বর্বরতার চূড়ান্ত নিদর্শন, ক্যারিক্যাচারের মূল্য দিতে হল শিক্ষককে!

1 min read

।। স্বর্ণালী তালুকদার ।। কলকাতা ।।

ফ্রান্সের রাজধানি প্যারিসের উপকন্ঠে একটি স্কুলের ইতিহাসের শিক্ষককে ক্যারিক্যাচার দেখানো জন্য প্রাণ দিতে হল। শুক্রবার ভোর ৫ টা নাগাদ ওই শিক্ষকের শিরচ্ছেদ করা হয়, তারই স্কুল কনফ্ল্যালস সাইন্টে হনরিনের সামনে। আততায়ীদের শনাক্ত করা যায়নি বলে জানানো হয়েছে পুলিশের তরফে। ওই আততায়ীকে গ্রেফ্তার করতে গেলে সে বাধা দেয়, এবং আত্মরক্ষার স্বার্থে পুলিশকে গুলি চালাতে হয়। 

আততায়ী আহত হলে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়, এবং পরে সে মারা যায়। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ, যাদের মধ্যে একজন নাবালকও রয়েছে। আততায়ী ওই শিক্ষককে হামলা করার সময় আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ট বলে চিৎকার করে, এমনটাই জানিয়েছে ফ্রান্সের সংবাদ মাধ্যম।

 স্কুলের সামনে হামলা হয়েছে এমন খবর জানতে পেরে পুলিশ ঘটনাস্থলে যান, এবং ওই আততায়ীকে পাকড়াও করে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে আসেন রাষ্ট্রপতি এমানুয়েল ম্যাকরণ, যিনি এই ঘটনাকে “ইসালামীয় সন্ত্রাসবাদী” হামলা হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি জানান, “সমগ্র দেশবাসী শিক্ষকদের রক্ষা করার স্বার্থে একজোট হবে এবং এই বর্বতা কখনই জিতবে না।”

ওই শিক্ষক ক্লাসে পড়ুয়াদের হজরত মহম্মদের ক্যারিক্যাচারের উদাহরন দিয়ে বাক স্বাধীনতার প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে পড়িয়েছিলেন। ওই স্কুলের এক পড়ুয়ার অভিভাবক জানিয়েছিলেন, বিতর্কের সূত্রপাত এই সময় থেকেই। পড়ানোর সময় ক্লাসের মুসলিম পড়ুয়াদের তিনি বেরিয়ে যেতে বলেছিলেন। 

তিনি অনুরোধ করেছিলেন, তোমাদের ভাবাবেগে আঘাত করতে চাই না। ওই পড়ুয়া তার অভিভাবককে জানিয়েছিল ওই শিক্ষক ভীষণই শান্ত, দয়ালু এবং পড়ুয়া বৎসল ছিলেন। ওই শিক্ষক যথাযথ ভদ্রতা এবং নম্রতার সঙ্গেই পড়ুয়াদের অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু তারপরেও  শিক্ষককে শিক্ষা দেওয়াার মাশুন গুনতে হল তার প্রাণ ত্যাগ করে।

অত্যন্ত নির্মমভাবে শিক্ষকের দেহ থেকে শিরচ্ছেদ করা হয়েছে বলে পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে। স্কুলের ওই এলাকাটিকে আপাততঃ কড়া পুলিশ প্রহরায় রাখা হয়েছে। ২০১৫ সালে ফ্রান্সে সন্ত্রাসবাদী হামলার সময়েও একইভাবে নির্মম ভাবে সাধারণ মানুষকে প্রাণ দিতে হয়েছিল, তাই এই ঘটনায় দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে আতঙ্ক।