জটিল রহস্য ভেদ ,স্বীকৃতি মিলল লালবাজার সাইবার থানার ২ অফিসারের

।। প্রথম কলকাতা ।।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘মেডেল ফর এক্সেলেন্স ইন ইনভেস্টিগেশন’ পুরস্কার পেয়েছেন লালবাজার সাইবার থানায় কর্মরত ইন্সপেক্টর ড্যানিস অনুপ লাকরা ও মহিলা ইন্সপেক্টর শুক্লা সিংহরায়। কলকাতার বিখ্যাত দুটি সাইবার অপরাধ,যার কোন ক্লু ছিল না। কিন্তু ধৈর্য ধরে অপরাধীদের কাছে পৌঁছন এই দুই অফিসার। একজন ধরেছিলেন এমন একটি গ্যাং, যেটি কলকাতায় বসে কয়েক হাজার ইংল্যান্ডবাসীর পাউন্ড তছরুপ করেছিলেন।

অন্যজন, কিশোরী ও তরুণীদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করার নাম করে তাঁদের অশ্লীল ছবি তুলে লাখ লাখ টাকা ব্ল্যাকমেল করা অভিজাত পরিবারের যুবকদের। দুটি মামলাই ছিল খুবই জটিল।একটি আন্তর্জাতিক কম্পিউটার সংস্থার কর্তা দিল্লি থেকে লালবাজারে অভিযোগ জানান, নিজেদের ওই সংস্থার আধিকারিক বলে পরিচয় দিয়ে আমেরিকা ও ইংল্যান্ডের বাসিন্দাদের ফোন করে রফি আহমেদ কিদোয়াই রোড ও কেশব চন্দ্র সেন স্ট্রিটের দুটি ভুয়া কল সেন্টারের কর্মীরা।

কলকাতায় বসে ওই বিদেশিদের ফোন করে বলা হত, তাঁদের কম্পিউটার খারাপ হয়ে গিয়েছে। এখনই তাঁদের কম্পিউটার ঠিক করা হবে। তার জন্য চাওয়া হত ডলার বা পাউন্ড। বিদেশিরা বাধ্য হয়ে কয়েকটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সেগুলি পাঠাতেন। এভাবে বিদেশিদের প্রতারণা করে কয়েক কোটি টাকা রোজগার করেছিল তাঁরা। সাইবার থানার অফিসার ড্যানিস অনুপ লাকরা তদন্ত করে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করেন।

এদিকে গত বছরের নভেম্বরে এক তরুণী অভিযোগ জানান, কিছু অশ্লীল ছবি তাঁকে ও তাঁর মাকে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়ে দশ লাখ টাকা ব্ল্যাকমেল করা হয়। কিন্তু মোবাইল টাওয়ার ঘেঁটে দেখা যায় নম্বরটি কখনও ঝাড়খন্ড, কখনও বিহার আবার কখনও মধ্যপ্রদেশের। শেষ পর্যন্ত সিমটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। এই বছরের জানুয়ারিতে সেটি ফের চালু হয়। মোবাইলের কললিস্ট ঘেঁটে নিউটাউন থেকে মূল অভিযুক্তর এক বন্ধুকে গ্রেপ্তার করে তার কাছ থেকে উদ্ধার হয় একটি হার্ড ডিস্ক, যেখানে ঠাসা ছিল অশ্লীল ছবিগুলি। তারপর সল্টলেক থেকে সেই দুই যুবককে ধরা হয়।এই মামলার তদন্তকারী আধিকারিক ছিলেন শুক্লা সিংহরায়।