Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

ফোন করবেন না, ওরা আড়ি পাতছে, হোয়াটসঅ্যাপ করুন, বলছেন শোভন

1 min read

।। প্রথম কলকাতা ।।

পশ্চিম মেদিনীপুরের সবংয়ের সভা থেকে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী (Subhendu Adhikari) দাবি করেছিলেন, তাঁর মোবাইল ফোনে নজরদারি চালাচ্ছে রাজ্য সরকার। সেদিন তিনি দলীয় কর্মীদের উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ পাঠাবেন। যেখানে বলবেন চলে যাব। সেই একই কথা বৃহস্পতিবার শোনা গেল শোভন চট্টোপাধ্যায়ের মুখে। এদিন হেস্টিংসের দলীয় কার্যালয়ে সাংবাদিক বৈঠক করেন তিনি। সেখানে তিনি বলেন,” আমাদের সংগঠনের নেতাকর্মীদের বলছি, আমাকে ফোন করবেন না। আমার ফোনে সব সীমা ছাড়িয়ে নজরদারি চালানো হচ্ছে। প্রতিনিয়ত ফোনে আড়ি পাতা হচ্ছে। তাই হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ পাঠাবেন। সেভাবেই আমরা কথাবার্তা বলব।

সেই অনুযায়ী কর্মসূচি ঠিক করব। দলের সমস্ত শাখা সংগঠন এর সঙ্গে সমন্বয় বজায় রেখে আমাদের কাজ চলবে। মতামত নেওয়া হবে। আমি প্রতি বুধ এবং শুক্রবার কার্যালয়ে আসব। এই জোনের অন্যান্য দায়িত্বপ্রাপ্তরা তাঁদের মতো করে আসবেন। সবার সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ থাকবে। নিজেদের মধ্যে মত বিনিময় করে আমরা পর্যালোচনা বৈঠক করব। দল আমাকে অত্যন্ত গুরুদায়িত্ব দিয়েছে। সেটা সঠিকভাবে পালন করা প্রয়োজন। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজটা করব। কিন্তু আবারও বলছি, ফোন করবেন না। হোয়াটসঅ্যাপ করুন।”এ কথা বলার পাশাপাশি শোভন সাংবাদিক সম্মেলনে দুটি ফোন নম্বর দেন কর্মীদের উদ্দেশ্যে। সেই নম্বরে হোয়াটসঅ্যাপ করতে বলেছেন তিনি।

আরো পড়ুন : তৃণমূল একটা পকেটমারকে মুখপাত্র বানিয়েছে, কুণালে ব্যাপক অসন্তুষ্ট শোভন

যে অভিযোগ তিনি বিধানসভা নির্বাচনের আগে করলেন রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে, সেটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। যদিও বিষয়টি নিয়ে এখনো পর্যন্ত রাজ্য সরকারের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। রাজ্য তথা ভারতীয় রাজনীতিতে ফোনে আড়িপাতার অভিযোগ নতুন কোনো ঘটনা নয়। এই অভিযোগ বহুবার সামনে এসেছে। নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময় শুভেন্দু অধিকারী (Subhendu Adhikari)অভিযোগ করেছিলেন তাঁর ফোনে আড়ি পাতছে রাজ্য সরকারের গোয়েন্দা বিভাগ। তখন রাজ্যে ছিল বামফ্রন্ট সরকার। পালাবদলের পর ১০ বছর ধরে রাজ্য শাসন করছে তৃণমূল। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধেও সেই একই অভিযোগ উঠেছে বিষয়টি নিয়ে। এদিকে শোভন চট্টোপাধ্যায় এদিন বিজেপি কর্মীদের বিশেষ বার্তা দিয়েছেন গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নিয়ে।

তিনি বলেন, ” সব গোষ্ঠীর নেতাকর্মীদের সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করতে হবে। মনে রাখবেন তৃণমূলের পায়ের তলায় মাটি সরে গিয়েছে। সবার সঙ্গে আলোচনা করে কর্মসূচি ঠিক করতে হবে। কলকাতা সাংগঠনিক জোনের মধ্যে রয়েছে ১৯৯টি মন্ডল এবং ১৩৮৭৯টি বুথ। অনেক সময় দেখা যায় মিডিয়াতে ভুল খবর ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নিয়ে। আসলে বাণের জলের মতো নেতা-কর্মীরা আসলেও সজাগ থাকতে হবে। বাণের জল আসুক, কিন্তু আমাদের উঁচু ডাঙায় থেকে উঠে তৃণমূলের সঙ্গে সমানে টক্কর দিতে হবে। মনে রাখবেন উঁচু ডাঙা জয়ের প্রতীক। কলকাতা সাংগঠনিক জোনের মধ্যে যে ৫১টি আসন রয়েছে তার সিংহভাগে বিজেপি (bjp) জিতবে।” এভাবেই বিজেপিতে সক্রিয় হওয়ার পর প্রথম সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে সবাইকে এমন বার্তাই দিয়েছেন শোভন।