Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

মমতার সভা থেকে নবান্ন, বিক্ষোভ সামাল দিতে হিমশিম প্রশাসন

1 min read

।। প্রথম কলকাতা ।।

বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে ততই দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন বিষয়ে ক্ষোভ বিক্ষোভ বাড়ছে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে। আর নিজেদের দাবি-দাওয়া ঘিরে বিক্ষোভের ঢেউ আছড়ে পড়ছে কখনও নবান্ন, কখনও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) সভাস্থলের সামনে। সোমবার সেই ছবি ফের একবার দেখল রাজ্য। এর আগে উত্তর ২৪ পরগনাতে মমতার সভায় একই ছবি দেখা গিয়েছিল। নির্বাচনের আগে এই ধরনের চাপ রাজ্য সরকার কিভাবে সামলায়, তার ওপর অনেকটাই নির্ভর করছে রাজ্য রাজনীতির ভবিষ্যৎ। বেতন কাঠামোর উন্নতিসহ বহু দাবি-দাওয়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিক্ষোভ চালাচ্ছেন পার্শ্বশিক্ষকরা।

সোমবার শিক্ষক ঐক্য মুক্তমঞ্চ নবান্ন অভিযান এর ডাক দিয়েছিল তাঁদের দাবি-দাওয়া ঘিরে। মূলত প্রাণীমিত্র, প্রাণীবন্ধু, এসএসকে, এমএসকে, পার্শ্বশিক্ষকরা ঐক্য মুক্তমঞ্চের সক্রিয় সদস্য হিসেবে পরিচিত। পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী এদিন নবান্ন অভিযানের ডাক দিয়েছিল তারা। আর প্রাণীবন্ধু এবং আইসিডিএস- এর মহিলা কর্মীরা এদিন রানাঘাটের হবিবপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) সভার সামনে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখিয়েছেন নিজেদের দাবি নিয়ে। সবমিলিয়ে বিধানসভা নির্বাচনের আগে ফের অস্বস্তিতে পড়ল তৃণমূল। এদিন সকাল থেকেই পার্শ্বশিক্ষকরা জমায়েত হয়েছিলেন শহীদ মিনারের সামনে। সেখানে একটা ছোট সভা করেন। এরপরই নবান্নের দিকে রওনা হন তাঁরা।

কিছু দূর যাওয়ার পরেই ডাফরিন রোডের সামনে তাঁদের বাধা দেয় পুলিশ। একটা সময় পুলিশের সঙ্গে বচসা শুরু হয়ে যায় আন্দোলনকারীদের। সেখান থেকে হাতাহাতি এবং ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়ে দু’পক্ষ। পার্শ্ব শিক্ষকদের অভিযোগ, পুলিশ তাঁদের ওপর লাঠিচার্জ করেছে। উল্টোদিকে পুলিশের দাবি, ধস্তাধস্তির সময় ডিসি সাউথ সুধীর কুমারের নাক ফেটে গিয়েছে। দীর্ঘক্ষণ ধরে সেখানে অশান্তি চলতে থাকে। একটা সময় পুলিশ কয়েকজনকে আটক করে। তখন উত্তেজনা চরমে ওঠে। ডিসি সেন্ট্রাল এবং ডিসি সাউথের নেতৃত্বে প্রচুর পুলিশকর্মী সেখানে হাজির হন অশান্তি থামাতে। ছিল কমব্যাট ফোর্স। প্রচুর মহিলা পার্শ্ব শিক্ষকদের হেনস্থা করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।

পার্শ্ব শিক্ষকরা দাবি করতে থাকেন, অবিলম্বে ছেড়ে দিতে হবে যাদের আটক করা হয়েছে তাঁদের। সেই দাবিতে বিক্ষোভ চলতে থাকে। দীর্ঘক্ষণ গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে যায় মেয়ো রোডের সামনে। পরে পুলিশ তাঁদের ছেড়ে দিলে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে। এরপর ফের শহীদ মিনারের সামনে এসে জড়ো হন সবাই। এক পার্শ্ব শিক্ষকের কথায়, বহুদিন ধরে আমরা দাবি জানাচ্ছি। কিন্তু সরকার আমাদের উপেক্ষা করছে। আমাদের উপর আজ লাঠিচার্জ করা হয়েছে। এটা একটা গণতান্ত্রিক আন্দোলন ছিল। পুলিশ জোর করে সেটা থামাতে চাইছে। এটা বাঞ্ছনীয় নয় তৃণমূল সরকারের কাছ থেকে। উল্টোদিকে রানাঘাটে মমতার সভার সামনে জড়ো হয়েছিলেন বহু মহিলা প্রাণীবন্ধু এবং আইসিডিএস- এর মহিলা কর্মীরা।

আরো পড়ুন :হিসেব করে রাখুন, আমি ছাড়ার লোক নই, হুঙ্কার শুভেন্দুর

নিজেদের দাবি-দাওয়া নিয়ে তাঁরা বলেন,” আমরা আগে মাসে ১৫০০ টাকা করে পেতাম। মুখ্যমন্ত্রী সেটা বাড়িয়ে ৩০০০ টাকা করেছেন। আমরা তাঁকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। কিন্তু আমাদের দাবি অন্য। আমরা চাই এই টাকা আমাদের ভাতা হিসেবে দিতে হবে। ইনসেনটিভ হিসেবে নয়। কারণ সরকার যদি বিধানসভা নির্বাচনে হেরে যায় তাহলে ইনসেনটিভ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। আমাদের মাইনে হিসেবে ভাতা দিতে হবে। তাহলে সরকার পরিবর্তন হলেও আমাদের মাইনে বন্ধ হবে না। এই দাবি বহুদিন ধরে করছি। চিঠিও দিয়েছি। আজ আমরা রানাঘাটে মুখ্যমন্ত্রীর সভায় সেই দাবি জানাতে এসেছি। কিন্তু আমাদের বাধা দেওয়া হয়েছে”।

এদিন দেখা যায় দলে দলে মহিলারা হাতে প্ল্যাকার্ড, পোস্টার নিয়ে সভাস্থলের সামনে এসে জড়ো হয়েছেন। সেই সময় খবর সংগ্রহ করতে গেলে সাংবাদিকদের বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে প্রশাসনের বিরুদ্ধে। সব মিলিয়ে এদিন রাজ্য রাজনীতি সরগরম হয়ে ওঠে পার্শ্বশিক্ষক এবং প্রাণীবন্ধুদের দাবি-দাওয়াকে ঘিরে। যেভাবে বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ-বিক্ষোভ বাড়ছে শিক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কর্মরতদের কাছ থেকে, সেটা বিরোধীদের কাছে অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। যদিও এদিন তৃণমূল ভবনে সাংবাদিক সম্মেলনে বিষয়টি নিয়ে রাজ্যের মন্ত্রী ব্রাত্য বসু বলেন, গণতান্ত্রিক আন্দোলন কেউ করতেই পারেন। কেন ধস্তাধস্তি হয়েছিল আমরা সেটা নিশ্চয়ই খোঁজ নিয়ে দেখব।