ফের বিস্ফোরক দিলীপ, জানুন কি বললেন

।। প্রথম কলকাতা ডেস্ক ।।

আজ শনিবার সকালে নিউটাউনের ইকোপার্কে প্রাতঃভ্রমনে আসেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। এদিন তিনি বিপ্লব মিত্রর তৃণমূলে ব্যাক করা নিয়ে বলেন, উনি এপাশে এসে বুঝতে পেরেছেন বিজেপি করা কত কঠিন। ওনার সিকিউরিটির দরকার ছিল। আমরা প্রোভাইড করতে পারিনি সবাইকে। আমাদের কর্মীরা মার খাচ্ছেন। মারা যাচ্ছেন। সবাইকে সিকিউরিটি দিতে পারছি না। সবার পিছনে সিকিউরিটি দেওয়া সম্ভব নয়।

আমরা লড়াই করছি। বিরোধীরা কি অবস্থান আছে পশ্চিমবাংলায় বিপ্লব বাবু সেটা ভালো ভাবে অনুধাবন করলেন। সরকারি পক্ষে থেকে রাজনীতি করা আর বিরোধী থেকে রাজনীতি করা মানে হাতে জীবন নিয়ে চলা। যারা এসেছেন তারা বুঝতে পারছেন। তাদেরকে কিভাবে অত্যাচার করছে টিএমসি তা আজ বাংলার মানুষ জানেন। আর যারা এসে চলে গেলেন তারাও বুঝে গেলেন এখানে ভারতীয় জনতা পার্টির কর্মীরা কত লাইফ রিস্ক নিয়ে কাজ করছেন।

বীরভূমে লকডাউন নিয়ে প্রশাসন এরকম বলছেন আর অনুব্রত মন্ডল পার্টি অফিসে বসে বলছেন কবে থেকে কবে লকডাউন। এই নিয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, পশ্চিম বাংলায় এরকম ছোট ছোট জমিদার অনেক আছেন। যারা আইন শৃঙ্খলা নিজের হাতে নিয়ে মৌরিসি পাট্টা চালাচ্ছেন। আমরা এরকম ফটোও দেখেছি বীরভূমে জেলা সভাপতির সামনে এসপি ও ডিএম বসে আছেন সাধারণ দর্শনার্থী এবং কৃপা প্রার্থীদের মতো। পশ্চিম বাংলায় আইন কানুনটা কার হাতে আছে, কে চালাচ্ছে, আদৌ আছে কি না সে নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এগুলো তার নমুনা।

এই রাজ্যে পার্টি সর্বপরি। সরকার বলে কিছু নাই। সরকারি কর্মচারীদের চাকরের মতো ব্যবহার করা হচ্ছে। আইএস, আইপিএসদের কোনো সম্মান নাই। তারা আবার গণতন্ত্রের কথা বলছেন! তারা বিরোধীদের বলছেন কথা বলতে দিয়েছি কপাল অনেক ভালো! তারা বলছেন সবকিছু নাকি স্বাভাবিকই আছে। সেজন্যে পশ্চিম বাংলার ক্ষেত্রে খুবই অপমানের বিষয়।

পশ্চিম বাংলার যে গরিমা পরম্পরা আছে ব্যক্তি স্বাধীনতা নিয়ে যে এতো আন্দোলন লড়াই সেটা তো মাটিতে পড়ে গিয়েছে। মিডিয়ার সম্পাদকদের থানায় ডেকে নিয়ে গিয়ে চোরের মতো জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। দুর্গতির শেষ সীমায় এসে গিয়েছি। এটাই পরিবর্তনের সূচনা পর্ব।

কেন্দ্রীয় সরকারের শিক্ষানীতি বদলে ফেলা নিয়ে রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেছেন, এটা আমেরিকা থেকে গোটা এডুকেশন সিস্টেম টুকে এখানে বসানো হয়েছে। এছাড়া শিক্ষা হচ্ছে যৌথ তালিকা ভুক্ত।এটা করার সময় রাজ্যের কোনো প্রতিনিধি ছিল না। যারা এই শিক্ষানীতি তৈরি করেছে। এটা কপি পেস্ট।

এই নিয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, চালানোর সময় যৌথ। কিন্তু একটা দেশের শিক্ষা নীতি কি হওয়া উচিত তা রাষ্ট্র সরকারের অধিকার আছে। এটা স্বাধীনতার পর থেকে আলোচনা চলছে ভারতীয় শিক্ষানীতি কি হওয়া উচিত। অনেক একসিডেন্ট হয়েছে। অনেক মহান ব্যক্তিরা শিক্ষাব্রতীরা চিন্তা ভাবনা করেছেন মতামত দিয়েছেন। এই সমস্ত নিয়ে বহুদিনের যে চিন্তন তার নির্যাস বর্তমান শিক্ষানীতি কেন্দ্রীয় সরকার করেছেন। যারা চিন্তাশীল ব্যক্তি। যারা ভবিষ্যত প্রজন্মের ভবিষ্যত নিয়ে যারা চিন্তা করেন তারা খুশি হয়েছেন। তারা এধরনের শিক্ষানীতি চেয়েছিলেন। যারা বিরোধিতা করছেন তারা না বুঝে করছেন। তারা পুরোটা পড়ে দেখেননি। তাঁদের পুরোটা পড়ে দেখা উচিত। যদি কোথাও বুঝতে অসুবিধা হয়। বুঝিয়ে দেওয়ার লোকও আছে। সেজন্য এটা নিয়ে একটা ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত যেটা কেন্দ্রীয় সরকার নিয়েছে। যে একটা যোগ্য শিক্ষানীতি ঘোষণা করেছে।

করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় দিল্লিতে কেজরিওয়াল সরকার কেন্দ্রের সাথে সমান্তরাল ভাবে যোগাযোগ রেখেছেন। দিল্লির পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। সংক্রমনের সংখ্যা কমছে। পশ্চিম বাংলায় ক্ষেত্রে সেই পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে না। এই নিয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, পশ্চিম বাংলায় মানুষের প্রানের চাইতে রাজনীতির দাম বেশি। দিল্লিতে এজন্য কন্ট্রোল হয়েছে।কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী নিজের হাতে সমস্ত কিছু দায়িত্ব নিয়ে পরিস্থিতি কন্ট্রোল করেছেন। রাজ্য সরকারও সহযোগিতা করেছেন মানুষের জীবনের প্রয়োজনে। কিন্তু এখানকার রাজ্য সরকারের কাছে জীবনের মূল্য নয়। রাজনীতির মূল্য বেশি। তাই নিরন্তর বেড়ে চলেছে সংক্রমন। বাকি জায়গায় কমছে। এখানে বাড়ছে। আর সরকারের তরফ থেকে কোনো সদর্থক পদক্ষেপ আমরা দেখছি না।

এম/বি