Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

রাজ্যপালের বিরুদ্ধে মামলা করার দাবি…..

।। প্রথম কলকাতা ।।

রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়ের সঙ্গে তৃণমূলের বাগযুদ্ধ থেমে থাকছে না। একের পর এক ইস্যুতে দুই তরফের তরজা অব্যাহত। এবার একধাপ এগিয়ে তৃণমূল সাংসদ তথা বিশিষ্ট আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যপালের বিরুদ্ধে মামলা করার দাবি তুললেন। বৃহস্পতিবার তৃণমূল ভবনে এক সাংবাদিক সম্মেলনে রাজ্যপালের বিরুদ্ধে কল্যাণ একরাশ অভিযোগ এনেছেন। এরপরই কল্যাণ কলকাতা পুলিশের কাছে আবেদন করেন, তারা যেন অবিলম্বে আইনের ১৮৯ নম্বর ধারা অনুযায়ী রাজ্যপালের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে।

কি প্রসঙ্গে এমন কথা বলছেন কল্যাণ? আসলে তৃণমূল সাংসদ রাজ্যপালের বিরুদ্ধে অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগ সামনে এনেছেন। কিছুদিন আগেই কলকাতা পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে গোবিন্দ আগরওয়াল নামে এক চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টকে। তাঁর কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ বেআইনি টাকা উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। সেই মামলায় নীরজ সিং নামে এক আইআরএস অফিসারও পুলিশের আতস কাচের তলায় রয়েছেন। অভিযোগ তাঁদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে কেন্দ্রের বিজেপি নেতৃত্বের। এমনকি কল্যাণ এমন দাবিও করেছেন যে, তাঁদের সঙ্গে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে।

সেই কারণেই রাজ্যপাল বিষয়টির মধ্যে ঢুকে টুইট করছেন কলকাতা পুলিশের বিরুদ্ধে। রাজ্যপালের টুইট উল্লেখ করে কল্যাণ বলেন,” রাজ্যপাল একটা সাংবিধানিক পদ। রাজ্যপালের অবিলম্বে উচিত এই বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট কি নির্দেশ দিয়েছে তা ভালো করে পড়ে দেখা। রাজ্যপাল কোনো দিন রাজ্য বা কেন্দ্রীয় সরকারের কাজের ওপর নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না। তিনি শুধু সরকারি হুকুম তামিল করবেন। সেখানে রাজ্যপাল কিসের ভিত্তিতে এমন টুইট করছেন? তিনি টুইট করে সরাসরি কলকাতা পুলিশের কাজে বাধা দিতে চাইছেন।

তারা যাতে তদন্ত প্রক্রিয়া না চালাতে পারে সেই লক্ষ্যে তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন জগদীপ ধনকড়। এটা একটা ক্রিমিনাল অফেন্স। তাই রাজ্যপালের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কলকাতা পুলিশের মামলা করা উচিত ১৮৯ নম্বর ধারায়। এক্ষেত্রে আইন বলছে কোনো অনুমতির দরকার নেই মামলা করার ক্ষেত্রে। কারণ সরকারের কোনো কাজে বাধা সৃষ্টি করা মানেই সেটা বড় অপরাধ”। কল্যাণ এদিন রাজ্যপালের বিরুদ্ধে আরো অনেক অভিযোগ করেছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন,” গোবিন্দ আগরওয়ালের বিষয়টি নোট বন্দির সময়কার। সেই সময় কেন্দ্রীয় সংস্থা ইডি বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চালাচ্ছিল।

পরবর্তীকালে সেই সূত্রেই কলকাতা পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে। শুধুমাত্র সেই কারণেই রাজ্যপাল তদন্তে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। এমনকি যোগেশ গুপ্তা নামে ইডির এক উচ্চপদস্থ আধিকারিককে রাজ্যপাল বদলি পর্যন্ত করে দিয়েছেন প্রভাব খাটিয়ে। কারণ যোগেশ বাবু বিষয়টি নিয়ে তদন্তের দায়িত্বে ছিলেন। তাই অবিলম্বে রাজ্যপালের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা উচিত তাঁর এহেন কার্যকলাপের জন্য”।
এখানেই থেমে থাকেননি কল্যাণ। তিনি বলেছেন রাজ্যপাল নিয়মিত মুখ্যমন্ত্রী তথা রাজ্যের অন্যান্য মন্ত্রীদের নিশানা করে চলেছেন উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে।

আরো পড়ুন :অধীর বিজেপির এজেন্ট, কল্যাণ অ্যালসেসিয়ান….

এমনকি রাজ্যপালের সঙ্গে বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীদের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন কল্যাণ। সেইসঙ্গে কল্যাণ জানিয়েছেন সার্বিকভাবে কলকাতা পুলিশ অত্যন্ত ভালো কাজ করছে। কিন্তু রাজ্যপাল রাজনৈতিক ভাবে মদত দিচ্ছেন বিজেপিকে। তাই কলকাতা পুলিশ যাতে এই আর্থিক তছরুপ নিয়ে তদন্ত করতে না পারে সেই কারণে রাজ্যপাল এমন আচরণ করছেন। এর পাশাপাশি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া সুদীপ্ত রায় চৌধুরীর প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন কল্যাণ।

কল্যান মনে করেন, যারা গ্রেপ্তার হয়েছেন তাঁদের সবার সঙ্গেই আয়কর দপ্তর তথা কেন্দ্রীয় সংস্থার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। আয়কর দপ্তর এর বেশ কয়েকজন আধিকারিক এই ধরনের আর্থিক তছরুপের সঙ্গে যুক্ত বলে কল্যাণ দাবি করেছেন। আর সেখানে পেছন থেকে প্রভাব খাটিয়ে প্রশ্রয় দিচ্ছেন এবং কলকাতা পুলিশের তদন্ত প্রক্রিয়া আটকে দিতে চাইছেন জগদীপ ধনকড়, এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন তৃণমূলের আইনজীবী সাংসদ।

রাজ্যপালের বিরুদ্ধে যেভাবে কার্যত আর্থিক দুর্নীতিতে মদত দেওয়ার পাশাপাশি কলকাতা পুলিশের তদন্ত প্রক্রিয়ায় বাধা দেওয়ার অভিযোগ এনেছেন কল্যাণ, তা বিধানসভা নির্বাচনের আগে নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। স্বাভাবিকভাবেই বিষয়টি নিয়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজনৈতিক মহলে। আগামীদিনে রাজ্যপাল তথা বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে আরো গুরুতর অভিযোগ সামনে এনে পর্দা ফাঁসের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কল্যাণ।