Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

অতীতের বিবাদ ভুলে দুজনে এক মঞ্চে, রোগ অনুযায়ী ওষুধ দেওয়ার দাওয়াই

1 min read

।। প্রথম কলকাতা ।।

একটা সময় পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার পুলিশ সুপার ছিলেন ভারতী ঘোষ (Bharti Ghosh)। পরবর্তীকালে তিনি যোগ দিয়েছিলেন বিজেপিতে। চাকরি থেকে স্বেচ্ছায় অবসর নিয়ে রাজনীতিতে নামেন তিনি। আর ভারতী ঘোষের সঙ্গে তৎকালীন তৃণমূল বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সম্পর্ক একেবারেই ভালো ছিল না বলে সকলেই জানেন। ঘনিষ্ঠ মহলে শুভেন্দু বহুবার এ বিষয়ে তাঁর ব্যক্তিগত মতামত জানিয়েছেন। পরে ভারতী বিজেপিতে যাওয়ার পর তিক্ততা আরো বাড়ে। তবে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দুজনেই এখন গেরুয়া শিবিরে রয়েছেন। শুভেন্দু বিজেপিতে যোগদান করার পর এই প্রথম ভারতী ঘোষের সঙ্গে একই মঞ্চে থেকে জনসভা করলেন।

রাজনীতিতে যে সবই সম্ভব, সেটা ফের প্রমাণ হল। এদিন শুভেন্দু উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছেন ভারতীর। তিনি বলেন, ভারতীদেবী অত্যন্ত দক্ষ অফিসার ছিলেন। বিজেপি (BJP) তাঁকে খুব সম্মান দিচ্ছে। খুব ভালো কাজ করছেন তিনি। লোকসভা নির্বাচনে জিতে তাঁর দিল্লি যাওয়া নিশ্চিত ছিল। কিন্তু কেশপুরে প্রবল রিগিং করে তাঁকে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে। সবং বিধানসভা কেন্দ্রের ৩০ শতাংশ বুথে রাজ্য পুলিশ দিয়ে নির্বাচন হয়েছে। সাধারণ মানুষ নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি। উল্লেখ্য গত লোকসভা নির্বাচনে ভারতী ঘোষ ঘাটাল লোকসভা কেন্দ্র থেকে বিজেপির হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। কেশপুর এবং সবং এই লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত।

আরো পড়ুন :নবান্নে শূর্পনখা বসে রয়েছে, তৃণমূলকে বেনজির আক্রমণ ভারতীর

সেই প্রসঙ্গেই শুভেন্দু এদিন ভারতী ঘোষের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছেন। ভারতীদেবীও তাঁকে দক্ষ নেতা বলে পাল্টা প্রশংসা করেছেন। আর সেই মঞ্চ থেকেই শুভেন্দু তৃণমূলকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন,” বহুদিন ধরেই বিজেপি (BJP) কর্মীরা বলছেন তাঁদের ওপর কিভাবে আক্রমণ চালাচ্ছে তৃণমূল। শুনে রাখুন কোন রোগের কি ওষুধ, সেটা আমরা জানি। ভারতীদেবীকে পাশে নিয়ে সবংয়ে জেতাব বিজেপিকে”। উল্লেখ্য এর আগেও শুভেন্দু বলেছেন কিভাবে ভোট করিয়ে নিতে হয়, সেটা তুমি ভালো করেই জানেন। সেই প্রসঙ্গে এদিন তাঁকে বলতে শোনা গিয়েছে, কোন রোগের কি ওষুধ দিতে হবে সেটা তিনি জানেন। অর্থাৎ তৃণমূলকে যে এক ইঞ্চি জমিও তিনি ছাড়তে চান না, সেটা এভাবেই পরিষ্কার করে দিয়েছেন শুভেন্দু।

এদিন সবং বিধানসভার অন্তর্গত তেমাথানিতে জনসভার আয়োজন করে বিজেপি (BJP)। সেখানে প্রধান বক্তা হিসেবে হাজির ছিলেন ভারতী এবং শুভেন্দু। নিজের বক্তব্যে ভারতী সবংয়ের দীর্ঘদিনের বিধায়ক তথা বর্তমান তৃণমূল সাংসদ মানস ভুঁইয়াকে নাম না করে রাবণ বলে আক্রমণ করেন। সেই কথার সূত্র ধরে শুভেন্দুকেও পরে রাবণ শব্দে তাঁদের আক্রমণ করতে দেখা গিয়েছে। অর্থাৎ শুভেন্দু এবং ভারতী বিজেপিকে এগিয়ে নিয়ে যাবার বার্তা দিয়েছেন জনসভার এক মঞ্চে হাজির থেকে। রাজনীতি বহু মানুষের মধ্যে যেমন ভেদাভেদ তৈরি করে, উল্টোদিকে আবার রাজনীতি বিবদমান ব্যক্তিদের একমঞ্চেও নিয়ে আসতে পারে। এদিন পশ্চিম মেদিনীপুর সেই ছবিই দেখল।