Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

দুদিনের সফরে রাজ্যে ডেপুটি ইলেকশন কমিশনার, নজরে আইনশৃঙ্খলা

1 min read

।। শর্মিলা মিত্র ।।

বিধানসভা নির্বাচনের কিছু দিন দেরি থাকলেও শাসক-বিরোধী শিবিরের চাপানোতরে সরগরম রাজ্য রাজনীতি। আর তার মধ্যে আগামী শুক্রবার প্রকাশিত হতে চলেছে রাজ্যের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা। এবার এক মাসের মধ্যে দ্বিতীয়বার ফের দুদিনের রাজ্য সফরে এলেন ডেপুটি ইলেকশন কমিশনার সুদীপ জৈন (Sudip Jain)। মঙ্গলবার রাতেই কলকাতা এসে পৌঁছান তিনি। জানা গিয়েছে, বুধবার প্রথম দফায় দক্ষিণ বঙ্গের জেলা শাসক, পুলিশ সুপার, কমিশনারদের সঙ্গে সশরীরে বৈঠক করবেন সুদীপ জৈন।
পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের সব জেলাশাসক, পুলিশ সুপাররা থাকবেন ভার্চ্যুয়ালি। দ্বিতীয় দফায় শুধুমাত্র জেলাশাসকদের সঙ্গেই বৈঠক করার কথা রয়েছে সুদীপ জৈনের।

এবারের রাজ্য সফরে কলকাতা থেকেই যাবতীয় বৈঠক প্রস্তুতি করবেন ডেপুটি ইলেকশন কমিশনার সুদীপ জৈন বলে নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর। ডেপুটি ইলেকশন কমিশনারের এবারের সফরে ভোটই আলোচনার প্রধান বিষয়বস্তু। আলোচনায় প্রাধান্য পেতে পারে কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রসঙ্গও, এমনটাই মনে করা হচ্ছে। অর্থাৎ, রাজ্যের ভোট করাতে গেলে কত সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী লাগবে কোন জেলায় কতটা কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রয়োজন হবে। এই সংক্রান্ত বিষয় নিয়েই জেলাশাসক, পুলিশ সুপারদের সঙ্গে আলোচনা হতে পারে বলে সূত্রের খবর। জানা যাচ্ছে, বুধবার সারাদিন জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারদের সঙ্গে বৈঠক করার পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকদের সঙ্গেও বৈঠক করতে পারেন ডেপুটি ইলেকশন কমিশনার সুদীপ জৈন (Sudip Jain)।

বুধবার সারাদিন বিভিন্ন জেলার জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারদের সঙ্গে বৈঠক করার পর বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে ডেপুটি ইলেকশন কমিশনারের। বৈঠকে আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কোন আধিকারিকই মুখ খুলতে না চাইলেও তাদের একাংশের মতে, ডেপুটি ইলেকশন কমিশনার সুদীপ জৈনের (Sudip Jain) এবারের দুদিনের সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তাদের মতে, এবারের আলোচনাতেই কার্যত রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের খানিকটা হলেও ব্লু প্রিন্ট তৈরি হয়ে যেতে পারে। বিশেষত, কোন জেলায় কত বুথে অতি স্পর্শকাতর পাশাপাশি কোন জেলায় কত কেন্দ্রীয় বাহিনী লাগতে পারে এবং সার্বিকভাবে কেন্দ্রীয় বাহিনী কত সংখ্যক লাগবে, এই সবকিছু এই দুদিনের বৈঠকে স্পষ্ট হয়ে যেতে পারে বলে সূত্রের খবর।

আরো পড়ুন :কোলে চড়ে রাজনীতি করা যায়না :দিলীপ ঘোষ

প্রসঙ্গত, ডিসেম্বর মাসেই রাজ্যে এসেছিলেন ডেপুটি ইলেকশন কমিশনার সুদীপ জৈন (Sudip Jain)। তখনই রাজ্যে এসেই রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন তিনি নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছিল। পাশাপাশি, জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারদের একাধিক পরামর্শও দিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। এছাড়া, কোন অসুবিধা হলে সরাসরি নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করার কথাও বলেছিলেন জেলাশাসক,পুলিশ সুপারদের ডেপুটি ইলেকশন কমিশনার সুদীপ জৈন (Sudip Jain) বলেও জানা যায়। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এবারের বিধানসভা নির্বাচনের বেশ কিছুটা সময় আগে থেকেই রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়োগ করতে পারে কমিশন। সে কারণেই জেলাগুলির কাছ থেকে এই সফরে আইনশৃঙ্খলার রিপোর্ট চাইতে পারেন সুদীপ জৈন বলেও মনে করা হচ্ছে।

ডেপুটি নির্বাচন কমিশনারের গতবারের রাজ্য সফরেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সরব হয়েছিল বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। এরপর, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নড্ডার কনভয়ে উপর হামলার ঘটনার পর দিল্লিতে কমিশনের অফিসে দরবারও করে রাজ্য বিজেপি। ফলে এবারের নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যে অন্যতম ইস্যু হতে চলেছে তা বলাই বাহুল্য। অন্যদিকে ইতিমধ্যে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার বিষয় বারবার সরব হতে দেখা গিয়েছে রাজ্যপাল জগদীপ ধনকরকেও। সূত্রের খবর, এবারের রাজ্য সফর শেষে দিল্লিতে ফিরে একটি রিপোর্ট জমা দেবেন ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার সুদীপ জৈন (Sudip Jain)। সেই রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর তা খতিয়ে দেখে রাজ্যে আসতে পারে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ, এমনটাই মত রাজনৈতিক মহলের একাংশের।