Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

‘একুশের নবান্ন’ ‘দিদির বিদায় আসন্ন’, ভাইরাল অনুপম হাজরার পোস্ট

1 min read

।। শর্মিলা মিত্র ।।

১৯৬৩ সালের উত্তমকুমার তনুজা অভিনীত ছবি ‘দেওয়া নেওয়া’। যার গান, যার গল্প আজও হৃদয় নাড়া দিয়ে যায়। যে গল্প অবলম্বনে পরবর্তীকালে তৈরি হয় রাজেশ খন্না অভিনীত ছবি ‘অনুরোধ’।এবার সেই ছবির অংশ জায়গা করে নিল সোশ্যাল মিডিয়ায়। জায়গা করে নিল রাজনীতির অন্দরে। সোশ্যাল সাইটে আজ একটি পোস্ট করেন বিজেপির সর্বভারতীয় সম্পাদক অনুপম হাজরা (Anupam Hazra)। পোস্টের প্রথমে লেখা, ‘একুশের নবান্ন’ ‘দিদির বিদায় আসন্ন’। পোস্টটি ক্লিক করলে ভেসে উঠছে সেই ‘দেওয়া নেওয়া’ ছবির সেই পরিচিত দৃশ্য। যেখানে অভিনয় করতে দেখা যাচ্ছে উত্তম কুমার (Uttam Kumar), বিশিষ্ট অভিনেত্রী ছায়া দেবী (Chaya Devi) ও বিশিষ্ট অভিনেতা কমল মিত্র (Kamal Mitra)-কে।

যার এই দৃশ্যটির সঙ্গে পরিচিত তারা সকলেই জানেন যে, এই দৃশ্যে বাবা ছেলের মধ্যে যে কথোপকথন হয় ছেলের গান করাকে কেন্দ্র করে এবং তারাপর বাবার উপর অভিমানে মায়ের কথা না শুনে ছেলের (উত্তম কুমারের) বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়া। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্টটি ক্লিক করলে আপনি শুনতে পাবেন একেবারে অন্য গল্প। চলুন সেই গল্পে, বাবা (কমল মিত্র) জিজ্ঞেস করছে ছেলেকে, ‘কোথায় যাচ্ছ’ ? ছেলে (উত্তম কুমার) বলছে, ‘কাটমানি আনতে’। এরপর বাবা বলছে, ‘উপরে নবান্নে এস’। এরপর ছেলেকে বাবার প্রশ্ন, ‘একটা স্যুটকেসে কত টাকা ধরে?’ তার প্রশ্ন ‘এমন করলে আমাদের দল চলবে কী করে? ‘এই কটা টাকায় কী হবে? ছেলের উত্তর ‘আমি বুঝতে পারিনি ববিদা।’ এর মধ্যেই দেখা যায় মা ছায়া দেবীকে প্রবেশ করতে।

তারপর তার মুখে শোনা যায়, ‘যুবরাজকে এরম করে বলিসনা। আমি ছবি এঁকে টাকা নিয়ে আসব।’ তখন বাবার প্রশ্ন ‘কে কিনবে ছবি? সবতো এখন জেলে।’ তারপর বাবার মন্তব্য, ‘কাটমানি কীভাবে আনতে হয় সেটাই এখনও জানেনা। তখন ছেলে বলছে, ‘জানবো কী করে নারদাতে তো আর আমার নাম জড়ায় নি।’ তখন বাবা বলছে ‘ও ওই টাকাটা কী আমি আমার জন্য নিয়েছিলাম নাকিরে, দিদিতো সবটাই জানে’। তারপরও তার মন্তব্য ‘কেস খাওয়ার বেলায় শুধু আমরা কজন।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি মুখ খুললে কিন্তু অনেকেরই নাম বেরিয়ে আসবে।’ এই প্রসঙ্গে, মার মন্তব্য, ‘ছাড় তো অভিষেক ববির কথা বাদ দে পুরোহিতদের এক হাজার টাকা ভাতা দিতে হচ্ছে বলে ওর মাথাটা একটু গরম আছে।’

Posted by Anupam Hazra on Saturday, January 2, 2021

এরপর বাবার প্রশ্ন, ‘তা কাটমানি তুলতে কোথায় যাচ্ছিলে শুনি?’ ছেলের উত্তর ‘আম্ফানের ত্রাণ থেকে।’ বাবার প্রশ্ন ‘ওই কটা টাকায় কী হবে? ছেলের উত্তর ‘সামনে ইলেকশন তাই।’ ‘তা বলে শুধু আম্ফান’ বাবার এই প্রশ্নের উত্তরে ছেলে বলে ‘না না সরকারি সব প্রকল্প থেকে।’ ছেলের কথা শেষ হওয়ার আগেই বাবার মন্তব্য, ‘ঠিকভাবে টাকা না সরাতে পারলে সবাই তোমায় চোর বলবে যুবরাজ।’ ছেলের প্রশ্ন ‘চোর আমি?’ বাবার মন্তব্য, ‘হ্যাঁ হ্যাঁ ঠিকই বলছি সব জায়গা থেকে টাকা চুরি করাটা এখন তোমার অভ্যাস দাঁড়িয়ে গেছে।’ ছেলের মন্তব্য, ‘কাটমানি সম্বন্ধে এ ধারনা আপনার ভুল।’ ছেলের আরও মন্তব্য, ‘সারাজীবনটা তোষণের রাজনীতি করে গিয়েছেন কীভাবে কাটমানি তুলতে হয় সে ধারনা আপনার নেই।’ এরপর বাবা ছেলেকে বলছে ‘সত্যি তাহলে এবারের ইলেকশনে করার যে খরচ লাগবে কাটমানি তুলে জোগাড় করলে ভালো হয় নাকি।’


ছেলের প্রশ্ন, ‘তাহলে আপনি বলতে চান এবারের ইলেকশনে কাটমানির তোলার সব দায়িত্ব আমার?’ বাবার উত্তর ‘বলতে চাই নয় বলছি’। ছায়াদেবী বা মায়ের মুখে শোনা যাচ্ছে, ‘কী বলছিস ববি? এরপর মাকে প্রণাম করে ছেলে বেরিয়ে যাওয়ার সময় মায়ের মন্তব্য, ‘মাথা গরম করিসনা আমরা সবাই মিলে কাটমানি খাবো’। উত্তম কুমারের মুখে শোনা যায়, ‘না পিসি আমি একাই দেখিয়ে দেব কীভাবে কাটমানি দিয়ে ইলেকশন করতে হয়।’ এরপর শেষে মায়ের মুখ থেকে শোনা যায়, ‘একা যাসনা। সৌগতকে নিয়ে যা। কেষ্টকে একবার জানা, অরূপকে ফোন করে নে।’ এইভাবেই শাসকদলের দুর্নীতির বিষয়কে কেন্দ্র করে যেভাবে সরব হয়েছে গেরুয়া শিবির। বারবার আম্ফান থেকে শুরু করে বিভিন্ন দুর্নীতি ইস্যুতে শাসক দলকে যেভাবে কটাক্ষ করছেন বিজেপির নেতা নেত্রীরা, তারই প্রতিচ্ছবি উঠে এল অনুপম হাজরার পোস্ট করা এই ভিডিওতে।