Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

রাজ্যসভার প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ কে ডি সিংহ গ্রেফতার, মুকুলকে গ্রেফতার করা হোক :কুণাল ঘোষ

1 min read

।। প্রথম কলকাতা ।।

দিল্লি থেকে গ্রেপ্তার করা হল অ্যালকেমিস্ট সংস্থার কর্ণধার কেডি সিংকে। বহুদিন ধরেই ওই সংস্থার বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। কেন্দ্রীয় সংস্থা ইডি এবং সিবিআই যে সমস্ত চিটফান্ড কোম্পানির বিরুদ্ধে তদন্ত অভিযান চালাচ্ছে, সেগুলির মধ্যে অন্যতম অ্যালকেমিস্ট। উল্লেখ্য একটা সময় তৃণমূলের সাংসদ ছিলেন তিনি। রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে তাঁকে মনোনীত করেছিল তৃণমূল। যদিও টার্ম শেষ করার পর তাঁকে আর মনোনয়ন দেয়নি দল। অভিযোগ তিনি বাজার থেকে ১৯০০ কোটি টাকা তুলেছিলেন। সেই টাকা তছরুপের দায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাঁকে।

কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার অভিযোগ, তিনি তদন্তের কাজে একেবারেই সহযোগিতা করেননি। এরপরই বুধবার দিল্লিতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদকে। স্বাভাবিকভাবেই বিষয়টি নিয়ে নতুন করে তরজায় জড়িয়েছে তৃণমূল এবং বিজেপি (BJP)। কেডি সিং গ্রেফতার হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, কেডি সিংয়ের মতো লোকদের তৃণমূলে এনেছেন মুকুল রায়। মুকুল রায় সরাসরি আর্থিক তছরুপের সঙ্গে জড়িত। বাঁচার জন্য ভয়ে বিজেপিতে ঢুকে বসে আছে। আমার উপর অনেক দোষ চাপানো হয়েছে। আমি বহু আগেই কেডি সিংয়ের নাম বলেছিলাম।

আরো পড়ুন : “তৃণমূলের জয় হোক”, অনুব্রতর মহাযজ্ঞে সাড়া দেবে না মা কালী: শ্যামপদ মণ্ডল (বিশেষ সাক্ষাৎকার )

তখন আমায় পাগল বলা হয়েছিল। তাই আবারও বলছি, এক্ষুনি গ্রেপ্তার করতে হবে মুকুল রায়কে। বিষয়টি নিয়ে তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায় বলেন, তিনি আমাদের দলে অনেক আগে ছিলেন। তাই এ ব্যাপারে কিছু বলতে চাইছি না। তদন্ত চলুক। যদিও বিজেপি নেতা জয়প্রকাশ মজুমদার বিষয়টি নিয়ে তৃণমূলকে নিশানা করেছেন। তিনি বলেন, আর্থিক তছরুপের সঙ্গে জড়িত কেডি সিং। তৃণমূলে থাকার সময় তিনি এই আর্থিক প্রতারণা করেছিলেন। তাই তৃণমূল দায় এড়াতে পারে না। শুভেন্দু রায় একই ভাবে কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন এ ব্যাপারে।

তিনি বলেন, ৭০ লক্ষ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন কেডি সিং। শুধু গ্রেফতার করলে হবে না। তাঁর বিপুল সম্পত্তি উদ্ধার করে গরিবদের মধ্যে সেটা বিলি করে দিতে হবে। বিধানসভা নির্বাচন দরজায় কড়া নাড়ছে। এর আগেও রাজ্যবাসী দেখেছে লোকসভা বা বিধানসভা নির্বাচনের আগে চিটফান্ড কেলেঙ্কারি কতটা প্রধান ইস্যু হয়ে উঠেছে। সারদা, নারদা কাণ্ড নিয়ে বিজেপি নিয়মিত আক্রমণ করে চলেছে তৃণমূলকে। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচনের দোরগোড়ায় কেডি সিং গ্রেফতার হওয়ায় তৃণমূলের যে অস্বস্তি বহু গুণে বাড়ল, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। নির্বাচনের আগে সক্রিয়তা বেড়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার। তাই আরো রাঘববোয়ালরা সিবিআই বা ইডির জালে আগামীদিনে জড়িয়ে পড়েন কিনা, সেটাই এখন দেখার।