রাজ্যপালের বক্তব্য সমর্থন করলেন দিলীপ ঘোষ

1 min read

।। প্রথম কলকাতা ।।

রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড় বৃহস্পতিবার দিল্লিতে গিয়ে বৈঠক করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে। পশ্চিমবঙ্গের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তাঁরা বৈঠক করেছেন। আর বৈঠকের পর বাইরে এসে সাংবাদিকদের সামনে রাজ্যপাল তীব্র আক্রমণ করেছেন তৃণমূল সরকারকে। রাজ্যপালের অভিযোগ বাংলায় নৈরাজ্য চলছে। পুলিশ প্রশাসন ও আমলাদের একাংশ দলদাস হয়ে গিয়েছে। এভাবেই তিনি আক্রমণ করেন তৃণমূলকে। আর রাজ্যপালের এই বক্তব্যকে সমর্থন করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। এদিন এক সাংবাদিক সম্মেলনে দিলীপবাবু বলেন, ‘রাজ্যপাল ঠিক কথাই বলেছেন। তাই তাঁর বক্তব্যকে সমর্থন করছি। রাজ্যপালের বক্তব্যে কোনও অন্যায় নেই। রাষ্ট্রপতি শাসন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় কাম্য নয়। কিন্তু কিছু পরিস্থিতির ওপর তা নির্ভর করে। প্রশাসনের কর্মীদের একাংশ রাজনীতি করছে। বিরোধীদের ধ্বংস করছে তৃণমূল’।

আরও পড়ুন: রাজ্যপাল বিজেপির মুখপাত্রের মত আচরণ করছেন: পার্থ

এর পাশাপাশি এদিন সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে দিলীপবাবু বিজেপির সাংগঠনিক বিষয়ে মুখ খোলেন। সদ্য রাজ্য বিজেপির সাংগঠনিক সম্পাদক সুব্রত চট্টোপাধ্যায়কে পদ থেকে সরানো হয়েছে। সেই জায়গায় এসেছেন অমিতাভ চক্রবর্তী। সুব্রতবাবু দীর্ঘদিন ধরেই দিলীপবাবুর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। তাই তাঁর অপসারণে মনে করা হচ্ছে রাজ্য বিজেপিতে দিলীপবাবুর কিছুটা হলেও ডানা ছাঁটা হল। যদিও সেই বিষয়টি উড়িয়ে দিয়েছেন দিলীপবাবু। তাঁর কথায় এটা নিছকই একটা পরিবর্তন। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব চেয়েছেন বলেই এটা হয়েছে। কারণ সংঘের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব সব রাজ্যের সংগঠনে অদল বদল করেন। তার মানে এই নয় এতে তাঁর ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। উল্লেখ্য বিজেপি রাজনীতিতে সুব্রতবাবু বরাবরই দিলীপবাবুর কাছের লোক বলে পরিচিত। গত লোকসভা নির্বাচনে তাঁরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছেন। দল তাতে আশাতীত সাফল্য পেয়েছে। যদিও পরবর্তীকালে বিজেপিতে মুকুল রায়ের গুরুত্ব বেড়েছে। সদ্য মুকুলবাবুকে বিজেপির সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি করা হয়েছে। মুকুল রায়ের সঙ্গে বরাবরই দিলীপ ঘোষের ঠান্ডা লড়াই রয়েছে। মুকুল অনুগামীরা দিল্লিতে গিয়ে বারবার দিলীপবাবু ও তাঁর অনুগামীদের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। কাকতালীয় হলেও এরপরেই সরিয়ে দেওয়া হল সুব্রত চট্টোপাধ্যায়কে। এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবে খুশি মুকুল শিবির। যদিও বিষয়টি নিয়ে কেউই প্রকাশ্যে মুখ খোলেননি। দিলীপ বলছেন এটা একেবারেই সাংগঠনিক বিষয়। এর মধ্যে কোনো অন্তর্দ্বন্দ্ব বা দলীয় রাজনীতির মারপ্যাঁচ নেই।

Categories