকে তিনি ছিলেন ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা।

১৯৬৯ সালে প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সাহায্যে ভারতীয় সংসদের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় কংগ্রেসের টিকিটে নির্বাচিত হন প্রণব মুখোপাধ্যায়। আর তারপর থেকেই রাজনৈতিক কর্মজীবনে তাঁর উত্থান দ্রুত শুরু হয়। অন্যদিকে তিনি ইন্দিরা গান্ধীর একজন বিশ্বস্ত সহকর্মীতে পরিণত হন। এরপর ১৯৭৩ সালে ইন্দিরা গান্ধীর ক্যাবিনেট মন্ত্রিসভায় স্থান পান তিনি। ১৯৮০ থেকে ১৯৮৫ পর্যন্ত তিনি রাজ্যসভার দলনেতা ছিলেন এবং ১৯৮২-৮৪ পর্বে তিনি ছিলেন ভারতের অর্থমন্ত্রী ছিলেন। উল্লেখ্য ১৯৮৪ সালে যুক্তরাজ্যের ইউরোমানি পত্রিকার একটি সমীক্ষায় তিনি বিশ্বের শ্রেষ্ঠ পাঁচ অর্থমন্ত্রীর অন্যতম হিসেবে বিবেচিত হন।

অন্যদিকে তিনি হলেন ভারতের ত্রয়োদশ রাষ্ট্রপতি। ২০১২ সালে নডিএ প্রার্থী লোকসভার সাবেক স্পিকার মেঘালয়ের ভূমিপুত্র পিএন সাংমাকে ৭১ শতাংশের বেশি ভোটে হারিয়ে রবিবার ভারতের রাষ্ট্রপতি পদে ইউপিএ প্রাথী প্রণব প্রণব মুখোপাধ্যায় নির্বাচিত হন। প্রণব প্রণব মুখোপাধ্যায় ৫ লক্ষ ১৮ হাজার ৬৮৯টি ভোট পেয়েছিলেন। তারপর ২৫ জুলাই আনুষ্ঠানিক ভাবে রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন তিনি। রাষ্ট্রপতি হিসাবে কার্যভার গ্রহণ করার আগে তিনি ভারতের অর্থমন্ত্রী ও কংগ্রেসের শীর্ষস্থানীয় সমস্যা-সমাধানকারী নেতা ছিলেন।

তাঁর রাজনৈতিক কর্মজীবন ছয় দশক ব্যাপী। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে ভারত সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রক যেমন, ভারতের বিদেশ, প্রতিরক্ষা, যোগাযোগ, রাজস্ব ইত্যাদি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রকের দায়িত্বও পালন করেছেন তিনি।এছাড়া প্রণব মুখোপাধ্যায় বিভিন্ন সময়ে ভারত-মার্কিন অসামরিক পরমাণু চুক্তি সাক্ষরের মতো বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। দলের প্রতি আনুগত্য ও অসামান্য প্রজ্ঞা তাঁকে কংগ্রেস দল সহ দলের বাইরেও শ্রদ্ধার পাত্র করে তুলেছে। দেশের প্রতি অবদানের জন্য তাঁকে ভারতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান পদ্মবিভূষণ ও শ্রেষ্ঠ সাংসদ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।