Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

প্রতিদিন নির্বাচনমুখী সাংবাদিক সম্মেলন, তৃণমূলের নয়া স্টাইল

1 min read

।। প্রথম কলকাতা ।।

রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন কার্যত দরজায় কড়া নাড়ছে। ইতিমধ্যেই ভোটের দামামা বেজে গিয়েছে। তৃণমূল নেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাঁকুড়া থেকে তাঁর নির্বাচনী প্রচার শুরু করে দিলেন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।‌ কিন্তু নির্বাচনের আগে যে বিষয়টি সকলের নজর কেড়েছে তা হল প্রতিদিন নিয়ম করে দলের শীর্ষ নেতামন্ত্রীদের দিয়ে তৃণমূল সাংবাদিক সম্মেলন করানো। এর মাধ্যমে কি বার্তা দিতে চাইছে জোড়া ফুল শিবির? আসলে বিজেপি যেভাবে ২০০ আসনে জেতার টার্গেট নিয়ে ময়দানে ঝাঁপিয়েছে, তারই কাউন্টার হিসেবে তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিদিন সাংবাদিক সম্মেলন করতে বাধ্য হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার তৃণমূলের পক্ষে দুই মন্ত্রী এবং একজন সাংসদ সাংবাদিক সম্মেলন করলেন। সর্বোপরি এদিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নবান্নে সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন। সব মিলিয়ে এদিন সাংবাদিক সম্মেলন থেকে তৃণমূল নেতৃত্ব নিশানা করেছেন বিজেপিকে। এদিন মাঝেরহাট ব্রিজ দ্রুত খোলার দাবি জানিয়ে যে মিছিল করেছে বিজেপি, সেই প্রসঙ্গে মুখ খুলেছেন পূর্তমন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। আবার বনমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর দপ্তরের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের ফিরিস্তি তুলে ধরেছেন সাংবাদিকদের সামনে। একইদিনে তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল ভবন থেকে সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে নজিরবিহীন আক্রমণ করেছেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়কে। আবার এদিনই নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন সামনের ২৩ জানুয়ারি থেকে তাঁরা বছরভর নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ১২৫ তম জন্ম জয়ন্তী পালন করবেন নয়া কমিটির মাধ্যমে। এর পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন রাজ্যের সমস্ত মানুষ এবার থেকে চলে এলেন বিনামূল্যে স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্পের আওতায়।

যত দিন যাচ্ছে বিজেপি ততই বিভিন্ন ইস্যুতে তীব্র আক্রমণ করছে তৃণমূলকে। সেক্ষেত্রে তৃণমূল মনে করছে পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতা-নেত্রীদের সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে বিজেপির আক্রমণের জবাব দিতে পারলে রাজ্যের কাছে সুনির্দিষ্ট একটা বার্তা পৌঁছে দেওয়া যাবে। সেই লক্ষ্যেই তৃণমূল ভবনে এদিনের ১১তম সাংবাদিক সম্মেলন করতে দেখা গেল বনমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তৃণমূলের নেতা-মন্ত্রীদের কথায় এটা পরিষ্কার যে, সামনের নির্বাচনে তাঁরা উন্নয়নকে ইস্যু করেই লড়াইয়ের ময়দানে নামবেন। সেভাবেই গত পাঁচ বছর ধরে তৃণমূল সরকার কি কি উন্নয়নমূলক কাজ করেছে সেই ফিরিস্তি তাঁরা তুলে ধরছেন মানুষের কাছে। গত বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূলের এমন ভাবনা কিন্তু চোখে পড়েনি।

তবে কি এবার বিজেপির অস্বাভাবিক চাপে পড়ে তৃণমূল জবাবদিহি করতে বাধ্য হচ্ছে? এমনটাই কিন্তু মনে করছে রাজনৈতিক মহল। কারণ গত লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি রাজ্য থেকে ১৮ আসনে জয়লাভ করেছে। রাজ্যের ২৯৪ বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে লোকসভার ফলের নিরিখে তারা ১২২ আসনে এগিয়ে। অর্থাৎ বিজেপি যে কার্যত তৃণমূলের ঘাড়ের ওপরে নিঃশ্বাস ফেলছে তা এই পরিসংখ্যানেই যথেষ্ট। সেখান থেকেই তৃণমূলের উপলব্ধি এবার বিজেপির মোকাবিলা করতে হবে সামনা সামনি দাঁড়িয়ে। তাই গত পাঁচ বছরে রাজ্যের মানুষের পাশে তৃণমূল সরকার কতটা দাঁড়িয়েছে তা বিশদে তুলে ধরছেন দলের নেতা মন্ত্রীরা। নির্বাচনের দিন ঘোষণা হওয়ার আগে পর্যন্ত এভাবেই যে তৃণমূল তাদের স্বপক্ষে বক্তব্য রেখে চলবে তা পরিষ্কার।