রাজভবনের চিঠিতে ভীত,ভার্চুয়াল বৈঠকে থাকছেন না উপাচার্যরা

।। রাজীব ঘোষ।।

করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে পড়ুয়াদের সমস্যা নিয়ে আলোচনা করার জন্য গত 27 জুলাই উপাচার্যদের চিঠি দিয়েছিলেন রাজ্যপাল জাগদীপ ধনকার। সেই বৈঠকে উপাচার্যদের যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। উপাচার্যরা জানান রাজ্যের নয়া বিধি অনুযায়ী সেই চিঠি উচ্চ শিক্ষা দপ্তরের মাধ্যমে তাদের কাছে যাওয়ার কথা। এর মধ্যেই গত সোমবার এবং মঙ্গলবার রাজভবনের তরফ আরো দুটি চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপাচার্যরা।

যেটা চূড়ান্ত অপমানজনক এবং ভীতি প্রদর্শনকারী বলে দাবি করেছেন তারা। তার জেরে বুধবার রাজ্যপাল তথা আচার্য জগদীপ ধানকর এর সঙ্গে যে ভার্চুয়াল বৈঠক রয়েছে তাতে না থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন উপাচার্যরা। উপাচার্য পরিষদের তরফে বিবৃতিতে বলা হয় গত 13 জুলাই মাননীয় আচার্য কার্যালয় থেকে একটি অপমানজনক চিঠি পেয়েছেন উপাচার্যরা এবং আবার 14 জুলাই একটি ভীতি প্রদর্শনকারী চিঠি পেয়েছেন।

এরকম জাতীয় সংকটের সময় মাননীয় আচার্যের কার্যালয় থেকে এরকম চিঠি পাওয়া দুর্ভাগ্যজনক বলে মনে করছে উপাচার্য পরিষদ। নিয়ম মেনে যুক্তিযুক্ত ভাবে কাজ করা উপাচার্যরা মাননীয় আচার্যের কার্যালয় থেকে এরকম চিঠি পাওয়ার বিষয়টি কাম্য নয় বলে মনে করেন। উপাচার্য পরিষদের সম্পাদক তথা উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সুবীরেশ ভট্টাচার্য বলেন রাজ্যপালের চিঠিতে যে ভাষার প্রয়োগ হয়েছে তাতে উপাচার্যের মর্যাদায় আঘাত হেনেছে।

উচ্চ শিক্ষা দপ্তরের মাধ্যমে আমন্ত্রণ না হলে আমাদের পক্ষে বৈঠকে থাকা সম্ভব হবে না। শিক্ষা মহলের মতে এমনিতেই বিভিন্ন ইস্যুতে রাজ্যপাল এবং রাজ্যের মধ্যে দ্বন্দ্ব লেগেই থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের এই বিবৃতির পর সেই দ্বন্দ্বে নয়া মাত্রা যোগ হতে পারে বলে মনে করছে পর্যবেক্ষকরা।